বর্ষাকালে শুধু ত্বক নয়, চুলেরও আলাদা যত্ন প্রয়োজন। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাথার ত্বকে ঘাম ও তেল জমে যেতে পারে। তার সঙ্গে বৃষ্টির জল, ধুলো এবং দূষণ মিশে চুলের সমস্যা বাড়াতে পারে। ফলে খুশকি, চুলকানি, তেলচিটে ভাব, চুল পড়া, জট ধরা এবং চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে দামি প্রসাধনীর চেয়ে প্রতিদিনের কয়েকটি অভ্যাসে সামান্য বদল আনাই বেশি জরুরি।
১. চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা: এমন অনেক প্রসাধনী আছে, যা চটজলদি চুলের সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু তাতে আদপে চুলের স্বাস্থ্যের কোনও উন্নতি হয় না। কেবল বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর হয় চুল। কিন্তু এখন রূপচর্চার জগতে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়েও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা নিয়ে বেশি ভাবিত অনেকে। তা সে খাদ্যাভ্যাস বদলানো হতে পারে, অথবা বিভিন্ন ট্রিটমেন্টও হতে পারে।
বর্ষায় চুলের নানাবিধ সমস্যা বাড়ছে কি? ছবি: সংগৃহীত
২. রোজের অভ্যাসে নজর: ভিজে অবস্থায় আঁটোসাঁটো করে পনিটেল করা বা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব অথবা ঘন ঘন হেয়ারড্রায়ার দিয়ে চুল শুকোনো— এই ধরনের রোজের অভ্যাসের কারণে চুলের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে গোড়া। এগুলি বদলে ফেলা দরকার।
৩. হেয়ার মাস্ক ব্যবহার: সাধারণ কন্ডিশনারের চেয়ে অনেক গভীর ভাবে চুলকে পুষ্টি ও আর্দ্রতা জোগায় হেয়ার মাস্ক। রুক্ষতা দূর করে, চুল কোমল ও মজবুত করে, এবং তাপ ও দূষণের কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া চুল ঠিক করতে সাহায্য করে। ফলে সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার হেয়ার মাস্ক প্রয়োগ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
৪. তেল মাসাজে সতর্কতা: তেল মাখা চুলের যত্নের একটি প্রচলিত প্রথা হলেও বর্ষায় মাথার ত্বক যদি খুব তৈলাক্ত হয়ে থাকে বা খুশকির সমস্যা থাকে, তা হলে দীর্ঘক্ষণ তেল মেখে রাখলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই নিজের মাথার ত্বকের ধরন বুঝে তেল ব্যবহার করুন। চুলে তেল মাখার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শ্যাম্পু করে নেওয়া যেতে পারে। মাথায় খুশকি বা চুলকানি থাকলে নিজের মতো করে কোনও তেল বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।
৫. পণ্য ব্যবহারে নজর: বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল এমনিতেই চিটচিটে ও ভারী হয়ে থাকে। তাই একসঙ্গে অনেক ধরনের সিরাম, জেল, স্প্রে বা স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত আস্তরণ তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী, ন্যূনতম সামগ্রী ব্যবহার করাই ভাল।