পর্দা শুধু ঘরের আড়াল নয়, অন্দরসজ্জার অংশও। খুব সাধারণ গৃহকোণও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠতে পারে, যদি তা রুচিসম্মত ভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। সেই সজ্জাতেই জুড়ে দিন শৌখিন, এক রঙা বা রংবাহারি পর্দা। ভারী, পাতলা, স্বচ্ছ, অর্ধ্বস্বচ্ছ্— রকামারি উপাদানের নানা নকশার পর্দা মেলে বাজারে।
দুর্গাপুজোর আগে ঘরের শোভাবর্ধনে কোন ধরনের পর্দা কিনতে পারেন? আপনার ঘরের সঙ্গে মানানসই হবে কোনটি?
ভারী পর্দা
শোয়ার ঘর বা শিশুর ঘরে এমন পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। কিছু পর্দা হয় বেশ ভারী, এগুলো তৈরি করা হয় বাইরের আলোর প্রবেশ এবং বাইরের তাপমাত্রা আটকাতে। মূলত গরমের দিনের জন্য এগুলি আরামদায়ক। তা ছাড়া, রাস্তার পাশে বা নীচের ঘর হলে, আড়াল পোক্ত করতেই এই পর্দাই বেছে নেওয়া যেতে পারে। দেওয়ালের রং যদি ক্রিম বা হালকা বেজ হয় বেছে নিতে পারেন চারকোল গ্রে, নস্যি রঙা, গাঢ় নীল পর্দা। আবার ঘরের দেওয়ালের রং গাঢ় হলে ধূসর, ক্রিম রঙের পর্দা হবে মানানসই।
শিফনের পর্দা
সুতোর কাজ করা শিফনের পর্দা। ছবি:সংগৃহীত।
যে বাড়ি বা ঘরে প্রাকৃতিক আলোর অভাব যথেষ্ট, সেখানে থাক শিফনের পর্দা। বিশেষত দোতলার ঘর হলে শরতের দিনে ঘর সাজাতে শিফনই হবে ভাল। এই সময় আকাশ থাকে নীল, গরমের বাড়াবাড়ি থাকে না। শিফনের পাতলা, অর্ধস্বচ্ছ পর্দা ভেদ করে সহজেই ঢুকে পড়ে সূর্যালোক। সুতোয় ফুলের নকশা তোলা পর্দা টাঙালে ঘরের রূপই বদলে যাবে।
জ্যামিতির নকশার পর্দা
জ্যামিতিক নকশার পর্দাও ঘরের শোভা বদলে দিতে পারে। ছবি:সংগৃহীত।
বাড়ির থিমে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে কিন্তু জ্যামিতিক নকশার পর্দা বেছে নিতে পারেন। গোলাকার, ত্রিকোণাকার, আয়তকার— বাজারে স্যাটিনের কাপড়ের উপর এই সব ছাপা পর্দার কাপড় পাওয়াই যায়। পুজোতে ঘরে ভোলবদল করতে এ রকম পর্দার কাপড় রাখতেই পারেন নিজেদের পছন্দের তালিকায়। সাদা বা হালকা রঙের পর্দা বেছে নিলে ঘর অনেক বেশি আলোকজ্জ্বল দেখায়।
সুতির লেস দেওয়া পর্দা
সুতির লেস দেওয়া পর্দা। ছবি:সংগৃহীত।
সুতির কাপড়ের পর্দা দেওয়া থাকলে হাওয়া চলাচলে কোনও অসুবিাই হবে না। তা ছাড়া, সুতির কাপড় শরতের আবহের সঙ্গে মানানসই হবে। নানা রকম নকশার লেস দেওয়া পর্দা পাওয়া যায়। ঘর সাজাতে দেওয়ালের রঙের সঙ্গে মানাবে এমন পর্দা বেছে নিন।
অর্ধস্বচ্ছ পর্দা
ফুলছাপ সুতি বা শিফনের পর্দা কখনই পুরনো হয় না। এই ধরনের পর্দার নিজস্ব আবেদন থাকে। ছিমছাম অন্দরসাজের সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে যায়। ঘরের আসবাব জমকালো হলেও হালকা পর্দা দৃষ্টিনান্দনিকতায় সামঞ্জস্য আনতে পারে।