প্রথমে কোয়া আলাদা করা, তার পরে একটি একটি করে খোসা ছাড়ানো। তার পরে কুচোনো বা বাটা। রান্নায় রসুন দিতে হলে তার ঝক্কি কম নয়। বিশেষ করে রান্না যদি হয় আমিষ, তবে রসুনের পরিমাণ কিছুটা বেশিই লাগে। আর রান্না যদি করতে হয় গোটা পরিবার অথবা অতিথিদের জন্য, তবে রসুন ছাড়ানোর জন্যই বরাদ্দ করতে হয় ঘণ্টাখানেক। তবে সেই যন্ত্রণা দূর হতে পারে কয়েকটি পদ্ধতি জানা থাকলে। রসুনের খোসা ছাড়ানোর জন্য নষ্ট হওয়া অনেকটা সময় বাঁচবে তা হলে।
কুসুম গরম জল
কম পরিশ্রমে বেশি রসুন ছাড়াতে কাজে লাগতে পারে এই পদ্ধতি। বিশেষ করে যখন বাড়িতে অতিথি সমাগম হয়, আর তাঁদের জন্য রান্নায় অনেক বেশি পরিমাণে রসুনের ব্যবহার করতে হয়।
কী করতে হবে: রসুনের কোয়াগুলো আলাদা করে একটি পাত্রে রাখুন। এ বার পাত্রটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কুসুম গরম জল ঢালুন যাতে রসুনগুলো ডুবে থাকে। এ ভাবে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
কেন কাজ হবে: ঈষদুষ্ণ জলে ভিজে থাকার কারণে রসুনের খোসা নরম হয়ে ফুলে উঠবে। এরপর জল থেকে তুলে হাত দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই খোসা অনায়াসে আলগা হয়ে বেরিয়ে আসবে।
মাইক্রোওয়েভ
সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। বাড়িতে যদি মাইক্রোওয়েভ অভেন থাকে, তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাজ হয়ে যাবে।
কী করতে হবে: রসুন বা আলাদা করা রসুনের কোয়াগুলো একটি মাইক্রোওয়েভ-সেফ প্লেটে রাখুন। অভেনে রাখুন মাত্র ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ডের জন্য। এর বেশি সময় রাখবেন না, তা হলে রসুন সেদ্ধ হয়ে যাবে।
কেন কাজ হবে: অতিরিক্ত তাপমাত্রায় রসুনের ভিতরের আর্দ্রতা খোসাকে আলগা করে দেয়। অভেন থেকে বের করে সামান্য ঠান্ডা করে হাত দিয়ে ঘষলেই খোসা ঝরে পড়ে যাবে।
ঝাঁকুনি
সময় একেবারেই না থাকলে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন।
কী করতে হবে: প্রথমে রসুনের কোয়াগুলো আলাদা করে নিন। এ বার একটি বড় ঢাকনাযুক্ত স্টিল বা কাচের পাত্রে অথবা দুটি বাটি একসঙ্গে মুখোমুখি লাগিয়ে রসুনের কোয়াগুলো ভিতরে রাখুন। আর মুখ আটকে জোরে জোরে ১০-১৫ সেকেন্ড ঝাঁকান।
কেন কাজ হবে: পাত্রের দেয়ালে ঘষা লেগে এবং ধাক্কা খেয়ে খোসাগুলো নিজে থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যাবে।