ষষ্ঠীর দিন লেয়ার্ড নেকলেস, সপ্তমীতে ইয়ার কাফ, অষ্টমী-নবমী ব্রোচ আর আংটি...!
পুজোয় ধূতি-পাঞ্জাবি না ইন্দো ওয়েস্টার্ন? সেই প্রশ্ন এখন পুরনো। বাঙালি পুরুষেরা বরং ভাবুন, পুজোয় এ বার নুপূর পরবেন, না কি নেকলেস। কারণ, গ্লোবাল ট্রেন্ড বলছে, পুরুষের অলঙ্কার এবার ফ্যাশনে ‘ইন’। তারকারা তো বটেই সাজ-সচেতন বহু পুরুষও ঘড়ি-আংটি-চেন-ব্রেসলেটের গণ্ডিতে আটকে না থেকে নতুন নতুন গয়নায় সাজছেন।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের কথাই ধরা যাক। তৃতীয় বিয়ের সাজে ধুতির সঙ্গে তিনি পায়ে পরেছিলেন নুপূর। বলিউডের আরও এক খান শাহরুখকেও গত এক বছরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে নানা রকমের নেকলেস, দুল, ব্রোচ পরতে।
বলিউডের প্রভাব বাঙালি ফ্যাশনে পড়ে না, এমন নয়। বরং জিমচর্চা করা পেশল বাঙালি পুরুষ এখন সাজগোজ নিয়ে নানারকম সাহসী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। পুজোর আগে তাঁদের জন্যই রইল গয়না-গাইড।
পুরুষদের জুয়েলারি ফ্যাশনে যা যা ‘ইন’
১। মাইক্রো-লেয়ারড চেন আর স্লিম পেনডেন্ট
এ বছর সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে লেয়ার্ড চেন। একটি ছোট বা সরু মিনিমালিস্ট লকেট— যেমন, জ্যামিতিক নকশা, কয়েন মোটিফ বা ভিন্টেজ ক্রস/ সিম্বল বা হালের টি বার ক্ল্যাস্প দেওয়া চেনের সঙ্গে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের দু-তিনটি সূক্ষ্ম নকশার চেন একসঙ্গে পরতে পছন্দ করছেন পুরুষেরা। কেন এই ফ্যাশন জনপ্রিয় হচ্ছে? তার কারণ,এই ভাবে লেয়ার্ড চেন পরলে তা গলার অংশে কিছুটা ‘ডেপ্থ’ তৈরি করে। যা বুক বা গলার পেশির আদল সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলে।
২। ইয়ার কাফ
পুরুষের দুল পরার ফ্যাশন নতুন নয়। তবে এ বার ছোটখাটো ডায়মন্ড স্টাড বা হুপ্স-এ শখকে আটকে না রেখে কানের অনেকটা অংশ জুড়ে থাকা স্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান দুল পরতে শুরু করেছেন পুরুষেরা। কেউ পরছেন কানের চারপাশে নকশাদার বড় ইয়ার কাফ। কেউ আবার পরছেন ছোট ছোট অনেকগুলি ইয়ার কাফ পর পর, যা কানের বেশ কিছুটা অংশ জুড়ে থাকবে।
স্বয়ং শাহরুখ খানকে ইয়ার কাফ পরতে দেখা গিয়েছে। ভারতের এক সেতারবাদক স্বয়মসিদ্ধ প্রিয়দর্শী নানা রকমের ইয়ারকাফ পরে বাজাতে বসেন। বলিউডের অভিনেতা বিজয় বর্মা, ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকেও দেখা গিয়েছে ইয়ারকাফ পরতে। এই ধরনের দুলের সুবিধা হল এই দুল কান ফুটো না করেও পরা যায়। কানে সিঙ্গেল স্টাড বা হুপের পাশাপাশি কানের উপরিভাগে ইয়ার কাফ পরলে একটা ডাবল-এজড বা গ্রাঞ্জ স্টাইল আসে।
৩। মুক্তোর নেকলেস
বছর কয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের অভিনেতা রণবীর সিংহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর প্রিয় গয়না কোনটি? রণবীর বরাবরই নানা রকম গয়না পরতে ভালবাসেন। প্রশ্ন শুনে বলেছিলেন, ‘আমার সবচেয়ে পছন্দ দিদার একটা মুক্তোর নেকলেস। দিদা সেটা মাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু মায়ের থেকে আমি নিয়ে নিয়েছি। প্রায়ই ওটা নানা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরি।’’
বছর পাঁচেক আগে নায়কের গলায় মুক্তোর নেকলেস পরার কথা শুনে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। আর এখন সেই মু্ক্তোর হার বহু পুরুষ গলায় পরে পার্টিতে যাচ্ছেন, কেউ আবার ডেনিম বা হাওয়াই শার্টের সঙ্গে ম্যাচ করে পরছেন সান্ধ্যভ্রমণে বেরোনোর জন্য। পুরুষের মুক্তোর নেকলেস পরার ধারা আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে ‘মেনস পার্ল’ ট্রেন্ড নামে জনপ্রিয় হয়েছিল বছর কয়েক আগে। যার ঢেউ এখন এসে পৌঁছেছে ভারতেও।
৪। টেক্সচার্ড সিগনেট রিং
আকারে বড় এবং চওড়া খোদাই করা বা ভিন্টেজ নকশার সিগনেট রিং এ বছর পুরুষের ফ্যাশনে ট্রেন্ডিং। একটি বুড়ো আঙুলে আরও দু’-তিনটি মধ্যমা, তর্জনী এবং কনিষ্ঠায় পরছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার একই আঙুলে গলিয়ে নিচ্ছেন একাধিক আংটি।
সরু-মোটা নানা ধরনের সিগনেট রিং পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলি যেমন সুতি বা লিনেনের ক্যাজ়ুয়াল পোশাকের সঙ্গে মানানসই, তেমনই ব্লেজ়ার কিংবা ফর্মাল স্যুটের সঙ্গে পরলেও দেখতে ভাল লাগছে।
৫। ব্রোচ
পুরুষের ব্রোচের ফ্যাশন নতুন নয়। বিদেশে তো বটেই, ভারতেও রাজপুরুষেরা নানা অলঙ্কারের মতো ব্রোচ পরে আসছেন যুগ যুগ ধরে। সেই ব্রোচ নতুন করে ফিরে এসেছে এ বার ক্যাজ়ুয়াল ফ্যাশনেও। সাজগোজ নিয়ে সচেতন শৌখিন পুরুষেরা এখন লিনেন শার্টেও আটকে নিচ্ছেন হালকা ধাতব ব্রোচ।
নানা রকম হতে পারে তার নকশা, যা সেই পোশাকের মেজাজকে আরও খোলতাই করবে। ব্লেজার, কুর্তায় তো বটেই, অনেকে টাইয়ে, ট্রাউজ়ার্সের পকেটের পাশেও লাগিয়ে নিচ্ছেন ব্রোচ। যা সাজে নিয়ে আসছে ক্লাসিক ছোঁয়া।
গয়না বাছার আগে যা মাথায় রাখা ভাল
১. সঠিক প্রোপোরশন বা অনুপাত বজায় রাখুন। খুব বেশি হালকা নকশার গয়না পেশিবহুল শরীরে হারিয়ে যাবে। আবার অতিরিক্ত বড় গয়না পরলে তা বিদঘুটে লাগতে পারে। তাই পোশাক এবং নিজের চেহারার কথা মাথায় রেখে গয়না বাছুন।
২. ছাতি যদি চওড়া হয়, তবে চেনের দৈর্ঘ্য এমন রাখুন, যা বুকের মাঝখান পর্যন্ত আসে। এতে শরীরের পেশির গঠন সুসংহত দেখায়।
৩. পোশাক যদি ওয়ার্ম টোনের হয় অর্থাৎ লাল, হলুদ, কমলা ঘেঁষা, তবে গয়নাও বাছুন পিতল বা সোনার রঙের। কুল টোনের পোশাক— যেমন কালো, ধূসর, নীল, সাদা রং পরলে তার সঙ্গে রুপোলি, অক্সিডাইজ়ড বা স্টেনলেস স্টিল ভাল লাগে।