মেঘ-রোদের লুকোচুরি আর শহর জুড়ে মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতি জানান দিচ্ছে, পুজো এসে গিয়েছে। আর ক’দিন পরেই শিউলি ফুলের গন্ধে ভোরের বাতাস মেতে উঠবে। বাঙালির কাছে শারদোৎসব শুধু ক্যালেন্ডারের নিয়ম মেনে কোনও উৎসব বা মণ্ডপ পরিক্রমা নয়, এ হল মনের আনন্দ। সারা বছরের ক্লান্তি কাটিয়ে ঢাকের কাঠির প্রথম আওয়াজ আর ধুনো চন্দনের গন্ধের সঙ্গে মিশে নিজেকে নতুন করে চেনা ও প্রকাশ করার এক অমোঘ আকুতি। এই চিন্তাধারার যেন প্রতিফলন ঘটেছে ঋষভ বসু ও দিব্যজ্যোতি দত্তের শারদ সাজে।
পুজোর ক’টা দিন কেবল নতুন জামাপকাপড় পরা নয়, বরং নিজেকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরাই রীতি। কেমন হবে উৎসবের সাজ? ফ্যাশন ডিজ়াইনার অভিষেক নাইয়া বললেন, “ফ্যাশন চক্রের মতো ঘুরে ফিরে আসে। এখন যেমন নতুন প্রজন্ম সত্তরের দশকের ফ্যাশন পছন্দ করছে, তেমনই মাঝবয়সিরাও আধুনিক ফ্যাশনে ঝুঁকছেন। তবে অন্ধ ভাবে ট্রেন্ড নকল না করে, আরামদায়ক পোশাক, নিজস্ব শৈলী এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।”
আলোর বেণু...
মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ শোনার পর থেকেই বাঙালির মনে পুজোর আমেজ শুরু হয়ে যায়। উৎসবের সকালে হালকা পাঞ্জাবি-পাজামা নির্ভেজাল সারল্য ও মার্জিত রূপ এনে দেয়, যা শরতের আকাশের মতোই স্নিগ্ধ ও সুন্দর। বাঙালির চিরায়ত রূপ ধরা পড়েছে ঋষভের পাতার মোটিফের প্রিন্টেড পাঞ্জাবিতে। রুপোর ব্রোচ পোশাকটিকে আকর্ষক করে তুলেছে।
রাত পোহাল শারদ প্রাতে...
উৎসব উদ্যাপনে ধুতি-পাঞ্জাবির কম্বিনেশন বাঙালির কাছে চিরন্তন। অষ্টমীর সকাল-সাঁঝের সাজে থাকুক রাজকীয় ছোঁয়া। সাদার স্নিগ্ধতা ও পবিত্রতার পাশে লাল রঙের উৎসবমুখর আভিজাত্য মিশেছে ঋষভের ধুতি-পাঞ্জাবিতে। অষ্টমীর অঞ্জলির ভিড়ের মধ্যেও এই পোশাক নজর কাড়বে। আবার দিব্যজ্যোতির লাল বেনারসি পাঞ্জাবির সঙ্গে সাটিনের ধুতির জমকালো জুটি যেন রাতের মায়াবি আলোর সঙ্গে মিশে যায়। তাঁর মতোই কাঁধে ফেলে নিতে পারেন বেনারসি বা সিল্কের উত্তরীয়, যা উপন্যাসের নায়কদের মতোই অভিজাত লুক দেয়।
আলোকের এই ঝর্ণাধারায়...
পুজো মানেই অফুরন্ত আড্ডাও। আর এই মেজাজকে আরও জমিয়ে দিতে সাবেকি পোশাকের পাশাপাশি বেছে নেওয়া যেতে পারে সামার ব্লেজ়ার, ট্রেন্ডি প্রিন্টেড শার্ট কিংবা কো-অর্ডস। এমন ফিউশন লুকে আধুনিকতার ছোঁয়ার সঙ্গে থাকে উৎসবের ফুরফুরে মেজাজও। দিব্যজ্যোতির কটন বেসড ফ্র্যাবিকের উপরে থ্রেড ওয়র্ক সামার জ্যাকেট প্যান্টস আরামদায়ক এবং ফ্যাশনদস্তুরও।
বিষাদেও অরুণ আনন্দ...
বিজয়া দশমীর সাজে আনন্দের পাশাপাশি এক ধরনের মধুর বিষাদ জড়িয়ে থাকে। তবে সেই বিষাদের মাঝেও ফুটিয়ে তোলা যায় আনন্দের রেশ। দিব্যজ্যোতির হলুদ সিল্কের পাঞ্জাবির সঙ্গে একটি মানানসই লম্বা জ্যাকেট সাজে নিয়ে আসতে পারে উজ্জ্বলতা।
ঠিক অ্যাকসেসরিজ় বাছাই করতে পারলে সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে লুক। যেমন, পাঞ্জাবির বোতামের বদলে এমন ব্রোচ পরুন যা সহজেই নজর কাড়বে। একাধিক চেনের সঙ্গে পরতে পারেন বালা, আংটি বা স্টাইলিশ রিস্টলেট। এই ছোট ছোট ডিটেলিং আপনাকে ভিড়ের মাঝেও করে তুলবে অনন্য।
ছবি: সায়ন্তন দত্ত, মেকআপ: দীপঙ্কর দাস, ইন্দ্রজিৎ ঘোষ (ঋষভ) স্টাইলিং: প্রলয় দাশগুপ্ত, পোশাক: সেরেনিটি বাই সৈকত (ধুতি-পাঞ্জাবি), হাউজ় অফ পারা (হলুদ পাঞ্জাবি), ফিউশন টেলস বাই সুজিত চক্রবর্তী (সবুজ ড্রেস), শান্তনু গুহঠাকুরতা (বেনারসি পাঞ্জাবি), সুরভি পানসারি (প্রিন্টেড পাঞ্জাবি), লোকেশন: ইনরা ঐতিহ্য, অঞ্জলি কুঞ্জ (বারুইপুর), গয়না: কেশব ভট্টর (ভট্টর সিলভার অ্যান্ড জুয়েলস), অঞ্জলি জুয়েলার্স