বাঙালি তার শিঙাড়া নিয়ে গর্ব করতেই পারে। কিন্তু গোটা দেশে শিঙাড়ার জন্য যে শহর বিখ্যাত, তা কলকাতা নয়। দিল্লি।
দিল্লির শিঙাড়া সাধারণত আকারে বেশ বড়। এর ভেতরের আলু ছাড়াও পনির, কাজুবাদাম, কিসমিস, কিমা, খোয়া ক্ষীর ও নানা রকমের মশলার ব্যবহার দেখা যায়। দিল্লির শিঙাড়ার আরও একটি বিশেষত্ব এর সঙ্গে পরিবেশিত চাটনি। মিষ্টি তেঁতুল-আদার চাটনি কিংবা পুদিনা-ধনেপাতার চাটনির এক এক দোকানে এক এক রকম স্বাদ। তাই দিয়ে পরিবেশন করা হয় গরম গরম শিঙাড়া। দিল্লির শিঙাড়া চাখতে হলে কোন কোন শিঙাড়া না খেলেই নয়, জেনে নিন।
পুরনো দিল্লির খোয়া-মেওয়া সমোসা
চাঁদনি চকের ঐতিহ্যবাহী খোয়া সামোসা দিল্লিতে জনপ্রিয়। এটি কোনও সাধারণ নোনতা শিঙাড়া নয়, বরং মিষ্টি পদ। এর ভেতরে মাওয়া বা খোয়া ক্ষীর, মেওয়া বা ড্রাই ফ্রুটস এবং এলাচের পুর ভরা থাকে। কামড় দিলেই রাজকীয় স্বাদে রসনাতৃপ্তি।
ডিফেন্স কলোনির ককটেল সামোসা
দক্ষিণ দিল্লির ডিফেন্স কলোনির মিনি শিঙাড়া বা ককটেল সামোসার ভক্তও কম নয়। আকারে ছোট ছোট ওই শিঙাড়ার ভিতরে আলু-মটরের টক-ঝাল-মিষ্টি পুর থাকে। পার্টি হোক বা বিকেলের আড্ডা, পছন্দের গরম বা ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে হালকা স্ন্যাক্স হিসেবে এটি দুর্দান্ত।
জামা মসজিদের কাছের কিমা সামোসা
জামা মসজিদের এক নম্বর গেটের কাছে একটি ৮৭ বছরের পুরনো দোকানের শিঙাড়া। যা দেখতে আধখানা চাঁদের মতো। এ ছাড়া চাঁদনি চকে খোয়া ক্ষীর আর কিমা দিয়েও তৈরি হয় সুস্বাদু শিঙাড়া।
চাঁদনী চৌকের জাপানি সামোসা
এই শিঙাড়াকে আবার শিঙাড়ার মতো দেখতেই নয়। কিছুটা প্যাটিসের মতো দেখতে। তার মুচমুচে ৬০টি ভাঁজ। ওই শিঙাড়া পরিবেশন করা হয় পিন্ডি ছোলে আর গাজরের আচার বা লাউয়ের আচারের সঙ্গে। উপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় একটি হলুদ রঙের চাটনি।
কাশ্মীরি গেটের পনির সামোসা
পুরানো দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছাকাছি এলাকার একটি পুরনো দোকানে পনির শিঙাড়া খেতে ভিড় জমে বিস্তর। ওই শিঙাড়ার মুচমুচে পাতলা খোলের ভিতর আলুর চেয়ে বেশি থাকে নরম পনিরের টুকরো। মশলায় কষানো সেই আলু-পনিরের পুর ভরা শিঙাড়া পরিবেশন করা হয় ধনেপাতা এবং পুদিনার চাটনি দিয়ে।
করোল বাগের সামোসা চাট
করোল বাগের সামোসা চাট দিল্লির স্ট্রিট ফুডের দুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ। এখানে গরম শিঙাড়াকে হালকা ভেঙে, তার ওপর চানা মশলা (ছোলে), টক-মিষ্টি চাটনি, কুচোনো পেঁয়াজ এবং ঝুরিভাজা ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। সেই মশলাদার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো।