মেচেতার দাগ আপনার আত্মবিশ্বাসে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? চকচকে ত্বকের আশায় সালোঁয় হাজার টাকা খরচ করেও অনেক সময়েই কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। আসলে মেচেতা বা কালচে দাগ কোনও সাধারণ দাগ নয়, এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কড়া রোদ বা লিভারের সমস্যার মতো শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ত্বকে মেলানিনের আধিক্যই এই দাগের আসল কারিগর। তাই শুধু বাইরের প্রসাধনী নয়, এই সমস্যা দূর করতে প্রয়োজন সচেতনতা। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, মেচেতা হলে কি তা পুরোপুরি সারানো যেতে পারে?
ত্বকের চিকিৎসক সঞ্জয় অগ্রবালের মতে, অনেক সময়েই দেখা যায় ২০-৩০ বছর বয়সের পর, সন্তান প্রসবের পর কিংবা কোনও হরমোনজনিত সমস্যার কারণে মেলাজ়মা বা মেচেতা অনেকটাই বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘‘মেচেতা এক প্রকার পিগমেনটেশন। এই দাগ কিন্তু নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে সঠিক পদ্ধতি মেনে চিকিৎসা করলে এবং চিকিৎসার পর সঠিক সানস্ক্রিন, ক্রিম, লোশন আর সিরাম ব্যবহার করলে এই দাগ অনেকটাই হালকা করা সম্ভব।’’
কোন কোন ভুলে বে়ড়ে যেতে পারে মেচেতার সমস্যা?
১) মেচেতা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হল সানস্ক্রিনের ব্যবহার। বাইরে বেরোলে তো বটেই, বাড়িতে থাকলেও সানস্ক্রিন মাখতে হবে। দিনে একাধিক বার এর প্রয়োগ ভীষণ জরুরি।
২) ত্বকে ঘন স্ক্রাব বা কেমিক্যাল পিল ব্যবহার করলে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যার ফলে মেচেতার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই এই সব প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩) রেটিনল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি-এর মতো উপাদানগুলি একসঙ্গে ব্যবহার করলে মেচেতার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
৪) ঘরোয়া টোটকার উপকরণ হিসাবে লেবুর রস, বেকিং সোডার মতো উপকরণগুলির ব্যবহারেও বেড়ে যেতে পারে মেচেতা।
৫) গরম অভেন বা গ্যাস অভেনের কাছে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, সওনা বা স্টিম বাথ নেওয়া বা খুব গরম জল দিয়ে স্নান করার ফলে রক্তনালি প্রসারিত হয়। এতে মেলাজ়মার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।