শরতের শিশির ভেজা শিউলি ঝরা ভোরে ‘জাগো মা দুর্গা’র রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে বেজে ওঠে মা লক্ষ্মীর আগমনী সুর। লক্ষ্মীপুজোর সাজ মানেই শুধু লাল রং আর সোনার গয়না নয়। যেমন রঙে বদল এসেছে, তেমনই সাজেও এসেছে ‘মিনিমালিজ়ম’। খুব চড়া সাজপোশাকের বদলে নিজের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলাই এখন ট্রেন্ড। দুর্গাপুজোর জাঁকজমক শেষে লক্ষ্মীপুজোয় থাকুক শান্ত, স্নিগ্ধ সাজের ছোঁয়া। যদিও পুজোর সাজের জন্য এখনও শাড়িই বঙ্গতনয়াদের প্রথম পছন্দ, তবে বদলাতে পারেন শাড়ি পরার ধরন।
কোজাগরীর রাতে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে আপনিও বেছে নিতে পারেন বার্গ্যান্ডি, পিচ, মভ, ওয়াইন, ল্যাভেন্ডার, নেভি ব্লু বা গ্রে-র মতো রঙের শাড়ি। এই রঙের বদল আসলে স্বাধীন চেতনারই প্রতিফলন। যেমন এখানে ইধিকার মতো হাফ অ্যান্ড হাফ সিল্কের শাড়ির সঙ্গে ব্রালেট উইথ জ্যাকেট পরে লুকে আনতে পারেন হালফ্যাশনের টুইস্ট।
প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়েও যে আভিজাত্য বজায় রাখা যায়, তা ধরা পড়েছে অভিনেত্রী ইশা সাহার নকশা করা ধূসররঙা তসর সিল্কের শাড়িতে। সঙ্গে বেলুন স্লিভস ব্লাউজ় নতুনত্ব যোগ করছে সাজে। উৎসবের রাতে লো-নেক, বোটনেক, হল্টারনেক ব্লাউজ়ের সঙ্গেও শাড়ি পরার এক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের পেপলম কাটের ব্লাউজ়েও রয়েছে অভিনবত্ব। আবার নেভি ব্লু কাধুয়া স্টাইলের কাতান বেনারসির সঙ্গে লো নেক কাট ব্লাউজ় পরেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। তাঁর সাজ পূর্ণ করেছে গয়না।
ইশা।
এখন গয়নাতেও চিরাচরিত ভারী সোনার গয়নার পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে রুপো বা তামার গয়না। শাড়ির সঙ্গে কাঁধ ছোঁয়া শ্যান্ডেলিয়র, বড় ঝুমকো বা হাত ভর্তি চুড়ি পরতে পারেন। অথবা হাতে থাকুক একটাই বড় স্টেটমেন্ট পিস। ইদানীং কাপড়, সুতো বা সেরামিকের গয়নার চলও বেড়েছে। সে গয়নাও বেছে নিতে পারেন শাড়ির ধরনের সঙ্গে মিলিয়ে।
লক্ষ্মীপুজো রাতের দিকে হয় বলে মেকআপে উজ্জ্বল কিন্তু সতেজ ভাব বজায় থাকুক। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে সিসি ক্রিম, চোখে কাজল স্মাজ করে পরতে পারেন। চোখের মেকআপ ভারী হলে ঠোঁটে হালকা শেডের লিপস্টিক রাখুন। পিঙ্ক বা মেটে রঙের লিপস্টিক ভাল মানাবে। তবে সব ছাপিয়ে কপালের মাঝে ছোট্ট একটা টিপে যেন উৎসবের আবহ ধরা পড়ে। অনেকটা সময় পুজোর কাজে তদারকি করতে হলে চুল খুলে না রেখে খোঁপা করে রাখাই আরামদায়ক। মাথার উপরে তুলে বা ঘাড়ের কাছে হাতখোঁপাও করে নিতে পারেন, মাঝে বসিয়ে নিন একটা রুপোর চিরুনি। অথবা খোঁপার পাশে ফুলও লাগাতে পারেন সুন্দর করে।
সাজপোশাক যা-ই হোক না কেন, আত্মবিশ্বাস আর ব্যক্তিত্বই যে নিজের আসল ‘লক্ষ্মীমন্ত’ রূপ, সেটাই যেন ফুটে ওঠে আধুনিকাদের সাজে।
মডেল: জয়া আহসান, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, ইশা সাহা, ইধিকা পাল, ছবি: সোমনাথ রায় (ইধিকা), দেবর্ষি সরকার (শ্রাবন্তী, ইশা), সায়ন্তন দত্ত (জয়া), মেকআপ ও হেয়ার: নব মাইতি, সুজয় বণিক (শ্রাবন্তী ও ইধিকা), সুমন গঙ্গোপাধ্যায়, জলসা দে (জয়া), স্টাইলিং: প্রলয় দাশগুপ্ত (ইধিকা), প্রিয়ঙ্কা সরকার-শ্রেষ্ঠা রায় (জয়া), রাধিকা গুপ্ত (শ্রাবন্তী), ব্লাউজ়: চিত্রি বাই পিয়ালী গঙ্গাোপাধ্যায় (ইশা, জয়া), চান্দ্রি মুখোপাধ্যায় ডিজ়াইনস (ইধিকা), শাড়ি: আনন্দ,১৩ রাসেল স্ট্রিট