ফ্রিজে রাখা আগের দিনের ভাত গরম করতে গিয়ে অনেক সময়েই দেখা যায়, ভাত শক্ত, শুকনো এবং দলা পাকিয়ে গিয়েছে। আবার গরম করলেই যে তা আগের মতো ঝরঝরে হবে, এমনও নয়। তা হলে কী করলে তা নরম, গরম এবং ঝুরঝুরে হবে?
ভাতের ফ্যানে থাকা স্টার্চের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেই তা শক্ত দানার মতো হয়ে যায়। ভাত রান্নার সময়ে জল ও তাপে চালের স্টার্চ জল শোষণ করে ফুলে ওঠে। এবং নরম হয়ে যায়। কিন্তু ঠান্ডা হওয়ার পর স্টার্চের অণুগুলি আবার ধীরে ধীরে নিজেদের গঠন পরিবর্তন করে ফেলে। ফলে ভাত শক্ত ও জমাট বেঁধে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্টার্চ রেট্রোগ্রেডেশন। তবে এর ফলে ভাতের উপকারিতা বাড়ে। এতে তৈরি হয় রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ। এর ফলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বাড়িয়ে হজমশক্তি উন্নত করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকেরা সেই ভাত গরম করে খেতে বলেন স্বাস্থ্যগুণের জন্য।
দলা পাকানো ভাত ঝুরঝুরে করে তুলুন। ছবি: সংগৃহীত
কী ভাবে সেই ভাত গরম করবেন? রইল তিনটি পন্থা—
জল ছিটিয়ে গরম করুন: সবচেয়ে সহজ উপায় হল, ভাতের উপর অল্প জল ছিটিয়ে গরম করা। প্রথমে দলা পাকানো ভাতগুলি আলাদা করে নিন। তার পর সামান্য জল ছিটিয়ে পাত্রটি ঢেকে দিন। এ বার মাইক্রোওয়েভ অভেনে ঢুকিয়ে খানিকক্ষণ গরম করে নিন। জল গরম হয়ে বাষ্প তৈরি করবে এবং সেই বাষ্প ভাতের দানাগুলিকে আবার নরম করতে সাহায্য করবে। তবে বেশি জল ঢেলে দেবেন না। তা হলে ভাত নরম হওয়ার বদলে জলে ভিজে চটচটে হয়ে যেতে পারে।
ভাপে গরম করুন: সবচেয়ে কার্যকর পন্থাগুলির একটি হল ভাপে গরম করা। মাইক্রোওয়েভ অভেনের প্রয়োজন পড়ে না এতে। স্টিমারে বা গ্যাসে ভাপ দিয়ে ভাত নরম করা যায়। একটি পাত্রে জল ফুটতে দিন। তার উপর একটি পাত্রে ভাত ঢেলে দিন। ভাত যেন জলের সংস্পর্শে না আসে, কিন্তু সমস্ত ভাপ যেন তাতে গিয়ে পৌঁছোয়। ধীরে ধীরে ভাপের তাপে ভাত গরম হবে এবং একই সঙ্গে আর্দ্রতাও পাবে।
আরও পড়ুন:
ফুটিয়ে ফ্যান গালুন: আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত সসপ্যানে ঢেলে বেশ খানিকটা জল দিন। যেন ভাতের দানাগুলি ডুবে যায়। তার পর এক বার ফুটে উঠলেই গ্যাস নিভিয়ে দিন। প্রথম বার ভাত রান্নার মতোই এ বারও ফ্যান গেলে নিন। এর ফলে ভাত একেবারে ঝরঝরে হয়ে যাবে। তবে বেশিক্ষণ ফুটতে দিলে তা কিন্তু গলে যেতে পারে।