শিশুশিল্পী হিসাবে অভিনয় জগতে আসা। সিনেমাও করেছেন। তবে সাম্প্রতিক ‘মুসাফির ক্যাফে’র জনপ্রিয়তা তাঁকে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। ওয়েব সিরিজ়ে প্রীতির চরিত্র অভিনয়ে নজর কেড়েছেন মহিমা মকওয়ানা।
সিরিজ়ে প্রীতি মনের মতো করে সাজিয়েছিলেন ‘মুসাফির ক্যাফে’। বাস্তবেও কিন্তু মহিমার বাড়িতে রয়েছে ছোট্ট একটি কফি-কর্নার। ঘর জুড়ে আলোর কারিকুরি। দেখে নিন, অভিনেত্রীর মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটের আনাচকানাচ।
২৭ বছরের অভিনেত্রীর মু্ম্বইয়ে দু’টি থাকার জায়গা। তার মধ্যে একটি ফ্ল্যাটের ভিডিয়ো পাওয়া যায় ইউটিউবের ভ্লগে। ‘মুসাফির ক্যাফে’র প্রীতি অন্দরসজ্জার বিষয়ে বাস্তবে কতটা শৌখিন?
মহিমা মকওয়ানার বৈঠকখানা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
বৈভব নয় বরং মহিমার বাড়ির ঘর থেকে বৈঠকখানায় রয়েছে বোহো শৈলীর ছাপ। ফ্ল্যাটের চওড়া জানলা দিয়ে প্রচুর আলো ঢোকে প্রতিটি ঘরেই। আর এটাই বাড়িটি পছন্দের কারণ,অতীতে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন। মহিমা সেই আলোকেই কাজে লাগিয়েছেন অন্দরসজ্জায়। হালকা রঙা পর্দা তাঁর ফ্ল্যাটের জানলা জুড়ে। সরাসরি আলো আসে না, আসে স্বচ্ছ পর্দা ভেদ করে। ফলে নরম আলো ছড়িয়ে পড়ে ঘরের সর্বত্র।
বৈঠকখানার অন্দরসজ্জা। ছবি: সংগৃহীত।
মহিমার কথায়, বাড়ির মুখ্য সদস্য অবশ্য তিনি নন, তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী পরিন্দা (পোষ্য)। মূল দরজা দিয়ে ঢুকলেই বৈঠকখানা। তার একটি দেওয়াল জুড়ে রয়েছে বড় টিভি। একপাশে আরামদায়ক সোফা। রং নির্বাচনে খুব কৌশলী অভিনেত্রী। হালকা রঙের দেওয়াল, ঘরকে আলোকোজ্জ্বল করেছে। ঘরের নানা প্রান্তে সবুজের উপস্থিতি চোখের পক্ষে আরামদায়ক।
বৈঠকখানার জানলা দিয়ে দিনের বেলা সবসময়ে আলো আসে। ছবি:সংগৃহীত।
বৈঠকখানার পাশে রয়েছে আরও একটি ঘর। এখানে দেওয়াল রঙিন। কারুকাজ করা আয়না ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। আলো থেকে টেবিল— আসবাব অন্দরসাজের সঙ্গে মানানসই। নান্দনিকতার ছাপ স্পষ্ট। ছোট ফ্ল্যাটেও কী ভাবে জিনিসপত্র রাখলে, ঘর বড় দেখায়, সেই সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় মহিমার অন্দরমহলে ঢুঁ মারলে। রয়েছে ছোট্ট একটি কাঠের টেবিল, উপরে সুন্দর একটি বাতিদান। এই জায়গাটি এমন ভাবেই সাজানো, বসলে মনে হবে কফি বা ডিনার ডেটে এসেছেন।
ছোট্ট টেবিলটি নিজের মতো করে কফি-ডেট-এর জন্য সাজিয়েছেন মহিমা। ছবি:সংগৃহীত।
আরও দু’টি ঘর রয়েছে মহিমার ফ্ল্যাটে। প্রতিটি ঘরেই বড় বড় জানলা। সেই জানলা যাতে নজরে আসে, পর্দা বাছাইয়ে মনোযোগী হয়েছেন মহিমা। সুতোর কাজ করা ফোল্ডেড বা ভাঁজ করা পর্দা রয়েছে একটি ঘরে। তার পাশেই শৌখিন শো-কেশে সাজানো তাঁর পুরস্কার হিসাবে প্রাপ্তির স্মারক। প্রতিটি ঘরেই জিনিস রাখার জন্য দেওয়াল জুড়ে তৈরি হয়েছে মানানসই পাল্লা দেওয়া আলমারি।
মহিমার ফ্ল্যাটের একটি ঘর। ছবি:সংগৃহীত।
যে কোনও বাড়িতে শোয়ার ঘরটি নিয়ে অনেক ভাবনা থাকে। মহিমাও জানিয়েছেন, তাঁর সবচেয়ে পছন্দের ঘরটিকে মন দিয়ে সাজিয়েছেন। দেওয়ালে রঙের খেলা।
মহিমার শোয়ার ঘর। ছবি:সংগৃহীত।
নীল দেওয়ালে ময়ূরের ছবি। দেওয়াল রঙিন বলেই বিছানার চাদর থেকে কুশন একরঙা হালকা। স্থানে স্থানে ঝুলন্ত ছিমছাম আলো নান্দনিকতা বাড়িয়েছে। প্রতিটি ঘরেই রয়েছে রকমারি আয়না। আয়না শুধু ঘর বড় দেখায় না, বরং আলো ও আয়না, দু’টিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে, ঘর আরও বেশি আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে।