বর্ষণমুখর জুলাইয়ের সন্ধ্যায় শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত বছরের বেস্ট-এ চাঁদের হাট। আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেরাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। তারকাদের ভিড়ে সাজেও নজর কাড়েন সকলেই। তাঁদের মধ্যেই কয়েক জনের সাজে মুগ্ধ পোশাকশিল্পী অভিষেক দত্ত।
সাজের নিরিখে অভিষেকের নজর কেড়েছেন গায়িকা নিখিতা গাঁধী। বছরের বেস্ট অনুষ্ঠানে সঙ্গীতে সেরার শিরোপা পেয়েছেন তিনি। এ দিনের অনুষ্ঠানে তিনি পরেছিলেন কাঁথার নকশা করা হলুদ শাড়ি কেটে তৈরি হুডি জ্যাকেট। পোশাকের দৈর্ঘ্য হাঁটু ছাড়িয়েছে। পায়ে ছিল হাঁটু পর্যন্ত হাই-অ্যাঙ্কল বুট, তাতে ধাতব ক্লিপ লাগানো। কোমরে ছিল কালো চওড়া চামড়ার বেল্ট। হলুদ হুডির নীচে তিনি পরেছিলেন কালো টপ, গলায় জাঙ্ক জুয়েলারি। সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ‘বোহো’ ছাপ স্পষ্ট। নিখিতার সাজের ভূয়সী প্রশংসা করে অভিষেক বলেন, “বেশির ভাগ সকলেই শাড়ি পরেন, কিন্তু ইনোভেশনের কথা বলতেই হয়। মায়ের শাড়ি কেটে তৈরি হুডি পরেছিল নিখিতা। সেটা ডবল-সাইডেড। মানে দু’দিকেই পরা যায়। বুটে সাবেক ও জেন-জ়ির মিশেল। এই সাজটা ভীষণই নিখিতার মতোই। ওকে অনেক দিনই চিনি। ও পরীক্ষানিরীক্ষা করতে ভালবাসে, জানি।”
নিখিতা গাঁধী। নিজস্ব চিত্র।
বছরের বেস্ট অনুষ্ঠানে সমাজসৈনিক হিসাবে পুরস্কৃত হন দেব। মঞ্চে তিনি উঠেছিলেন ডেনিমের মোনোক্রোম জ্যাকেট ও প্যান্ট সেটে। অভিষেকের কথায়, “ডেনিম দিয়ে বানানো, অত সুন্দর ফিটিং জ্যাকেট ছেলেরা খুব একটা ক্যারি করতে পারে না। দেব অসাধারণ ক্যারি করেছে। খেয়াল করবেন, জ্যাকেটের নীচে কিছু পরেনি দেব। ওর শারীরিক গঠন ফুটে উঠেছে তাতে। সঙ্গে ব্যাগি ট্রাউজ়ার্স। ফলে চওড়া কাঁধ স্পষ্ট হয়, শারীরিক গঠন বোঝা যায়।”
দেব। নিজস্ব চিত্র।
শিল্পী কিংশুক সরকারের হাতে সেরার পুরস্কার তুলে দেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। তাঁর পরনে ছিল আইভরি রঙের শিফন বা জর্জেট শাড়ি। গোটা শাড়ি জুড়ে ছিল সোনালি চুমকি ও জরির কাজ। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ঝলমলে ভি-গলা হাতকাটা ব্লাউজ় পরেছিলেন তিনি। জমকালো শাড়ির সঙ্গে তিনি গলায় কিছু পরেননি। শুধু কানে রঙিন পাথর বসানো হিরের দুল পরেছিলেন। অন্য দিকে অনুবাদক অরুণাভ সিংহকে পুরস্কার দিতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী রাইমা সেন। তাঁর পরনেও ছিল আইভরি রঙের ঝলমলে শাড়ি, তাতে সূক্ষ্ম সুতোর কাজ। সঙ্গে একই রঙের হাতকাটা ব্লাউজ়। গলায় হিরে বসানো সরু হার, কানে মানানসই দুল ছিল তাঁর। খোলা চুলে নজর কাড়েন অভিনেত্রী। হালকা মেকআপে শেষ করেছিলেন তাঁর সাজ। তাঁদের সাজকে একই নম্বর দিতে চান অভিষেক। তিনি বলেন, “জয়া ও রাইমা, দু’জনেই সাদা-দুধসাদা রঙে ছিলেন। রাইমার পরনে ছিমছাম শাড়ি, জয়া পরেছিলেন জমকালো শাড়ি। দু’জনের পরনেই শিফন বা জর্জেট ধরনের শাড়ি ছিল। দুই নায়িকার পোশাকেই ছিল নব্বইয়ের দশকের অভিনেত্রীদের আভাস। এখন শাড়ির তুলনায় ব্লাউজ় বেশি নজর কাড়ে। এই ধরনের ব্লাউজ় সাধারণত ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি হয়।”
জয়া আহসান (বাঁ দিকে), রাইমা সেন (ডান দিকে)। নিজস্ব চিত্র।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা পাওলি দামও নজর কাড়েন সাজে। তিনি পরেছিলেন গাঢ় সবুজ রঙের বেনারসি শাড়ি। গোটা শাড়ি জুড়ে ছিল সোনালি ও রুপালি সুতোর সূক্ষ্ম কাজ। শাড়ির পাড় ও আঁচলে ভারী কাজ। জমকালো শাড়ির সঙ্গে ছিমছাম ব্লাউজ়ই বেছে নিয়েছেন তিনি। গলায় ছিল সাবেক ভারী হার। আঙুলে ছিল বড় আংটি। পাওলির শাড়ির প্রশংসা করেছেন বলিউডের অভিনেত্রী কাজলও। অভিষেক বলেন, “পাওলি একেবারে ঐতিহ্যবাহী সাজে সেজেছিলেন। সাবেক সাজ সবসময়েই নজর কাড়ে। ওর গায়ের রঙের সঙ্গে শাড়ির সবুজ ভীষণ ভাল মিশেছে। তার ফলে ওর সাজ আরও বেশি নজরে পড়েছে।”
পাওলি দাম। নিজস্ব চিত্র।
নিখিতা গাঁধীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। নজর কাড়ে তাঁর গাঢ় রঙের শাড়ি। উজ্জ্বল বেগনি রঙের বেনারসি শাড়ি পরেছিলেন তিনি। শাড়িতে সোনালি জরির ফুলের নকশায় ছিল মীনাকারি কাজ। শাড়ির চওড়া পাড়। একই রঙের ব্লাউজ়ে ছিল জরি ও বুটির কাজ, কনুই পর্যন্ত হাতা, গলার কাছে নেটের কাজ। বেগনি রঙের সঙ্গে গলায় পরেছিলেন পান্না বসানো হার। কানে ছিল ছোট ঝুমকো দুল। এক হাতে চওড়া চুড়ি। অভিষেকের মতে, “বেগনি এই মরসুমের রং। ট্রান্সপারেন্ট ব্যাক ব্লাউজ় নজর কাড়ে। শাড়ির মতোই কাজ ছিল ব্লাউজ়ে। ছিমছাম খোঁপা। পুরোটা মিলিয়ে ওর শারীরিক গঠন ফুটে উঠেছে ভালমতো।”
মিমি চক্রবর্তী। নিজস্ব চিত্র।