মুকেশ অম্বানীর স্ত্রী নীতার সাজগোজ বরাবরই নজর কাড়ে সকলের। কখনও তাঁর শাড়ি নিয়ে চর্চা হয়, কখনও আবার তাঁর কোটি কোটি টাকার গয়না নিয়ে নেটমাধ্যমে তোলপা়ড় হয়। নীতার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতেও উৎসুক অনেকেই। ইতিমধ্যেই দিদা-ঠাকুরমা হয়েছেন নীতা। তবু তাঁর সাজগোজ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। শাড়ি কিংবা লেহঙ্গা, চুড়িদার হোক কিংবা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন গাউন— সবেতেই মোহময়ী রূপে ধরা দেন মুকেশ-পত্নী। সম্প্রতি মুম্বইয়ে নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারের লাইব্রেরির উদ্বোধনেও নীতার সাজ নজর কেড়েছে ফ্যাশনিস্তাদের।
ওই অনুষ্ঠানে নীতার পরনে ছিল ঘিয়ে রঙের প্যান্ট-স্যুট। তবে সেদিন পোশাক নয়, নীতার পোশাকের উপর লাগানো এক বিশাল ফড়িং ব্রোচের দিকেই ছিল সবার নজর আটকে। ব্রোচটির দাম প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা! এই ব্রোচের নাম নাকি ‘শোরিং স্পিরিট’। তৈরি করেছেন চিনা গয়নাশিল্পী ওয়ালেস চ্যান। চিনে ফড়িংকে স্বাধীনতা, পরিবর্তন এবং নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারের তরফে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‘এই ব্রোচ স্বপ্ন, স্বাধীনতা এবং অসীম সম্ভাবনার প্রতীক।’’
২০১৭ সালে তৈরি এই ব্রোচটি বানাতে ওয়ালেস চ্যানের সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। তিনি তাঁর প্রতিটি গয়নাকে শিল্পকর্ম হিসেবে দেখেন। নিখুঁত কারুকাজের জন্যই এত সময় লেগেছে বলে জানান শিল্পী।
ব্রোচটি সবুজ রঙের বিশেষ রত্ন, রুবি, পিঙ্ক স্যাফায়ার, হলুদ হিরে ও অন্যান্য রঙিন হিরে আর টাইটানিয়ামের সংমিশ্রণে তৈরি। রত্নখচিত এই ফড়িংকে দেখলে আসল বা নকলের ফারাক করা মুশকিল। শিল্পী ওয়ালেস চ্যানের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ফড়িং-এর ডানা দুটি একটি অ্যাবাকাস (পুরনো দিনের গণনার যন্ত্র) থেকে অনুপ্রাণিত। যা সময়, পরিমাপ এবং জ্ঞানের প্রতীক। আর ঠিক এই কারণেই লাইব্রেরীর উদ্বোধনের জন্য নীতা এই ব্রোচটি বেছে নিয়েছেন।
কে এই ওয়ালেস চ্যান?
১৯৫৬ সালে চিনে জন্ম। কাজ শুরু করেছিলেন পাথর খোদাইয়ের শিল্পী হিসেবে। তিনি এখন চিনের প্রথম সারির গয়নাশিল্পীদের মধ্যে একজন। প্রজাপতি, ফড়িং, মাছ— গয়না তৈরিতে প্রকৃতিই তাঁর মূল অনুপ্রেরণা। এর আগেও ভেনিস বিয়েনালেতে নীতা আম্বানিকে তাঁর গয়না পরতে দেখা গিয়েছে।