বাঙালির শেষপাতে মিষ্টি না হলে চলে না, আর রসগোল্লা-সন্দেশের জন্য বাংলার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু ভারতের অন্যান্য প্রান্তেও এমন কিছু অসাধারণ মিষ্টি তৈরি হয়, যা মিষ্টি নিয়ে নাকউঁচু বাঙালির স্বাদগ্রন্থিকে তৃপ্ত করতে পারে। প্রকৃত খাদ্যরসিকের রসনাতৃপ্ত করতে পারবে, এমন ৫টি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির নাম জেনে নিন।
১. ছেনাপোড়া
ছানা, চিনি ও সুজি মেখে মাটির পাত্রে শালপাতায় মুড়িয়ে কয়লার উনুনে পুড়িয়ে এটি তৈরি করা হয়। উপরে ক্যারামেলাইজড বাদামি আবরণ আর ভিতরে নরম ও রসালো স্বাদ। স্বাদ এবং আকার-প্রকারের বৈপরীত্যই অনন্য করে তুলেছে ওড়িশার ওই মিষ্টিকে।
২. মাইসুরু পাক
কর্নাটকের মহীশূরের রাজপ্রাসাদের রান্নাঘরে প্রথম তৈরি হয়েছিল ওই মিষ্টি। খাঁটি ঘি, বেসন এবং চিনির এক স্বর্গীয় মেলবন্ধন। ইদানীং প্যাকেটজাত নানা রকমের মাইসুরু পাক পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাঁটি মাইসুরু পাক মুখে দিলেই মিলিয়ে যাবে।
৩. ঘেভর
ময়দা, ঘি ও দুধ দিয়ে জালের মতো নিখুঁত আকারে তৈরি করা হয় রাজস্থানের এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। সাধারণত বর্ষার মরসুমে ও ‘তিজ’ উৎসবে চিনির রসে ডুবিয়ে, উপরে রাবড়ি ও পেস্তা ছড়িয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। মিষ্টিটি খেতে যেমন ভাল, তেমনই আকর্ষণীয় এটি বানানোর এবং পরিবেশন করার প্রক্রিয়াটিও।
৪. আগ্রার পেঠা
তাজমহলের শহর আগ্রার এই মিষ্টিটি তৈরি হয় বিশেষ জাতের চালকুমড়ো ও চিনির রস দিয়ে। বাইরেটা কিছুটা শক্ত হলেও কামড় দিলেই ভিতর থেকে রসে মুখ ভরে যায়। এ রাজ্যের মানুষ কুমড়ো মেঠাই বলে যা চেনে, ব্যাপারটি অনেকটা সেই রকম। তবে আগ্রার পেঠার স্বাদ আরও ভাল। জাফরান, পান, চকোলেটের মতো ফ্লেভারেও তা পাওয়া যায়।
৫. শ্রীখণ্ড
জল ঝরানো ঘন টক দইয়ের সঙ্গে চিনি, এলাচ, জাফরান এবং ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে তৈরি করা হয় ঠান্ডা ক্রিমের মতো মিষ্টি। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে উৎসবের দিনে গরম গরম পুরির সঙ্গে শ্রীখণ্ড খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।