সারা বছর যতই জামাকাপড় কেনা হোক না কেন, পুজোর আগে কেনাকাটার মজাই আলাদা। একমাসও বাকি নেই দুর্গাপুজোর, তাই এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু না করলে চলবে না। দেখে নেওয়া যাক এ বারের পুজোর ট্রেন্ড।
ছবি: সায়ন্তন দত্ত।
ক্যাজ়ুয়ালেই কেতা
বাঙালির কাছে পুজো মানেই সাবেকিয়ানা। তবে প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্য ক্যাজ়ুয়াল পোশাক বেশি আরামদায়ক। সকালের দিকের ঘোরাঘুরির জন্য লং ড্রেস কিংবা ডেনিম জুতসই হতে পারে। শরতের মেঘের সঙ্গে মিলিয়ে উজ্জ্বল রঙিন লং ড্রেস দিব্যি জমে যাবে। ফ্লোরাল, জিয়োমেট্রিক কিংবা একরঙা ড্রেস এ বারেও ফ্যাশনে রয়েছে।
যাঁরা ডেনিমে অভ্যস্ত তাঁরা পুজোর সাজ হিসেবে কাফড ডেনিম কিনতে পারেন। একটু ওয়াইড লেগ কাফড ডেনিম এ বারের ফ্যাশন। ‘ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু’তে অ্যান হ্যাথওয়ে কাফড ডেনিমের উপরে ব্লেজ়ার জ্যাকেট এবং স্কার্ফ দিয়ে স্টাইল করেছিলেন। তার পর থেকেই এই স্টাইল ফের জনপ্রিয় হয়েছে। এই ধরনের ডেনিমের উপরে বড় প্রিন্টের শার্ট, বোহো শার্ট পরতে পারেন। টপ বা শার্টের পিঠের দিকে ভরাট প্রিন্ট বা নকশা এ বারে জনপ্রিয়। টিনএজারদের জন্য বিভিন্ন সংস্থা দারুণ সব কোটেশন ও প্রিন্টের পসরা সাজিয়েছে। যাঁরা মধ্য তিরিশ বা চল্লিশের ঘরে, তাঁরা কাফড ডেনিমের সঙ্গে একরঙা টপের উপরে সেই রঙের সামার জ্যাকেট বেছে নিন। সলিড অন সলিড দেখতে ক্লাসি লাগে।
ছবি: সায়ন্তন দত্ত।
সালোয়ার-সাজে
সালোয়ার কামিজ়ের কাট ও নকশায় প্রতি বছরই কোনও না কোনও বদল আসে। গত বছর সিগারেট প্যান্টসের সঙ্গে মাঝারি বা হাঁটুর নীচ পর্যন্ত ঝুলের কামিজ় ট্রেন্ডিং ছিল। তার আগে ছিল পালাজ়ো প্যান্টস ও কামিজ়। এ বার সেই জায়গা নিয়েছে ফার্সি সালোয়ার। ইরানি মেয়েরা যেমন ধাঁচের কামিজ় ও পাজামা পরে সেই রকম স্টাইলে পোশাক বাজার মাতাচ্ছে। এখানে কামিজ়ের ঝুল থাকবে হাঁটুর উপরে। পায়ের নীচের দিকের অংশ চওড়া, তবে পালাজ়োর মতো নয়। ফার্সি সালোয়ারের বৈশিষ্ট্য হল এর কারুকাজ। ঘন বা ছিমছাম নকশা থাকবে কামিজ়ে এবং পায়ের গোড়ালির কাছে, সঙ্গে কাজ করা দোপাট্টা। উপর ও নীচের অংশে আলাদা রং পছন্দ করতে পারেন বা একরঙাও। এ বারেও বাজারে একরঙা কো-অর্ডস সেট জনপ্রিয়। নতুন করে জনপ্রিয় হয়েছে শরারা, শহরের দোকানপাট ঘুরলেই তা বেশ বোঝা যায়। গত বছর ছিমছাম কামিজ়ের সঙ্গে ঘন কারুকাজ করা দোপাট্টা জনপ্রিয় হয়েছিল। এ বার কিন্তু কামিজ় আর দোপাট্টা, দুটোতেই ডিজ়াইনের বাহুল্য দেখা যাচ্ছে।
ইন্দো-ওয়েস্টার্ন
বছরভর অনুষ্ঠান বাড়ির সাজের ভরসা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক। ভারতীয় ফ্র্যাব্রিক দিয়ে পশ্চিমি কাটের ড্রেস এ বারেও ট্রেন্ডে। ইক্কত, জামদানি কিংবা বেনারসির কাপড় দিয়ে শর্ট, লং ড্রেস, করসেট-স্কার্ট বানিয়ে নিতে পারেন। ভাল ডিজ়াইনার স্টোরে এগুলো এমনিও পেয়ে যাবেন। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন স্টাইলে ড্রেপড স্কার্ট বাছতে পারেন। ক্রপ টপ, করসেট দিয়ে নিজের লুক তৈরি করুন।
ছবি: সায়ন্তন দত্ত।
শাড়িতে সাবেক-আধুনিক
অষ্টমীর অঞ্জলি হোক কী দশমীর রাতের আড্ডা, শাড়ি ছাড়া পুজোর সাজ জমবে না। পুজোর ক’দিন লোকাল ইজ় গ্লোবাল থিমে আস্থা রাখতে পারেন। বাংলার সাবেক তাঁত, ধনেখালি, টাঙ্গাইল, জামদানি আপনার শারদসাজের সঙ্গী হোক। ড্রেপিংয়ের বৈচিত্রে ছিমছাম তাঁতের শাড়িও মোহময়ী লুক তৈরি করতে পারে। ক্রপ টপ আর একরঙা সুতির শাড়িতে সকালের প্যান্ডেল হপিংও হয়ে যায়। রাতের দিকের জন্য গাঢ় রঙের সিল্ক বাছতে পারেন। এ বার শাড়ির আঁচল ও পারে নকশা আর জরির কাজ ইন। পুজোয় সময়ে বৃষ্টির চোখরাঙানির ভয় আছে, তাই শাড়ির লিস্টে ভাল প্রিন্টের শিফন-ক্রেপ রাখতে পারেন। ঐতিহ্যবাহী শাড়ির মধ্যে কাঞ্চি কটন, মাহেশ্বরী, তেলিয়া সিল্ক পরতে পারেন।
সম্প্রতি এইটিস ট্রেন্ড বাজার মাতিয়েছে, যেখানে সকলে আশির দশকের সাজে কেমন দেখতে লাগবে এমন ছবি পোস্ট করছিলেন। চ্যাটজিপিটি-কে দিয়ে তৈরি সেই লুকে সে অর্থে বৈচিত্র ছিল না। তবে আশির সাজ বাস্তবিকই জমজমাট ছিল। সেই ট্রেন্ডই প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে। সাজ বাছাইয়ের সময় খেয়াল রাখুন এ বারের ট্রেন্ড ম্যাক্সিমালিস্ট। তাই মন খুলে সাজুন।
ছবি: সায়ন্তন দত্ত, মডেল: সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, নিধি মাহেশ্বরী, হৃদিকা বিশ্বাস, মেকআপ: নব মাইতি, হেয়ার: সুজয় বণিক, স্টাইলিং: প্রলয় দাশগুপ্ত, পোশাক: আদি অক্ষয় অ্যান্ড কোম্পানি, সিমায়া, ভেরো মোডা; গয়না: দিভ্যাস; লোকেশন: এনএক্স এলিট, বাইপাস