বছরের বিভিন্ন সময় বিদেশের মাটিতে কাটালেও দেশের উৎসব-অনুষ্ঠান পালনে কখনও পিছিয়ে থাকেন না ‘দেশি গার্ল’ প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। করবা চৌথ পালন হোক বা দীপাবলি— বিদেশে থাকলেও এই সব অনুষ্ঠান উদ্যাপন বরাবরই করে এসেছেন তিনি। ৩০ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলসে নিজের বাড়িতে দীপাবলি পার্টির আয়োজন করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। সঙ্গে ছিলেন স্বামী নিক জোনাস। অতিথি-তালিকায় ছিলেন উইনি হার্লো থেকে লিলি সিংহ। দিওয়ালি পার্টি হবে, অথচ নায়িকার পোশাকে জাঁকজমক থাকবে না, তা কখনও হয়! পার্টির মধ্যমণি প্রিয়ঙ্কার পোশাক ছিল একেবারে চোখধাঁধানো।
প্রিয়ঙ্কা পরেছিলেন বার্গন্ডি এবং সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস গাউন। গাউন জুড়ে ছিল ঘন জারদৌসির কারুকাজ, বিড্স এবং সোনালি সুতো দিয়ে রকমারি মোটিফ নকশা করা। অফ-শোল্ডার করসেট কাট গাউনের বক্ষদেশের কাছে ঝুলছিল ছোট ছোট পুঁতির ট্যাসেল, যা আলো পড়লেই ঝলমল করছিল। গলার কাছে পাতলা একটি ড্রেপ, যা আসলে ওড়নারই আধুনিক সংস্করণ।
প্রিয়ঙ্কার দীপাবলির সাজ। ছবি: সংগৃহীত।
ভারী জমকালো গাউনের সঙ্গে প্রিয়ঙ্কা কোনও ভারী গয়না পরেননি। চুলে ছিল খোঁপার বাঁধন, আর সেই খোঁপায় জড়ানো ছিল সাদা ফুলের মালা। ভারী এমব্রয়ডারির সঙ্গে সাদা ফুলের এই বৈপরীত্য লুকটাকে রাজকীয় করে তুলেছিল প্রিয়ঙ্কার সাজকে। কানে দুল আর সিঁথিতে ছোট্ট কুন্দনের মাঙ্গটিকা। মেকআপ ছিল একদম ছিমছাম। গাউনের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক, সামান্য হাইলাইটার আর স্মোকি আইজ়। তাঁর সাজে ছিল দেশি আর বিদেশিয়ানার সুন্দর মিশেল। দীপাবলির পার্টিতে একেবারে ভারতীয় বেশে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন নিক জোনাসও। তাঁর পরনে ছিল ক্রিম-সাদা এমব্রয়ডারি করা কুর্তা সেট।
প্রিয়ঙ্কার সাজ কী কী শেখালো?
১. উ়ৎসব মানেই লেহঙ্গা, শাড়ি কিংবা সালোয়ার পরতে হবে এমনটা নয়। গাউন পরেও নজর কাড়তে পারেন। গাউনের কাট আধুনিক হলেও নকশায় থাকুক দেশি ছোঁয়া। করসেট বডিস, অফ-শোল্ডার কাটের মতো স্ট্রাকচার্ড সিলুয়েট বেছে নিন, কিন্তু কাপড়ের উপর থাকুক জারদৌসি বা এম্ব্রয়ডরির নকশা ।
২. প্যাস্টেল রং এখন ফ্যাশনে বেশি চললেও, উৎসবের সন্ধ্যার জন্য ডিপ বার্গন্ডি, রুবি, এমারাল্ডের সঙ্গে সোনালি রং সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।
৩. খোঁপার সঙ্গে একটা ফুলের মালা যে কোনও ধাতব গয়নার থেকে বেশি নজর কাড়ে। গাউনের সঙ্গেও যে ভাবে ফুলের গয়নাকে স্টাইল করেছেন প্রিয়ঙ্কা, তা সত্যিই শেখার মতো।
৪. পোশাক যখন এমনিতেই স্টেটমেন্ট, তখন একটি মাঙ্গটিকাই সাজ সম্পূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট। প্রিয়ঙ্কা আবারও প্রমাণ করলেন, দেশি কারুশিল্পকে হলিউডের সিলুয়েটে ফেললেই তাতে আসতে পারে আন্তর্জাতিক ‘টাচ্’।