Advertisement
E-Paper

সুন্দর ত্বক পাওয়ার জব্বর ‘টনিক’ প্রতিদিন ফেলা যাচ্ছে রান্নাঘরে? কী উপায়ে খেলে মিলবে ‘গ্লাস স্কিন’!

রং দুধের মতো সাদা। তবে স্বাদ ভাল না-ও লাগতে পারে। সেই সমস্যা দূর করতে চাইলে ভাতের ফ্যানে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে সামান্য লেবুর রস বা বিটনুন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৬
ত্বকের ‘টনিক’ রোজই ফেলা যাচ্ছে বাড়িতে!

ত্বকের ‘টনিক’ রোজই ফেলা যাচ্ছে বাড়িতে! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুন্দর উজ্জ্বল ত্বক বোঝাতে হলে এককালে বলা হত ‘মাখনের মতো’। অর্থাৎ এমন ত্বক, যা মাখনের মতো নরম, মসৃণ। ননী বা মাখনের মতোই নরম বিভা থাকে যাতে। এ যুগে অবশ্য ‘গ্ল্যামারাস’ ত্বকের সেই উপমা বদলেছে। উজ্জ্বল ত্বকের সর্বোচ্চ ধারণা এখন ‘গ্লাস স্কিন’ অর্থাৎ কাচের মতো ঝকঝকে ত্বক। যে ত্বকে আলোও পিছলে পড়ে। আর এই দু’ধরনের ত্বকেরই জব্বর ‘টনিক’ তৈরি হয় এ দেশের অধিকাংশ বাড়ির রান্নাঘরে! নিত্যদিন।

এ দেশে প্রতি বাড়িতেই ভাত খাওয়া হয়। ভাত রাঁধা হয়। আর ভাত রান্নার পরে যে ফ্যান বা ভাতের মাড় গালিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, সেই ফ্যানই হল ঝকঝকে ত্বকের ‘বিউটি টনিক’।

রং দুধের মতো সাদা। তবে স্বাদ ভাল না লাগতেও পারে। সেই সমস্যা দূর করতে চাইলে ভাতের ফ্যানে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে সামান্য লেবুর রস বা বিটনুন। তাতে যে সুস্বাদু পানীয় তৈরি হবে, তা নিয়মিত খেলে ত্বকের বহু সমস্যা দূর হবে। পাবেন ঝকঝকে উজ্জ্বল, মসৃণ, দাগছোপহীন ত্বক। এ দেশে ভাতের ফ্যান খাওয়া বা ফ্যান সমেত ভাত খাওয়া নতুন কিছু নয়। বাঙালি পরিবারে বরং ফ্যান দিয়ে ভাত খাওয়া হয় এক বিশেষ ধরনের ‘কমফর্ট ফুড’ হিসাবেই। বিজ্ঞান এবং গবেষণা বলছে, সেই ফ্যানেই লুকিয়ে ত্বক ভাল রাখার, নিখুঁত রাখার চাবিকাঠি।

কেন ভাতের ফ্যান ত্বকের জন্য উপকারী?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভাতের ফ্যানে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা এবং সেরামাই়ড। যা ত্বকের বাইরের স্তর বা রক্ষাকবচকে শক্তিশালী করে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ স্টাডি-র অধীনে হওয়া এক গবেষণায় গবেষকেরা দেখেছেন, নিয়মিত ভাতের ফ্যান খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থেকেছে দীর্ঘ সময়। ফলে বার্ধক্যজনিত ছাপ পড়েনি। কোলাজেন ঠিক মতো কাজ করেছে। ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা টানটান ভাবও বজায় থেকেছে। এমনকি, ত্বকের রক্ষাকবচ শক্তিশালী হওয়ায় ব্যাক্টেরিয়াজনিত সমস্যা যেমন ব্রণ, ফুসকুরি, র‌্যাশ— ইত্যাদিও অনেক কম হয়েছে। দূষণের প্রভাবও পড়েছে কম।

তবে এ ছাড়াও ভাতের ফ্যানে ত্বকের প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান আছে—

১। ভাতের ফ্যানে এমন কিছু অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যার দরকার পড়ে ত্বক ভাল রাখার জন্য। ফেরুলিক অ্যাসিড আর গামা-ওরাইজ়েনল যার মধ্যে অন্যতম। ফেরুলিক অ্যাসিড ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে সূক্ষ্ম বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনা কমায়। গামা-ওরাইজ়েনল দূষিত কণাগুলিকে তফাতে রেখে ত্বকের কোষগুলিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়।

২। ত্বকে দাগছোপ তৈরি করে মেলানিন। ভাতের ফ্যানে থাকা সেরামাইড সেই মেলানিনের স্তর কমাতে সাহায্য করে। ফলে কপাল থেকে চিবুক পর্যন্ত সর্বত্র সমান ধরনের ত্বকের রং বজায় রাখতে চাইলে কাজে লাগতে পারে ভাতের ফ্যানের বিউটি টনিক।

৩। ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি, লালচে ভাব, র‌্যাশের কারণ মূলত প্রদাহ। ভাতের ফ্যানে থাকা অ্যালানটইন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকে অস্বস্তির সমস্যা দূরে থাকে।

ত্বক সুস্থ থাকলে কোলাজেন ভাল কাজ করে। ত্বকের টানটান ও মসৃণ ভাব বজায় রাখার জন্য যা জরুরি। যেহেতু ভাতের ফ্যানে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে ত্বককে সুস্থ রাখে, তাই কোলাজেনও সক্রিয় হয়। ত্বক হয় তারুণ্যে ভরা। তাতে যেমন মাখনের মতো উজ্জ্বল বিভা থাকে, তেমনই থাকে কাচের মতো ঝকঝকে মসৃণ ভাব।

তবে কারা ভাতের ফ্যান খাবেন না?

অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অল্পবয়সি শিশু, ডায়াবিটিসের রোগী, গ্যাসের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে যাঁদের এবং যাঁরা দিনে বেশ কয়েক বার ভাত খান, তাঁদের ভাতের ফ্যান আলাদা করে না খাওয়াই ভাল।

Rice Water Rice Water Skin Care Glass Skin Korean Glass Skin

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy