পুজোর আগে পার্লারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা আর ভিড়ের মধ্যে বসে থাকা বেশ সমস্যার। তবে উৎসবের দিনগুলিতে সাজগোজের তালিকা থেকে পায়ের সৌন্দর্যচর্চা কিন্তু বাদ দিলে চলবে না। কালচে ও ফাটা গোড়ালি নিয়ে নতুন জুতো পরলে একেবারেই মানাবে না। তাই পরিষ্কার, ঝকঝকে পা পেতে পেডিকিয়োর করাতেই হবে। আর তা ঘরোয়া উপকরণে বাড়িতেই করা সম্ভব। পেডিকিয়োর যে কেবল পায়ের সৌন্দর্যচর্চা, তা কিন্তু নয়। পায়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও এটি করা জরুরি। রোজ বাইরে বেরোতে হয় যাঁদের, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একবার পেডিকিয়োর করে নিলে পায়ের কালচে দাগছোপ উঠে যাবে। পা ফাটার সমস্যাও হবে না।
পেডিকিয়োর কেন জরুরি?
১) প্রতিদিনের চলাফেরায় পায়ে ধুলোবালি জমে চামড়া শক্ত ও খসখসে হয়ে যায়। পেডিকিয়োর করলে মৃত কোষ উঠে গিয়ে ত্বক নরম থাকে।
২) পায়ের নিয়মিত যত্ন না নিলে গোড়ালি ফেটে যাওয়ার সমস্যা হয়। তখন জুতো পরলে যন্ত্রণা হয়, হাঁটাচলার সময়ে কষ্ট হয়।
৩) পেডিকিয়োরের সময় হালকা মাসাজ পায়ের স্নায়ু ও পেশিকে আরাম দেয়। এতে পায়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। তাতে ব্যথাবেদনা কমে যায়, দিনভরের ক্লান্তিও দূর হয়।
৪) নখের কোণে ময়লা জমে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার করলে নখ ভাল থাকে। দেখতেও সুন্দর লাগে।
ঘরোয়া উপায়ে পেডিকিয়োর করার পদ্ধতি জেনে নিন।
পেডিকিয়োরের ঘরোয়া পদ্ধতি
প্রয়োজনীয় উপকরণ
গরম জল, ছোট গামলা, শ্যাম্পু বা বডিওয়াশ, ১ চামচ বেকিং সোডা, ১টি গোটা পাতিলেবুর রস, নেলকাটার, ফাইলার, পিউমিস স্টোন বা ফুট স্ক্রাবার, চিনি, নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল এবং যে কোনও ময়েশ্চারাইজ়িং ক্রিম।
প্রথম ধাপ: নখ কাটা ও শেপ করা
পায়ের নখের পুরনো নেলপলিশ রিমুভার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।
নেলকাটার দিয়ে নখ আপনার পছন্দমতো কেটে নিন এবং ফাইলার দিয়ে সমান ও সুন্দর শেপ দিন।
দ্বিতীয় ধাপ: পা ভিজিয়ে রাখা
একটি গামলায় সহনীয় মাত্রার গরম জল নিন।
এতে সামান্য শ্যাম্পু, ১ চামচ বেকিং সোডা এবং একটি পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দিন। লেবুর খোসাটি ফেলবেন না। চাইলে জলে গোলাপের পাপড়িও ছড়িয়ে দিতে পারেন।
ঘরোয়া উপকরণেও জেল্লা দেবে পায়ের ত্বক।
এই জলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। এতে পায়ের ত্বক নরম হবে। ধুলোময়লা বেরিয়ে যাবে।
তৃতীয় ধাপ: এক্সফোলিয়েশন ও স্ক্রাবিং
নখের চারপাশের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করুন। লেবুর খোসা দিয়ে নখের উপর আলতো করে ঘষতে থাকুন। এতে ময়লা বেরিয়ে যাবে।
পিউমিস স্টোন বা স্ক্রাবার দিয়ে গোড়ালি ও পায়ের নীচে আলতো হাতে ঘষতে হবে। এতে মৃতকোষ উঠে যাবে।
এরপর ২ চামচ চিনি ও ১ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে একটি ঘরোয়া স্ক্রাব বানিয়ে ফেলুন। দুই পায়ের পাতায় এই স্ক্রাব দিয়ে মাসাজ করুন। ৪-৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। তারপর ঈষদুষ্ণ জলে পা ধুয়ে ফেলুন।
কেবল সৌন্দর্যচর্চা নয়, পায়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও জরুরি পেডিকিয়োর।
চতুর্থ ধাপ: পায়ের প্যাক
২ চামচ বেসন, ১ চামচ টক দই এবং সামান্য হলুদগুঁড়ো দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন।
এটি পায়ে মেখে ১০ মিনিট রাখুন এবং শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এই প্যাকে রোদে পোড়া কালচ দাগ উঠে যাবে।
পঞ্চম ধাপ: পায়ের ময়েশ্চারাইজ়িং
পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা ভাল ভাবে মুছে শুকিয়ে নিন।
এ বার ফুট ক্রিম বা সামান্য অলিভ অয়েল মেখে ৪-৫ মিনিট আলতো হাতে মাসাজ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: নেলপলিশ
নখে পছন্দের রঙের নেলপলিশ পরে নিন। চাইলে নেলআর্টও করতে পারেন।