উচ্ছে বা করলা খেতে চায় না অনেক শিশুই। তেতো দেখলেই নাক সিঁটকায়। অথচ বর্ষার মরসুমে সংক্রামক অসুখবিসুখ থেকে বাঁচতে পাতে তেতো রাখারই পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাই ছোটদের তেতো খাওয়ানোর এক কৌশল শিখে নিতে পারেন বাবা-মায়েরা। করলা দিয়েও বানানো যায় মুচমুচে সব স্ন্যাক্স। করলার চিপস থেকে কাটলেট— নানা প্রকার স্ন্যাক্স তৈরির প্রণালী শেখালেন রন্ধনশিল্পী কুণাল কপূর। কম তেল ও মশলা দিয়ে ছোটদের জন্য বানিয়ে দিতে পারেন।
করলার চিপ্স
করলার চিপ্স
২-৩টি করলা ভাল করে ধুয়ে নিয়ে গোল গোল করে কেটে নিন। এ বার নুন-জলে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। তার পরে নুন, হলুদ ও লেবুর রস মাখিয়ে ম্যারিনেট করে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এতে করলার অতিরিক্ত তেতো ভাব দূর হবে। এ বার করলার টুকরোগুলিতে বিটনুন, হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো, আমচুর পাউডার, কর্নস্টার্চ এবং বেসন মিশিয়ে ভাল করে মেখে নিন। প্রতিটি করলার ভিতর যেন মশলা ঢোকে তা দেখতে হবে। প্যানে অল্প তেল গরম করে মশলা মাখানো করলার টকরোগুলি এপিঠ-ওপিঠ লাল করে ভেজে নিন। মুচমুচে হয়ে গেলে নামিয়ে নিয়ে ধনেপাতা বা পুদিনার চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
পুরভরা করলা টোস্ট
পুরভরা করলা টোস্ট
করলা ভাল করে ধুয়ে নিয়ে লম্বা করে কেটে নিন। ভিতরের বীজ বার করে সামান্য ভাপিয়ে নিন। এ বার সেদ্ধ আলু, পনির, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা দিয়ে মেখে পুর তৈরি করে নিন। এতে সামান্য হলুদ ও লঙ্কাগুঁড়ো, ভাজা জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। করলার ভিতরে এই পুর ঠেসে সেগুলিকে বেসনের ব্যাটারে ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বে মাখিয়ে নিয়ে অল্প তেলে এপিঠ-ওপিঠ লাল করে ভেজে নিন। এয়ার ফ্রায়ারে করতে চাইলে ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২০ মিনিট রাখতে পারেন। মুচমুচে হলে বার করে নিন।
করলার কাটলেট
করলার কাটলেট
প্রথমে ২-৩টি করলা মিহি করে কুচিয়ে নিতে হবে। এ বার নুন-জলে ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। আলাদা পাত্রে গাজর, বিন, আলু কেটে ধুয়ে রাখুন। কড়াইয়ে সামান্য তেল দিয়ে তাতে জিরে ফোড়ন দিন। এ বার আদাবাটা দিয়ে নেড়ে তাতে করলা ও বাকি সব্জি দিয়ে নাড়তে থাকুন। সামান্য হলুদ, লঙ্কা ও জিরেগুঁড়ো দিন। নুন ও মিষ্টি স্বাদমতো দিতে হবে। সব্জি সেদ্ধ হলে চাটমশলা ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। সামান্য ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে মেখে কাটলেটের আকারে গড়ে নিন। এই কাটলেটগুলি ব্রেড ক্রাম্বে মাখিয়ে অল্প তেলে সেঁকে নিন।