চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে অনেকেই নানারকম শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার সিরাম, হেয়ার প্যাক— ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। কেউ কেউ ডিম-দই-আমলকির মতো ঘরোয়া টোটকাও কাজে লাগান। তবে সুন্দর চুলের চাবিকাঠি শুধু দামি প্রসাধনীতে নয়, লুকিয়ে রয়েছে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও।
সুস্বাস্থ্যের জন্য ইদানীং অনেকেই প্রাতরাশে নানারকম বীজ খান। দই-ওটসের সঙ্গে মিলিয়ে নেন চিয়াবীজ, তিসির বীজ, কুমড়োর বীজ ইত্যাদি। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, তেমনই কিছু বীজে থাকা প্রোটিন, প্রাকৃতির তেল, ভিটামিন ই এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া শক্ত করতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে। নিয়মিত খেলে চুল হয় স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যাওয়া অনুজ্জ্বল চুল বা চুল পড়ার সমস্যায় ভুগলে সেই ৭টি বীজ নিজের খাদ্যতালিকায় জুড়ে দেখতে পারেন।
১। কুমড়োর বীজ
এতে প্রচুর পরিমাণে জ়িঙ্ক ও আয়রন থাকে, যা চুল পড়া, চুল গোড়া আলগা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা কমায়। ফলে চুলের ঘনত্ব কমে আসার মতো সমস্যা দূর হয়। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
২। তিসির বীজ
ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তিসির বীজ মাথার ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করে। খুশকির সমস্যা কমায়। চুলকে করে তোলে উজ্জ্বল।
৩। সূর্যমুখীর বীজ
ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়ামে ভরপুর এই বীজ মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং চুলকে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। ফলে চুল ভেঙে যাওয়া, ডগা ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা কমে। চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
৪। তিল
ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ সাদা বা কালো তিল চুলের অকালপক্বতা রোধ করে এবং চুলকে গোড়া থেকে মজবুত করে।
৫। চিয়াবীজ
প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ও আয়রনে ঠাসা চিয়াবীজ চুলের কেরাটিন গঠনে সাহায্য করে এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। তাই শুষ্ক চুলের সমস্যায় এই বীজ অত্যন্ত কার্যকরী।
৬। মেথি দানা
মেথিতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল পড়া বন্ধ করতে এবং মাথার ত্বকের সংক্রমণ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। যাঁদের ছত্রাকজনিত খুশকির সমস্যা রয়েছে এবং তা থেকে মাথার ত্বকে অস্বস্তি, চুল পড়ার মতো সমস্যা হয়, তাঁদের জন্যও এটি উপকারী।
৭। তরমুজের বীজ
চারমগজ রান্নায় ব্যবহার করা হয়। যা আসলে তরমুজের বীজ। বাদামের মতো স্বাদ বিশিষ্ট এই বীজও চুলের জন্য বেশ উপকারী। মেলাটোনিন, তামা ও প্রোটিন সমৃদ্ধ ওই বীজ চুলকে ঘন করে এবং চুলের স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কী ভাবে খাবেন?
প্রতিদিন এক বা দুই চামচ করে ওই বীজগুলি জলে ভিজিয়ে রাখার পরে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। কাঁচা খেতে পারেন। অথবা শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিয়েও খেতে পারেন। এছাড়া স্মুদি বা স্যালাডেও মেশানো যেতে পারে ওই সমস্ত বীজ।