সুযোগ বুঝেই হানা দেয়। এমনই বদভ্যাস পিঁপড়েদের। চিনির কৌটোয় অল্প ফাঁক থেকে গেলেই সর্বনাশ। সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ শুরু। আর তখন বিরক্তির শেষ থাকে না! বিশেষ করে, বর্ষাকালে রান্নাঘরের খাবারের কৌটায় পিঁপড়ে ঢুকে পড়া বেশ সাধারণ সমস্যা। চিনি খোলা অবস্থায় থাকলে তো কথাই নেই।
তবে পিঁপড়ে তাড়াতে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরেই থাকা কয়েকটি উপকরণ কাজে লাগিয়ে চিনির কৌটোর আশপাশে পিঁপড়ের আনাগোনা কমানো যেতে পারে।
হেঁশেলে পিঁপড়ের হানা দেওয়া কমান ঘরোয়া উপায়ে। ছবি: সংগৃহীত
চিনিকে পিঁপড়েমুক্ত রাখার উপায় কী?
১. তেজপাতা: চিনির কৌটোর ভিতরে বা চারপাশে কয়েকটি তেজপাতা রেখে দিতে পারেন। তেজপাতার তীব্র প্রাকৃতিক গন্ধ পিঁপড়েদের দূরে সরিয়ে রাখে। কৌটোর ভিতরে রাখলে খেয়াল রাখবেন, তেজপাতা যেন শুকনো এবং পরিষ্কার থাকে।
তেজপাতার ব্যবহারে পিঁপড়ে দূরে থাকবে। ছবি: সংগৃহীত
২. লবঙ্গ: লবঙ্গের গন্ধ অনেকের কাছে মনোরম হলেও পিঁপড়েরা এই তীব্র গন্ধ পছন্দ করে না। তাই চিনির কৌটোর ভিতরে কয়েকটি গোটা লবঙ্গ রেখে দিতে পারেন। চিনির কৌটো যে তাক বা আলমারিতে রাখা হয়, সেখানেও লবঙ্গ রাখা যায়। এটি মূলত পিঁপড়েকে দূরে রাখার একটি সহজ উপায়, পিঁপড়ে মেরে ফেলার পদ্ধতি নয়।
৩. শুকনো লঙ্কা: রান্নাঘরের আর একটি সহজ উপকরণ শুকনো লঙ্কা। কয়েকটি গোটা শুকনো লঙ্কা চিনির কৌটোর কাছে বা যে আলমারিতে চিনি রাখা হয়, সেখানে রেখে দিতে পারেন। শুকনো লঙ্কার ঝাঁঝালো গন্ধে পিঁপড়েরা দূরে পালাবে। তবে লঙ্কা সরাসরি চিনির মধ্যে মেশানোর প্রয়োজন নেই। তাতে চিনির স্বাদ নষ্ট হবে।
শুকনো লঙ্কার তীব্র গন্ধে পালাবে পিঁপড়ে। ছবি: সংগৃহীত
৪. পাতিলেবু: লেবুর সাইট্রাসের তীব্র গন্ধও পিঁপড়েদের দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। চিনির কৌটোর পাশে কয়েক টুকরো লেবু রাখা যায়। তবে লেবু যাতে চিনির সঙ্গে সরাসরি না লাগে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে লেবুর টুকরো শুকিয়ে গেলে বা নষ্ট হতে শুরু করলে, তা সরিয়ে নতুন টুকরো দিতে হবে।
চিনির কৌটোর ভিতর থেকে পিঁপড়ে কী ভাবে বার করা যায়?
· পিঁপড়ে যদি ইতিমধ্যেই চিনির মধ্যে ঢুকে পড়ে, সে ক্ষেত্রে চিনিটা পরিষ্কার একটি বড় ট্রেতে ছড়িয়ে রোদে কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন। সূর্যের তাপে পিঁপড়েগুলি সরে যেতে পারে। পরে চিনির মধ্যে থাকা পিঁপড়ে আলাদা করে ফেলে দিয়ে চিনি আবার পরিষ্কার, শুকনো এবং বায়ুরোধী কৌটায় রাখা যেতে পারে।
· চিনির কৌটোয় পিঁপড়ে ধরে গেলে ভিতরে কয়েকটি লবঙ্গ রেখে দিতে পারেন। কৌটোর মুখ সামান্য খোলা রাখতে হবে। লবঙ্গের তীব্র গন্ধে পিঁপড়ে পিলপিল করে কৌটোর বাইরে বেরিয়ে আসবে। তার পর সঙ্গে সঙ্গে আঁটোসাঁটো করে কৌটো বন্ধ করে দিতে হবে।
· কৌটোর মুখ খুলে হালকা ফুঁ দিলে বা কৌটোর গায়ে আলতো টোকা দিলে অনেক সময়ে পিঁপড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।