২২টি পোষ্যের জন্য উদ্যান, বাড়ির প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদা কটেজ, রয়েছে স্টুডিয়ো। বড় সন্তান জন্মানোর কয়েক মাসের মধ্যেই মুম্বইয়ের মঢ আইল্যান্ডে দেড় একরের বাংলো কিনছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সেই বাংলো যেন স্বপ্নরাজ্য!
তারকাদের স্মৃতিবিজড়িত সেই বাংলোর অন্দরে ঢুঁ মারবেন কি? অভিনেতার বড়ছেলের নামে তৈরি ‘মিমো কটেজ’ ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন মিঠুনের ছোটছেলে নমোশি চক্রবর্তী। সেই ভিডিয়ো এখন সমাজমাধ্যমে। জীবনের উত্থান-পতন, স্বপ্ন-বাস্তবের ঠাঁই বাংলোটি।
আঙিনায় রয়েছে হলুদরঙা গাড়ি। গাড়ি নয়, এ অভিনেতার বাড়িও বটে। ‘ডিস্কো ডান্সারের’ নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর মুম্বইয়ের অভিনয়জগতে পা রাখাটা মোটেই সহজ ছিল না। নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়েছিল প্রতি পদে। একসময় থাকার জায়গাও ছিল না। ১৯৮৫ সালে কেনা এই বাংলোয় সযত্নে রক্ষিত মিঠুনের প্রথম ‘ঘর’, হলুদ রঙের ভক্সওয়াগন বিট্ল। এই গাড়িতেই একসময় অভিনেতা ১৫ দিন কাটিয়েছিলেন। এই গাড়ি এখন আর চালানো যায় না। কিন্তু কঠিন দিনের স্মারক হিসেবে বাঙালি অভিনেতা সযত্নে তা রেখে দিয়েছেন।
যখন ঘর ছিল না, এই গাড়িতে ১৫ দিন কাটিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
৬৫ হাজার বর্গফুটের বাংলোয় প্রতিটি সদস্যের জন্য রয়েছে একটি করে কটেজ। চার দিকে বড় বড় গাছ, সুন্দর উদ্যানে সাজানো। বাগানের শখ অভিনেতার। একসময় নিজের হাতে গাছের পরিচর্যাও করেছেন তিনি। ২২টি পোষ্যের যাতে ঘোরাঘুরির অসুবিধা না হয়, সে জন্য বরাদ্দ বিরাট উদ্যানের একাংশ। তাদের থাকার জন্যও রয়েছে পৃথক বন্দোবস্ত।
বাড়ির দেওয়ালে সজ্জিত ছবি। ছবি:সংগৃহীত।
বাংলোর ভিতরের অংশ এতটাই বড় যে, সেখানে দিব্যি প্রাতর্ভ্রমণ বা সান্ধ্যভ্রমণ সেরে ফেলা যায়। বড় বড় কটেজের একটি এখন জিম, একটিতে তৈরি হয়েছে অফিস, একটি অতিথিদের জন্য, চতুর্থটি মিঠুন এবং তাঁর স্ত্রী যোগিতা বালির জন্য। মুম্বইয়ে এলে তাঁরা এখানে থাকেন।
সাজানো বাগান, ট্রি হাউস রয়েছে ভিতরে। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
একটি কটেজে সজ্জিত মিঠুনের জীবনের সাফল্যের গল্প। তাঁর প্রাপ্তি, পুরস্কারের ঝুলি, স্মরণীয় ছবি। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাওয়া থেকে মন্ত্রী-রাজনীতিকদের সঙ্গে ছবিও ঠাঁই পেয়েছে সেখানে। ঘর জুড়ে রয়েছে অভিনেতার বিভিন্ন বয়সের স্মৃতিচিহ্ন।
মিঠুনের জনপ্রিয় নাচের দৃশ্য ছোট্ট মূর্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলোয় রয়েছে এমন অনেক কিছুই। ছবি:সংগৃহীত।
বাড়ির একটি অংশ এখন স্টুডিয়োয় রূপান্তরিত। সেটি ছবির শুটিং, বিয়েবাড়ি-সহ নানা কাজে ভাড়া দেওয়া হয়।
বাড়ির এই অংশে তৈরি হয়েছে স্টুডিয়ো। ছবি:সংগৃহীত।
এই বাড়ির আনাচকানাচে জীবন্ত বহু স্মৃতি। দীপাবলি-সহ নানা অনুষ্ঠানে ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র-সহ বহু তারকা এই বাংলোয় এসেছেন।