বাজারে এখন শীতের সব্জির ছড়াছড়ি। ফুলকপিও পাওয়া যাচ্ছে দেদার। ডালনা-ঘণ্ট-চচ্চড়ি-ছেঁচকি— বাঙালির হেঁশেলে শীতের এই সব্জির কদর একটু বেশিই। বড়সড় সাদা দেখে যে কপিটি কিনে আনছেন, সেটি আদৌ খাঁটি তো? ব্যবসায়ীরা অনেক সময় বেশি দিন তাজা দেখাতে ফুলকপিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশায়। তাই দেখতে একটু বেশিই সাদা লাগে। ফুলকপি কেনার সময়ে তাই দাম দেখার পাশাপাশি আরও কয়েকটি জিনিসও দেখে নিতে হবে।
টাটকা ফুলকপি চেনার উপায় কী?
১) ফুলগুলি ঘন ও শক্ত ভাবে গাঁথা রয়েছে কি না দেখে নিন। টাটকা ফুলকপির প্রতিটি ফুল একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত শক্ত ভাবে এবং ঘন হয়ে লেগে থাকে। যদি ফুলগুলি আলগা থাকে বা মাঝে অনেকটা করে ফাঁক থাকে, তা হলে বুঝতে হবে সেটি টাটকা নয়।
২) চকচকে সাদা হলে সেই কপি না কেনাই ভাল। টাটকা ফুলকপির রং হালকা ঘিয়ে হবে। তা দেখেই কিনতে হবে।
৩) হাতে নিয়ে ওজন বুঝে নিন। ফুলকপির আকার অনুযায়ী ওজন কিছুটা ভারী হলে সেটি খাঁটি। হালকা কপির ভিতরটা ফাঁপা বা স্পঞ্জের মতো হয়ে থাকে।
৪) ফুলকপির পাতাগুলি উজ্জ্বল সবুজ এবং সতেজ হতে হবে। পাতা হলুদ, নেতিয়ে পড়া কিংবা পাতায় ছিদ্র থাকলে, সেই কপি টাটকা নয়।
৫) ফুলকপির গায়ে কালো বা গাঢ় বাদামি ছোপ আছে কি না, দেখে নিন। এমন দাগ থাকলে তা ছত্রাক বা পোকার কারণে হতে পারে। তাই দেখেশুনেই কপি কিনুন।
ফুলকপি খাঁটি কি না চিনবেন কী কী উপায়ে?
৬) কপির নীচের কাটা ডাঁটাটি পরীক্ষা করুন। ডাঁটাটি শুকিয়ে বাদামি হয়ে গেলে বা ভিতরে ফাঁপা থাকলে বুঝতে হবে, সেটি বাসি ও পোকায় ধরা।
ভেজাল চেনার উপায়
ফুলকপিকে দীর্ঘদিন তাজা রাখতে এবং চকচকে সাদা দেখাতে ফর্মালিন বা ব্লিচিং স্প্রে মেশানো হয়। তাই খুব চকচকে সাদা কপি দেখলে সেটি কিনবেন না।
কপির গায়ে হলদেটে দাগ ঢাকতে অনেক সময় সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট মেশানো হয়। রান্নার আগে জলে ভেজানোর পর যদি কপির রং অস্বাভাবিক ভাবে ঝকঝক করে বা জলের রং বদলে যায়, তবে বুঝতে হবে সে কপিতে রাসায়নিক মেশানো রয়েছে।
কপি কেনার সময় গন্ধ শুঁকে দেখুন। যদি ব্লিচিং পাউডার, রাসায়নিক বা ওষুধের তীব্র গন্ধ পান, তবে তা না কেনাই ভাল।
রান্নার আগে যে নিয়মগুলি মানবেন
ফুলকপির ভিতর অনেক সময় ছোট পোকা, পোকার লার্ভা, কৃমি বা ময়লা ঢুকে থাকে। তাই ফুলকপি কেটে ছোট টুকরো করার পর সামান্য নুন দিয়ে হালকা গরম জলে ৫-১০ মিনিট ভাপিয়ে নিন। এতে কপির ভিতরে লুকিয়ে থাকা পোকা বা ময়লা সহজেই বেরিয়ে যাবে।
গরম জলের মধ্যে সামান্য হলুদগুঁড়ো ও নুন মিশিয়ে তার মধ্যে কপির টুকরোগুলি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন। হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে।
রান্নার আগে ভাপানো ফুলকপির অতিরিক্ত জল ভাল করে ঝরিয়ে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিন। এতে কপির স্বাদ আরও ভাল হবে।
স্যালাডে বা জুসে কাঁচা ফুলকপি ব্যবহার না করাই ভাল। কপির গায়ে লেগে থাকা কীটনাশক বা পোকা পেটে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। তাই কপি ভাল করে ভাপিয়ে রান্না করে খাওয়াই ভাল।