বয়সের সঙ্গে মুখের চামড়া ঝুলে গেলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তা ঠিক করার উপায় নেই বললেই চলে। আগে থেকে পরিচর্যা, ফেস ম্যাসাজারের ব্যবহার চামড়া অনেকটা বয়স পর্যন্ত টানটান ও সতেজ রাখে। তবে মুখে বয়সের ছাপ পড়তে না দেওয়া, চামড়া যাতে ঝুলে না যায়, তার জন্য ফেস লিফট সার্জারির পরামর্শ দেন কসমেটিক সার্জনরা। কিন্তু এটি খরচসাপেক্ষ। মধ্যপন্থা হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে ফেস লিফট মাস্ক বা ভি-লাইন মাস্ক। এখানে মুখের চোয়াল থেকে কান বা মাথা পর্যন্ত একটি মাস্ক পরে থাকতে হয়। লিফটিং মাস্ক ও তার মধ্যে থাকা উপাদান ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন উপকারে আসে এই মাস্ক। যেহেতু এটি চোয়াল বরাবর পরা হয়, তা মুখের চামড়া উপরের দিকে ধরে রাখে। সিলিকন জাতীয় উপাদান দিয়ে এই মাস্ক তৈরি হয়। চোয়াল, গালের ফোলা অংশ, ডাবল চিন... মুখের আকৃতি ঠিক রাখতে সাহায্য করে এটি। অনেকেই রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে এটি পরে নেন, সকালে উঠে খুলে ফেলেন। ঘুম থেকে উঠলে অনেকেরই মুখ-চোখ ফোলা থাকে। প্রসাধনী সংস্থাগুলির দাবি, এই মাস্ক পরলে মুখের ফোলা ভাব দূর তো হবেই, চোয়াল, চিবুকের গঠন সুন্দর হবে। রাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য এটি পরতে না চাইলে দিনের যে কোনও সময়ে ঘণ্টাখানেকের জন্য পরা যায়।
সিলিকন স্ট্র্যাপ, হাইড্রোজেল শিট... নানা ধরনের মাস্ক হয়। কোনওটি বেশ কয়েকবার ব্যবহার করা যায়। কোনওটি একবার মাত্র। সাধারণত সিলিকন স্ট্র্যাপ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করা যায়। এটি ধুয়ে নেওয়া যায়। দাম মোটামুটি ২০০-১০০০ টাকার মধ্যে।
এই মাস্কের মধ্যে পেপটাইড, কোলাজেন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড জাতীয় উপাদান দেওয়া থাকে, যা ধীরে ধীরে চামড়ার মধ্যে মিশে গিয়ে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ করে। ফেস লিফট বা ভি-লাইন মাস্ক এখন ট্রেন্ডিং। যদিও ত্বক বিশেষজ্ঞ বা কসমেটিক সার্জনরা এই পদ্ধতিতে আস্থা রাখেন না। তাঁদের মতে, এই ধরনের মাস্ক একেবারেই সাময়িক সমাধান। বরং দীর্ঘ সময়ে ভি-লাইন মাস্ক পরে থাকলে তা মুখের পেশির উপরে চাপ ফেলে। সকলের মুখের আদল এক নয়, তাই বাজারচলতি মাস্ক সকলের ক্ষেত্রে এক রকম কাজ দেবে না। গালের মেদ, ডাবল চিন কমাতে মুখের ব্যায়াম অনেক কার্যকর বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
মাস্ক কেনার আগে ভাল করে দেখে নিন এর নিয়মাবলি। এটি পরার পরে কোনও অস্বস্তি হলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বয়সের ছাপকে দূরে সরাতে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা, মাসাজ, ব্যায়াম, সুষম আহার ও নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম অনেকটাই কাজে দেবে।