বাঙালিদের রান্নাঘরে চিংড়ির কথা উঠলে মালাইকারি শব্দটিও আপনা হতেই চলে আসে। নারকেলের দুধ আর হালকা মশলার মেলবন্ধনে তৈরি ওই পদ বাঙালি ভোজে থাকা মানে সেই ভোজ রাজকীয়ই হবে। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, চিংড়ির কদর রয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খাদ্যরসিকদের মধ্যে। ভারতের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি দিয়ে তৈরি হয় নানারকম সব ঐতিহ্যবাহী পদ। আর তাদের জনপ্রিয়তাও মালাইকারির থেকে কম কিছু নয়।
৫ রাজ্যের ৫ বিখ্যাত চিংড়ির রান্না
গোয়ান প্রন বালচাও : গোয়ার পর্তুগিজ সংস্কৃতির অন্যতম সেরা সৃষ্টি এটি। তেঁতুল, শুকনো লঙ্কা এবং ভিনিগারের তীব্র ও মশলাদার মিশ্রণে তৈরি এই পদটি এক ধরণের আচারের মতোই। যা চালের তৈরি ‘সান্না’ বা গরম ভাতের সঙ্গে দারুণ জমে।
কেরালা প্রন রোস্ট বা চেম্মিন রোস্ট : নারকেল তেল, কারিপাতা এবং ছোট পেঁয়াজ বা শ্যালট দিয়ে তৈরি কেরালার এই পদটি বিশ্ব বিখ্যাত। চিংড়িকে মশলায় কষিয়ে ঘন ও শুকনো করে বানানো হয় রান্নাটি। যা পরিবেশন করা হয় পরোটা বা ‘আপ্পাম’-এর সঙ্গে।
উত্তর প্রদেশের ঝিংগা নিশাত : আওয়াধি রন্ধনশৈলীর এই পদটি রাজকীয় স্বাদের জন্য পরিচিত। এটি মালাইকারির মতো হলেও এতে কাজুবাদাম বাটা, জাফরান এবং দইয়ের ব্যবহার হয়। ফলে মশলাদার গ্রেভিতে এক ধরনের মোলায়েম ভাব তৈরি হয়, যা উত্তর ভারতের নবাবী স্বাদের পরিচায়ক।
তামিলনাড়ুর এরা থোক্কু : দক্ষিণ ভারতের মশলাদার রান্না। টম্যাটো, পেঁয়াজ, সর্ষে এবং বিশেষ চেট্টিনাড় মশলা দিয়ে চিংড়িকে ধিমে আঁচে কষিয়ে এই পদটি তৈরি হয়, যা ভাতের সঙ্গে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে খেতে।
মারাঠি মালবাণী প্রন কারি : মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন উপকূলের এই রান্নাটিতে নারকেল, তিল এবং বিশেষ মালবাণী মশলার ব্যবহার দেখা যায়। নারকেলের মিষ্টি স্বাদ আর মশলার ঝাল মিলে এক অনন্য স্বাদ তৈরি করে। যা মহারাষ্ট্রে অত্যন্ত জনপ্রিয়।