কনুইয়ের চামড়া শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে মোটা হয় এবং এতে তেলের গ্রন্থিও কম থাকে। কনুইয়ে ক্রমাগত ঘর্ষণ, চাপ বা খুব শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মৃতকোষ জমে স্থানটি খসখসে হয়ে যায়, ছাল ওঠে এবং কালচে রং হয়ে যায়। তার পরে সেই কালচে খসখসে ভাব এক সময় স্থায়ী হয়ে যায়। নারকেল তেল বা ক্রিম লাগিয়েও সমস্যা দূর হয় না। তবে তার মানে এই নয় হাল ছাড়তে হবে। দীর্ঘস্থায়ী ওই সমস্যা সমাধানে তিনটি উপায় অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
১. সাধারণ ময়শ্চারাইজার লাগানোর আগে কনুইয়ের উপরিভাগে জমে থাকা মরা চামড়ার পুরু স্তর দূর করা প্রয়োজন। এর জন্য বিশেষ ধরণের কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট (যেমন স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম) বা ঘরে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। লেবু ও চিনির পেস্ট, অথবা চালের গুঁড়ো ও দইয়ের মিশ্রণ সপ্তাহে ২-৩ বার কনুইয়ে আলতোভাবে ঘষুন। ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম মরা চামড়া নরম করে ধীরে ধীরে ঝরিয়ে দেয়। এটি কনুইয়ের চামড়াকে মসৃণ করতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত বা জোরে স্ক্রাবিং করবেন না, এতে সমস্যা বাড়তে পারে।
২. মরা চামড়া দূর করার পর চামড়াকে গভীরভাবে ময়েশ্চারাইজ় করা জরুরি। সাধারণ ক্রিমের চেয়ে বেশি ঘন ময়শ্চারাইজার যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি, ক্যাস্টর অয়েল বা ভিটামিন ই অয়েল বেছে নিন। বিশেষ করে রাতে ঘুমোনোর আগে একটি ভারী তেলের বা ক্রিমের স্তর লাগিয়ে তার ওপর সুতির কাপড় জড়িয়ে রাখুন। এটি চামড়াকে সারা রাত ধরে গভীরভাবে আর্দ্র রাখবে এবং কনুইয়ের চামড়ার নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
৩. কনুইয়ের কালচে ভাব দূর করার জন্য নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন। দুধ ও হলুদের প্যাক কনুইয়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড মৃদু এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হলুদ কালচে দাগ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, নিয়াসিনামাইড বা কোজিক অ্যাসিডযুক্ত ব্রাইটেনিং ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করতে পারেন, যা ধীরে ধীরে ত্বকের রং স্বাভাবিক করবে। দিনের বেলা কনুই রোদ থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করুন বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, এটি কালচে ভাব আরও বাড়তে দেবে না।
এই তিনটি পদ্ধতি নিয়মিত ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে কনুইয়ের খসখসে ও কালচে ভাব দূর হয়ে ত্বকের নমনীয়তা ও উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। মনে রাখবেন, এক দিনে এর ফল পাওয়া যাবে না। তাই ধৈর্য ধরতে হবে। যদি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোন পরিবর্তন না হয়, তবে একজন চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।