দুধ ফুটিয়ে ঠান্ডা করার পর উপরে যে ঘন সর জমে, সেটি অনেকেই ফেলে দেন বা খেয়ে নেন। বা দিনের পর দিন ফ্রিজে পড়ে থাকে। অথচ সেই দুধের সর দিয়েই বাড়িতে তৈরি করা যায় সুগন্ধি, সোনালি রঙের দেশি ঘি। পদ্ধতিটিও খুব জটিল নয়। দুধের সর থেকে প্রথমে মাখন তৈরি করতে হবে, তার পর সেই মাখন ধীরে ধীরে জ্বাল দিলেই তৈরি হবে ঘি।
রইল ঘি বানানোর পাঁচটি সহজ ধাপ—
১. দুধ জ্বাল দিয়ে সর জমানো: ফ্যাটযুক্ত দুধ ভাল করে জ্বাল দিতে হবে। তার পর তা ঠান্ডা হতে দিন। দুধের উপরে সর জমলে সেটি পরিষ্কার, শুকনো পাত্রে তুলে রাখুন। প্রতিদিন দুধের সর এ ভাবে জমিয়ে রাখতে হবে। দুধের সর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অবশ্যই ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। টক গন্ধ বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সেই দুধের সর ব্যবহার করবেন না।
দুধের সর জমাতে হবে ঘি বানানোর জন্য। ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
২. দুধের সর মাখনে পরিণত করা: ঘি তৈরির আগে দুধের সরকে মাখনে পরিণত করতে হবে। দুধের সর যথেষ্ট জমানো হলে ফ্রিজ থেকে বার করে একটি বড় পাত্রে রাখুন। তার পর ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার জন্য অপেক্ষা করুন। অল্প ঠান্ডা জল মিশিয়ে দিন তাতে। এ বার হ্যান্ড ব্লেন্ডারে ভাল করে ঘুরিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পর দুধের সর থেকে মাখনের দলা আলাদা হয়ে যেতে শুরু করবে এবং তরল অংশটি বাটারমিল্কের মতো হয়ে যাবে।
৩. মাখন আলাদা করা: এই ধাপে মাখনের দলাগুলি তুলে নিন। ঠান্ডা জল দিয়ে কয়েক বার ধুয়ে নিন এবং ভাল করে জল ঝরিয়ে নিন। মাখনের সঙ্গে থাকা দুধের অবশিষ্টাংশ যতটা সম্ভব আলাদা করে নেওয়া দরকার।
ঘি বানানোর পাঁচ ধাপ। ছবি: সংগৃহীত
৪. মাখন ফোটানো: একটি ভারী কড়াইয়ে মাখন দিয়ে কম আঁচে বসান। প্রথমে মাখন গলবে, তার পর বুদ্বুদ ও ফেনা তৈরি হবে। ধীরে ধীরে মাখনের জলীয় অংশ বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যাবে এবং বাকি অংশ কড়াইয়ের তলায় থিতিয়ে যেতে শুরু করবে।
৫. ঘি তৈরি: এই ধাপে প্রবল ধৈর্যের প্রয়োজন। আঁচ বেশি করে দ্রুত ঘি তৈরি করার চেষ্টা করবেন না। কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করলে মাখনের দুধের অংশ পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং ঘিতে সুন্দর ঘ্রাণ ও স্বাদ আসে। শেষে একটি নরম সুতির কাপড় বা ছাঁকনি ব্যবহার করে ঘি ছেঁকে নিন শুকনো একটি পাত্রে।