প্রদর্শনীর নাম ‘অ-সাধারণ’। শিল্পী অভিষেক সরকার। বৃহস্পতিবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে অটিজমের শিকার অভিষেকের আঁকা এই ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করে উদ্যোক্তারা তুলে ধরতে চাইলেন এই বার্তা যে অটিজম একটা সমস্যা, কিন্তু কোনও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা নয়। যত্ন, মনোযোগ আর যথাযথ শিক্ষা পেলে অটিস্টিক ছেলেমেয়েরা সব কিছুই করতে পারে।
২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম দিবস উপলক্ষে দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কী ভাবে অটিজম আক্রান্তদের সমাজের মূল স্রোতে রাখা যায়, সে নিয়ে আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি অটিস্টিক ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছিল নানা ধরনের অনুষ্ঠান। চিকিৎসকদের মতে, অটিজম এক ধরনের স্নায়ুগত সমস্যা যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত করে। ফলে শিশুদের সামাজিক মেলামেশায় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তাঁরা জানিয়েছেন, অটিজমের মাত্রাভেদ থাকে। কম মাত্রা হলে সেই শিশু আর পাঁচটা শিশুর মতো স্বাভাবিক স্কুলেই পড়াশোনা করতে পারে। মাত্রা বেশি হলে দরকার হয় বিশেষ যত্ন। এ জন্য রয়েছে স্পেশ্যাল স্কুল। কিন্তু শুধু স্কুল নয়, অটিস্টিক শিশুকে মনের জোর জোগাতে সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।
এ দেশে প্রতি হাজারে এক জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি কোনও স্তরেই এ নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা হয় না। ফলে বহু ক্ষেত্রেই অটিজম ধরা পড়ে দেরিতে। ‘অ-সাধারণ’ প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা অটিজম সোসাইটি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর প্রতিষ্ঠাত্রী ইন্দ্রাণী বসুর কথায়, ‘‘অটিস্টিকদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়াটা জরুরি। কারণ সমস্যা বুঝতে পারার পরে সন্তানের সঙ্গে সবথেকে বেশি সময় কাটান তাঁরাই।’’
এ দিন আরও একটি অনুষ্ঠানে ডাক্তার, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, মানবাধিকার কর্মীদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন অটিস্টিক শিশুদের অভিভাবকরাও। সংস্থার সম্পাদক কাঞ্চন গাবা জানান, এখানে অভিভাবকরা সরাসরি প্রশ্ন করে জেনে নিয়েছেন তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় নানা জরুরি বিষয়। এ দিন এক বেসরকারি সংস্থা অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিল।