চটজলদি রান্নার জন্য প্রেশার কুকার আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ব্যবহারের সময়ে ছোট ছোট ভুল ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। কুকার বিস্ফোরণের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে অসাবধানতার কারণে, যন্ত্রের দোষে নয়। তাই নিশ্চিন্তে রান্না করতে চাইলে ব্যবহারের সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক না থাকলেই নয়। জেনে নিন, কোন কোন ভুলের কারণে অজান্তেই বিপদ ডাকছেন।
১) কুকারে রান্নার সময়ে এর ধারণক্ষমতার দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। কুকার কখনওই দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভর্তি করবেন না। বিশেষ করে ডাল বা ঝোলজাতীয় খাবার রান্নার ক্ষেত্রে পাত্রটি অর্ধেকের বেশি না ভরাই ভাল। কারণ, রান্নার সময়ে এ জাতীয় খাবারে ফেনা তৈরি হয়, যা সেফটি ভালভ বা ভেন্ট পাইপ আটকে ফেলতে পারে। সেই সঙ্গে রান্নায় পর্যাপ্ত জল দেওয়া জরুরি, নইলে কুকার অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২) কুকারের ভিতরের রবারে গ্যাস কিটটি বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করেন কেউ কেউ। এই ভুলের কারণেই যখন তখন বিপদ ঘটতে পারে। প্রতি ১২-১৮ মাসের মধ্যে গ্যাস কিটটি বদল করুন। শুধু রাবারটি নয়, কুকারের হুইসলও নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদল করা জরুরি।
৩) কুকারে রান্না হয়ে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তা না খোলাই ভাল। কুকারের ভিতরের ভাপ নিজে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় দিন। খুব বেশি তাড়াহুড়ো থাকলে হাতা বা খুন্তির সাহায্যে কুকারের ভাপ ভাল করে বার করে নিয়ে তার পরেই ঢাকনা খুলুন।
৪) রান্নার সময়ে কুকার থেকে জল বেরোতে শুরু করলে সবার আগে গ্যাস বন্ধ করুন। কুকারের ঠান্ডা হওয়ার পর ঢাকা খুলে আবার ভাল করে বন্ধ করে গ্যাসে বসান। তার পরেও একই সমস্যা হলে সেই কুকার ব্যবহার না করাই ভাল। সারাই করে তার পরেই সেটি ব্যবহার করা উচিত।
৫) হুইসল বা ভেন্ট পাইপে খাবারের কণা জমে থাকলে তা পরিষ্কার করুন। কুকারের এই অংশগুলি পরিষ্কার না করলে শুধু পেট খারাপের আশঙ্কা তৈরি হয় না, বড় বিপদ ঘটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।