ভাত রান্নার আগে চাল ধোয়ার জল হোক বা ভাত সেদ্ধ করার পরে ফ্যান, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট হিসেবেই দেখা হয়। তাই সেই জলের জায়গা হয় নর্দমায়। অথচ ফেলে দেওয়া ওই জলই টবের গাছের যত্নে কাজে লাগতে পারে। আপনার বারান্দার বাগানের ছোট ছোট একাধিক গাছের জন্যই তা হয়ে উঠতে পারে সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠার চাবিকাঠি।
চাল ধোয়া বা সেদ্ধ করার পরে বেঁচে যাওয়া জলে অল্প পরিমাণে স্টার্চ ও কিছু খনিজ থাকে। এগুলি মাটির উপকারী অণুজীবের কাজকে সাহায্য করতে পারে। ফলে নিয়মিত গাছের পরিচর্যার অংশ হিসেবে এই জল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটিকে কোনও জাদুকরি সার ভাবার কারণ নেই। শুধু চাল বা ভাতের ফ্যান ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি মিলবে না। বরং গাছের পরিচর্যার অন্য উপায়গুলির সঙ্গে এটিকে অতিরিক্ত পরিচর্যা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
কোন ৫টি গাছে চাল বা ভাতের ফ্যান ব্যবহার করবেন?
পিস লিলি
পিস লিলি ঘরের অন্দরসজ্জায় বহুল ব্যবহৃত একটি গাছ। এই গাছের মাটিতে ভাতের ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীবের জন্য ভাতের ফ্যানের সামান্য স্টার্চ কাজে লাগতে পারে। তবে গাছের গোড়ায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। অতিরিক্ত স্টার্চযুক্ত জল আবার শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে। কয়েক সপ্তাহ অন্তর এই পদ্ধতিতে গাছের যত্ন নিতে পারেন।
মানিপ্লান্ট
ঘরে ঘরে মানিপ্লান্ট দেখা যায়। কেউ কেউ আবার অফিসের ডেস্কেও এই গাছ রাখেন। জলে কিংবা মাটিতে, দু’ভাবেই এটি রাখা হয়। মাটিতে লাগানো মানিপ্লান্টে ভাতের ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু ভাতের ফ্যান দিলেই এই গাছ দ্রুত বেড়ে উঠবে, এমন নয়। পর্যাপ্ত আলো, সঠিক পরিমাণ জল এবং ভাল মাটিও প্রয়োজন।
টম্যাটো গাছ
শুধু পাতাবাহার নয়, টম্যাটোর মতো সব্জির গাছেও ভাতের ফ্যান বা চালধোয়া জল ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট ছোট টবে লাগানো টম্যাটো গাছের নিয়মিত পরিচর্যার অংশ হিসেবে এই জল ব্যবহার করা যায়। তবে এই গাছের পুষ্টির প্রয়োজন বেশি, তাই শুধু এমন জলের উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
স্নেকপ্লান্ট
খুব কম যত্নআত্তিতেই বড় হতে পারে এই গাছ। এ ক্ষেত্রেও ভাতের ফ্যান বা চালের জল সারের কাজ করতে পারে। তবে অতিরিক্ত জল দেওয়া ঠিক নয়। তাই ভাতের ফ্যান ঢালার আগে টবের মাটি যথেষ্ট শুকিয়েছে কি না দেখে নেওয়া জরুরি।
পোথোস
পোথোসও অন্দরসজ্জার জনপ্রিয় গাছ। মানিপ্লান্টের মতো দেখতে এই গাছের ক্ষেত্রেও ভাতের ফ্যান এবং চালধোয়া জল পরিচর্যার একটি উপায় হতে পারে। ভাতের ফ্যান ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা যেন অতিরিক্ত বেড়ে না যায়, সে দিকেও নজর রাখা জরুরি।
ভাতের ফ্য়ান গাছে ঢালার সময়ে তিনটি ভুল করা যাবে না একেবারে। নয়তো উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে—
১. নুন বা মশলা মেশানো ভাতের ফ্যান দেবেন না। এতে গাছের ক্ষতি হতে পারে।
২. পাতার উপর জল ঢেলে দেবেন না। পাতায় জল বা স্টার্চজাতীয় পদার্থ জমে থাকলে পরিচর্যায় সমস্যা হতে পারে। তাই গাছের গোড়াতেই অল্প করে জল দিতে হবে।
৩. ঘন ঘন ভাতের ফ্যান দেবেন না। মাটিতে স্টার্চ বা অন্যান্য উপাদান জমে যেতে পারে। এতে মাটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং গাছের ক্ষতিও হতে পারে।