মেহন্দি কি শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানে পরতে হয় বা পুজো, উৎসব— ইত্যাদি নানা কারণে! কারণ ছাড়াও মেহন্দি দিয়ে হাত সাজাতে আপত্তি কিসের? বিষয়টি তো হাতকে সাজানো। নেলপলিশ, আংটি, ঘড়ি যদি পরা যেতে পারে, ট্যাটু দিয়ে যদি হাত সাজানো যেতে পারে, তবে মেহেন্দিই বা কী দোষ করল।
মেহন্দিকে উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়ার একটি কারণ অবশ্যই এর জমকালো ঐতিহ্যবাহী নকশা। যা ওই সব অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী সাজগোজের সঙ্গে দেখতে ভাল লাগে। তবে মেহন্দি যে কোনও সাধারণ পোশাকের সঙ্গেও দেখতে ভাল লাগতে পারে। তার নকশা হতে পারে হালকা এবং ‘ক্যাজ়ুয়াল’। যা তাঁতের নরম শাড়ির সঙ্গে যেমন দেখতে ভাল লাগবে, তেমনই ভাল লাগতে পারে লিনেল ট্রাউজ়ার্স কিংবা ডেনিম প্যান্ট আর টপের সঙ্গেও। অফিসের কেজো পোশাকের সঙ্গেও দেখতে খারাপ লাগবে না, যদি সেই ভাবে নকশা বেছে নেওয়া যায়। তেমনই পাঁচ মেহন্দির নকশা দেখে নিন।
ইন্দো-আরবি ফ্যাশনের নকশা। হাতের পিঠে মোগল আর্টের অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছে সূক্ষ্ম জালি নকশার খিলান। খিলানের ভিতরে ও বর্ডারে ছোট ছোট লতাপাতা ও ফুলের সূক্ষ্ম নকশা করা। প্রতিটি আঙুলে উপরের দিকে পাতা ভরা ডালের নকশা আঁকা হয়েছে।
হাতের তালুর একপাশে একটি বড় পানপাতার মতো মোটিফ। ভিতরে ফুলের নকশা। তালুর বাকি অংশটি মূলত ফাঁকা রাখা হয়েছে। খুব সূক্ষ্ম ছোট ছোট ক্রস আর বিন্দু ছাড়া আর কোনও নকশা নেই সেখানে। আঙুলগুলিতে বিভিন্ন রকম রিং, প্যাটার্ন ও ঘোরানো মেহন্দির নকশা।
ক্যাজ়ুয়াল ড্রেস হোক বা শাড়ি বা ট্রাউজ়ার্স সবরকম পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে মেহন্দির এই নকশা। হাতের উপরের অংশে একটি বৃত্তাকার মণ্ডল আর্ট আঁকা হয়েছে। বাকি অংশে এবং আঙুলগুলিতে ছোট ছোট ফুলের মোটিফ অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সাজানো। যে কোনও অনুষ্ঠান বা উৎসবে বা উৎসবহীন দিনেও এমন মেহন্দির নকশায় হাত সাজানো যেতে পারে।
তালুর মাঝে খুব সূক্ষ্ম ভাবে আঁকা একটি সুন্দর পদ্মফুলের মোটিফ। আঙুলের ডগায় মেহন্দির ডিপ ক্যাপ সহ সূক্ষ্ম লতাপাতার বুনন। আর কব্জিতে হালকা বর্ডারেই সম্পূর্ণ হয়েছে এই মেহন্দির নকশা।
এই নকশাটি মেহন্দির সাজে এখন খুবই ‘ইন’। নায়িকাদের প্রায়ই এই নকশায় মেহন্দি পরতে দেখা যাচ্ছে। হাতের পিছনের অংশে একটি ষষ্ঠীর চাঁদের নকশা করা হয়েছে। আঙুলের ডগায় মেহন্দির ছোট ডিপ ক্যাপ আর সূক্ষ্ম রিঙের নকশা। খুব সাধারণ হলেও এই মিনিমালিস্টিক মেহন্দির নকশা দেখতে ভাল লাগবে হাতে।