ছাঁকা তেলে ভেজে সোনালি রঙের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই যেন নেশার মতো। খাওয়া শুরু করলে থামা যায় না। কিন্তু ছাঁকা তেলে ভাজা খাবারে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট ও ক্যালোরি থাকে, যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই এমন খাবার যথাসম্ভব কমিয়ে ফেলা ভাল। এ রকম পরামর্শ দেন চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু স্বাদকোরকের বায়না তো আপনাকেই সামলাতে হয়। সে ক্ষেত্রে যদি এমন এক পথ খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে মুচমুচে, সুস্বাদু ফ্রেঞ্চ ফ্রাইও খাওয়া হবে, আবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হবে না!
ছাঁকা তেলে ভাজা তো দূরঅস্ত, তেলই ব্যবহার হবে না মুচমুচে মোটা আলু ভাজায়। নেটপ্রভাবী এবং রন্ধনশিল্পী জোসেফ গিটার একটি পন্থা শেখালেন। তার জন্য কী করতে হবে? অনেকেই অভেনে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বেক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু মুচমুচে ব্যাপারটা ঠিক আসে না। তা হলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে?
ছাঁকা তেলে ভাজা তো দূরঅস্ত, তেলই ব্যবহার হবে না মুচমুচে মোটা আলু ভাজায়। ছবি: সংগৃহীত
ছাঁকা তেলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মুচমুচে হয় কেন?
তেলে ভাজা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মুচমুচে ও নরম করার রহস্য হল, দু’বার ভাজা। প্রথম বার ভাজলে আলুর স্টার্চ গলে একটি জেল তৈরি করে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ভিতরটা নরম করে। দ্বিতীয় বার ভাজলে সেই জল শুকিয়ে যায় এবং স্টার্চের একটি শুকনো স্তর তৈরি হয়, যা চমৎকার মুচমুচে করে তোলে পদটি।
নতুন পন্থায় তা হলে কী করা হচ্ছে?
রন্ধনশিল্পী আসলে আলুর স্টার্চের বদলে তেমনই একটি উপকরণ ব্যবহার করেন। আর তা হল, কর্নফ্লাওয়ার। শিখে নিন ধাপে ধাপে—
· তিন টেবিলচামচ কর্নফ্লাওয়ার আর এক কাপের তিন-চতুর্থাংশ জল নিয়ে ভাল করে গুলিয়ে নিন।
· মাইক্রোওয়েভ অভেনে ঢুকিয়ে একটু গরম করে নিন। তার পর সেটিকে ভাল করে ফেটিয়ে নিন, যাতে ঘন হয়ে যায়।
· আলুর স্টার্চের বদলে আগে থেকে তৈরি করা স্টার্চ ব্যবহার করা হচ্ছে এতে।
· এ বার বড় পাত্রে সেই স্টার্চের ঘন মিশ্রণ রেখে তাতে আলুর সমস্ত টুকরো ঢেলে ভাল করে মিশিয়ে দিন।
· এ বার অভেনে দিয়ে সোনালি রং ধরা পর্যন্ত বেক করতে হবে। স্টার্চটি আলুর চারপাশে একটি মুচমুচে পরত তৈরি করে।
· আর মিশ্রণে যেটুকু জল ছিল, তা বাষ্পীভূত হয়ে যায় অভেনে, ফলে মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরি হয়ে যায়।