গাছ বড় হচ্ছে, কিন্তু টব একই জায়গায় আটকে। ফলে, এক সময়ে শিকড়ের জন্য জায়গা ফুরিয়ে যায়, আর শুরু হয় টব বদলের ঝক্কি। গাছের এক এক পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন টব। কিন্তু যদি এমন হয়, গাছের সঙ্গে সঙ্গে টবও বাড়তে থাকে? শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, বাস্তবে এমনই এক অভিনব টব তৈরি হয়েছে। নাসার মহাকাশ গবেষণা বা স্যাটেলাইটের বিজ্ঞান থেকে অনুপ্রাণিত এই টব এখন বাগানপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেলিক্স’। ভাঁজে ভাঁজে তৈরি হয়েছে এই টব। গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আট বার ভাঁজ খুলে টবটি বড় করা যায়। ফলে টব বদলের ঝক্কি পোহানোর প্রয়োজন পড়ে না। গাছও সুস্থ ভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথম দেখায় এটি সাধারণ টবের মতোই। কিন্তু এর বিশেষত্ব লুকিয়ে রয়েছে নকশার মধ্যে। শুরুর দিকে এই টবের ধারণক্ষমতা কেবল ০.২৫ লিটার। গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটিকে প্রসারিত করা যায়। তখন সেটিই হয়ে ওঠে ২ লিটার ধারণক্ষমতার টব। অর্থাৎ একটি টবই প্রায় আট গুণ পর্যন্ত বড় হতে পারে।
গাছের বৃদ্ধি অনুযায়ী টবের আকার বাড়িয়ে নেওয়ার সুবিধা। ছবি: ফেসবুক
সাধারণত গাছের শিকড় যখন টবের ভিতরে জায়গা পায় না, তখন সেটিকে নতুন টবে বসাতে হয়। কাজটি খুব সহজ মনে হলেও সময়, ধৈর্য এবং পারদর্শী হওয়া প্রয়োজন। ভুল হলে শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ‘হেলিক্স’ সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে চায়। গাছের বৃদ্ধি অনুযায়ী টবের আকার বাড়িয়ে নেওয়া গেলে শিকড়কে অযথা নাড়াচাড়া করতে হয় না।
গাছের গোড়ায় জল দিতে হয় না, জল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে টবের নীচে। ছবি: ফেসবুক
এই টবের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর তা হল, গাছের গোড়ায় জল দিতে হয় না, জল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে টবের নীচে। সেখান থেকে প্রয়োজন মতো জল টেনে নেয় টব লাগোয়া সলতে। প্রায় ২ সপ্তাহের মতো জল ভরে রাখা যায়। ফলে কিছু দিন বাড়ির বাইরে থাকলেও চিন্তা নেই। গাছ শুকিয়ে যাবে না। তা ছাড়া পরিবেশের দিক থেকেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। টবটি পুনর্ব্যবহৃত উপাদান দিয়ে তৈরি।
প্রযুক্তি আর প্রকৃতির এই মেলবন্ধন দেখিয়ে দিচ্ছে, ভবিষ্যতের বাগানচর্চা গাছের পরিচর্যাকে আরও সহজ এবং টেকসই করে তুলবে।