কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, শুধু দিল্লি নয়, কালীপুজোর আগে কলকাতা শহরের নানা জায়গাতেও বাতাসের গুণমানের অবনতি হয়েছে। আর তার জন্য ফুসফুস যেমন মাশুল গুনছে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ত্বক ও কেশস্বাস্থ্যও। বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকারক রাসায়নিক কণা, ধুলোবালি চুলের সংস্পর্শে এসে কিউটিকল স্তরকে নষ্ট করে দেয় এবং প্রোটিনের উৎপাদন ব্যাহত করে। কেবল বায়ুদূষণ নয়, জলদূষণও চুলের রুক্ষতার আরও একটি কারণ। তাই শীত পড়ার আগে থেকেই কেশরাশির যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে।
চুলের যত্ন নিন ঘরোয়া মাস্কে। ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি
দূষণের হাত থেকে চুলের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টি ও আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ৫টি ঘরোয়া হেয়ারমাস্ক ব্যবহার করতে পারেন—
টক দই ও মধুর মাস্ক: টক দই মাথার ত্বককে গভীর ভাবে পরিষ্কার করে এবং মধু চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ৪ চামচ টক দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
ডিম ও অলিভ অয়েলের মাস্ক: ডিমের প্রোটিন দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের কিউটিকল মেরামত করে এবং অলিভ অয়েল চুলকে নরম করে। একটি কাঁচা ডিম ফেটিয়ে তার সঙ্গে ২ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পুরো চুলে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন।
অ্যালোভেরা ও নারকেল তেলের মাস্ক: অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকের চুলকানি ও প্রদাহ কমায় এবং নারকেল তেল চুলের গভীরে পুষ্টি জোগায়। ৪ চামচ টাটকা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ২ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে মালিশ করে ৪০ মিনিট রাখুন। তার পর শ্যাম্পু করে নিন। মৃদু উপাদানে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। তাতে যেন সালফেট, প্যারাবেন, ফরমালডিহাইড ইত্যাদি না থাকে।
আরও পড়ুন:
কলা ও মেথির মাস্ক: কলা চুলের শুষ্কতা দূর করে, গোড়া থেকে মজবুত করে, যাতে সহজে চুলে ভাঙন ধরে না। অন্য দিকে মেথি সামগ্রিক ভাবে চুলের স্বাস্থ্য ভাল করে। একটি পাকা কলা ভাল করে চটকে নিয়ে তার সঙ্গে ২ চামচ মেথিগুঁড়ো মিশিয়ে চুলে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন, তার পর ধুয়ে ফেলুন।
গ্রিন টি ও লেবুর রসের মাস্ক: গ্রিন টি-র অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মাথার ত্বক থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে এবং লেবুর রস খুশকি কমায়। এক কাপ কড়া গ্রিন টি ঠান্ডা করে তাতে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে স্প্রে করুন। ১৫ মিনিট রেখে তার পর সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন।