মার্বেল, টাইলসের চেনা ফ্লোরিং ছাড়াও ঘরের মেঝে মুড়ে ফেলার এমন কিছু বিকল্প রয়েছে, যা একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই, সুদৃশ্য এবং খুব একটা খরচসাপেক্ষও নয়। জেনে নিন এমনই কয়েকটি বিকল্প।
- রেড অক্সাইড ফ্লোরিং বা লাল মেঝে: সনাতন এই মেঝে পুরনো দিনের বেশির ভাগ বাড়িতেই দেখতে পাওয়া যেত। এখনও চাইলে এই মেঝে করানো যায়। তাপমাত্রা বেশি শোষণ করে না বলে এই মেঝে বেশ ঠান্ডা থাকে। পরিষ্কার করাও সহজ। কালো বর্ডার, হরেক আধুনিক ডিজ়াইনে সাজিয়ে তোলা যায় লাল মেঝে। এর উপরে সাদা নকশা বা আলপনার কারুকাজও ভাল লাগে।
- রেড ব্রিক ফ্লোরিং: ইট দিয়ে এই ফ্লোরিংয়ের চল সাধারণত বাড়ির বাইরের অংশে দেখা যায়। তবে ইদানীং রান্নাঘর কিংবা টানা বারান্দাতেও এই ধরনের ব্রিক ফ্লোরিং বেছে নিচ্ছেন অনেকে। এটি বসাতে খরচও বেশি হয় না। তবে উপরে যথাযথ কোট না দিলে এই ধরনের মেঝের জল শোষণ করার প্রবণতা থাকে। ব্রিক ফ্লোরিংয়ে নানা ধরনের প্যাটার্নড ডিজ়াইনও করানো যায়।
- কংক্রিট ফ্লোরিং: একেবারে বেসিক পদ্ধতি মেনে কংক্রিটের এই ফ্লোরিং করালে মেঝের স্থায়িত্ব অনেক দিন থাকবে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘরের ইন্টিরিয়র করান, তা হলে ম্যাড়মেড়ে লাগবে না।
- স্টোন ফ্লোরিং: কাডাপ্পা স্টোন, কোটা স্টোন... এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রচলিত স্টোন ফ্লোরিং বেছে নিতে পারেন ঘরের জন্য। এর সুবিধে হল, মেঝে ঠান্ডা ও টেকসই থাকে। তবে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমের রাজ্যগুলি থেকে এই ধরনের স্টোন আনানো হয় বলে দাম কিঞ্চিৎ বেশি হয়। এ ছাড়া নানা রাজ্যের স্থানীয় নকশার সিমেন্ট টাইলসও পাওয়া যায়, যা দিয়ে মুড়ে ফেলা যায় মেঝে।
- উডেন ল্যামিনেট ফ্লোরিং: কাঠ নয়, বরং কম্পোজ়িট উপকরণে তৈরি এই ধরনের পাটাতনগুলি ইন্টারলকিং সিস্টেমে মেঝের উপরে লাগানো হয় একের পর এক। এর আর একটি সুবিধে হল, খুব কম সময়ের মধ্যে বসানো হয়ে যায়। টাইলসে দিন পনেরো লাগলে এটা এক বা দু’দিনেই হয়ে যায়। তবে এই ধরনের ল্যামিনেটেড ফ্লোরিং খুব একটা টেকসই নয়। ঘষা খেয়ে সহজেই নষ্ট হতে পারে। বর্ষায় আর্দ্রতা শুষে কিছু জায়গা ফুলে উঠতে পারে, হালকা গন্ধও হতে পারে। তবে এই ফ্লোরিং করানোর সময়ে এক বাক্স অতিরিক্ত কিনে রাখলে যে অংশটি খারাপ হয়েছে, সেটুকু সহজেই সারিয়ে নতুন বসিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
- টেরাজ়ো ফ্লোরিং: মার্বেল, গ্রানাইট, কোয়ার্টজ় ও অন্যান্য উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঢালাই করে ও শেষে পালিশ করে এই ধরনের ফ্লোরিং করানো যেতে পারে। তবে ইদানীং এই ফ্লোরিং করানোর কারিগর বা মিস্ত্রি পাওয়া সহজ নয়। একই কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মোজ়াইক ফ্লোরিংয়ের চলও কমে এসেছে। টেরাজ়ো টাইলসও পাওয়া যায়, যা ইপক্সি বাইন্ডার দিয়ে বসিয়ে নেওয়া যায়।
ইন্টিরিয়ার ডিজ়াইনার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত জানালেন, আজকাল ভিট্রিফায়েড টাইলসেও এত ধরনের বিকল্প এসে গিয়েছে বাজারে যে, পছন্দসই বেছে নেওয়ার হাজারটা অপশন। কিন্তু এই টাইলস বসানোর সময়ে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। তাঁর কথায়, “ন্যূনতম ৩ মিলিমিটার গ্যাপে টাইলস বসাতে হবে। মাঝে ইপক্সি গ্রাউটের ফিলিং থাকবে। এই স্পেসার দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্কোচন-প্রসারণের ফলে টাইলসে চিড় ধরবে না। এ ছাড়া আউটডোর ও ইনডোর, দু’ধরনের টাইলসেই পলিমার ওয়াটারপ্রুফিং করাতে হবে।” স্পেসার দিয়ে টাইলস বসানোর অসুবিধে হল, এর ফলে মেঝেয় একটানা লুক পাওয়া যায় না, খোপ কাটা নকশা থাকে। তবে টাইলস দীর্ঘমেয়াদি করতে চাইলে এই পদ্ধতির শরণাপন্ন না হয়ে উপায় নেই। টাইলস বসানোর ক্ষেত্রে দক্ষ কারিগর পাওয়াও খুব জরুরি। মার্বেল ফ্লোরিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল এর নিয়মিত পলিশিং ও যত্ন। শুধু মুছলেই যথেষ্ট নয়। তবে মার্বেলের যত্ন, মেরামত সব সময়েই খরচসাপেক্ষ।
বিভিন্ন ধরনের ফ্লোরিংয়ের দিকে এখন ঝুঁকছেন মানুষ। ফিরে যাচ্ছেন চিরাচরিত বিকল্পেও। লুক, ফিল-এর চেয়েও গুরুত্ব পাচ্ছে স্থায়িত্ব। তাই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নানা ধরনের ফ্লোরিং।