মুখে কোনওরকম পাউডার বা রং মাখার আগে নাকি পোড়া লবঙ্গ দিয়ে ত্বকচর্চা করতেন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সাবেক কনেরা। আর এখন মেকআপের আগে শিটমাস্ক, ফেস সিরাম, ফেস মিস্ট দিয়ে ত্বকের পরিচর্যা করা হয়। প্রাচীন, অথচ একদা জনপ্রিয় এই টোটকা ব্যবহার করলে কী হয়? কী ভাবেই বা প্রয়োগ করতে হয়, জানেন?
কী সেই টোটকা?
· প্রচলিত রীতিতে কয়েকটি লবঙ্গ আগুনে হালকা পুড়িয়ে গুঁড়ো করা হত।
· তার পর সেটি ঘি, নারকেল তেল, মধু, দুধের সর, চন্দনগুঁড়ো বা গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া হত।
· এ বার মুখে বা ব্রণের দাগে লাগানো হত। বিশ্বাস ছিল, এতে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়, মুখের দাগছোপ কিছুটা কমে এবং স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য আসে। ফলে বিয়ের সাজের আগে এই পদ্ধতিতে ত্বকচর্চা করা হত।
ত্বকে লবঙ্গের গুণাগুণ। ছবি: সংগৃহীত
এটি কি আদৌ কার্যকর?
চর্মরোগ চিকিৎসকদের মতে, লবঙ্গের প্রাকৃতিক উপাদান ইউজিনলে জীবাণুরোধী এবং প্রদাহ কমানোর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই কারণেই ব্রণ বা ত্বকের হালকা প্রদাহে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে পোড়া লবঙ্গের এই ঘরোয়া মিশ্রণ ত্বক ফর্সা করে, দাগ সম্পূর্ণ দূর করে বা বিয়ের আগে ত্বকে নাটকীয় পরিবর্তন আনে— এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিন্তু ত্বকের প্রদাহ কমানোর কারণে ব্রণের সমস্যা খানিক কমতে পারে। উপরন্তু, লবঙ্গের সঙ্গে অন্য উপাদানগুলি মেশালে ত্বকে প্রাকৃতিক আভা আসতে পারে। লালচে ও জ্বালা ভাবও কমতে পারে লবঙ্গের মিশ্রণের প্রয়োগে।
সবার জন্য কার্যকর?
তবে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। লবঙ্গে থাকা একাধিক উপাদান অনেকের ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই সরাসরি মুখে লাগানোর আগে হাতের একটি ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল। যদি কোনও অস্বস্তি হয়, তা হলে ব্যবহার না করাই উচিত।