বাগান মানেই কি শুধু ঘাস, ফুল, সবুজ পাতার সমারোহ? বাগান তৈরির শখ যাঁদের, তাঁরা জানেন শখের বাগানটিকে মনের মতো সাজিয়ে তোলাও এক ধরনের শিল্প। তা সে বাড়ির সামনের ছোট্ট উঠোন হোক বা ছাদের বাগান বা বারান্দার টব। আর বাগান সাজানোয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে গার্ডেন পেবলস কিংবা নুড়িপাথর। সৌন্দর্যবৃদ্ধির পাশাপাশি নানা কাজেও আসে তা।
যে কাজে লাগে
উদ্যানবিদ পলাশ সাঁতরা বলছেন, “বাগান তৈরি করার সময়ে নুড়িপাথর ব্যবহার করলে নানা উপকার মেলে। গাছের গোড়ার কাছে থাকা মাটির উপরে পাতলা করে নুড়ি বিছিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া অনেকটাই রোধ করা যায়। ফলে গরমকালে জল দেওয়ার সময়ের ব্যবধান বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টির জলে বা গাছে জল দেওয়ার সময়ে মাটি ছিটকে পড়ার প্রবণতাও কমে। ফলে বাগান বেশ পরিপাটি দেখায়।”
আগাছা নিয়ন্ত্রণেও বেশ কাজে আসে এই নুড়িপাথর। নুড়ির স্তর মাটিতে আলো পৌঁছনোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে নানা ধরনের আগাছা বেড়ে ওঠা থেকে আটকানো যায়। তবে এটিকে যেন আগাছা নির্মূলের পদ্ধতি না মনে করা হয়, তা নিয়েও সতর্ক করছেন পলাশ।
এ ছাড়াও, নানা পরীক্ষায় দাবি করা হয়, নুড়িপাথরের উপরে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করলে পায়ে এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। ‘অ্যাকুপ্রেশার’-এর জন্য স্বাস্থ্যেরও সার্বিক উন্নতি হয়। সকালে যাঁদের বাগানে হাঁটার অভ্যেস আছে, তাঁরা খালি পায়ে কিছুটা সময় ঘাসের উপরে আর কিছুটা সময়ে নুড়ির উপরে হাঁটলে উপকার পাবেন।
ব্যবহার যেখানে
বাজারে হরেক রকমের নুড়িপাথর পাওয়া যায়। তার রং যেমন ভিন্ন, আকারও নানা রকমের হয়। হিমালয়ান হোয়াইট পেবলস, নদীখাতের পাথর, সমুদ্রতটের পাথর, প্রাকৃতিক গোল নুড়ি, সাদা মার্বেল চিপস, কালো বা ধূসর স্টোন চিপস— এমন অনেক বিকল্পই বাজারে পেয়ে যাবেন। নিজের বাগানের দরকার অনুযায়ী বেছে নিতে হবে।
মানানসই
কোথায় কেমন পাথর মানাতে পারে, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। সাধারণত ফুলের টব কিংবা ছোট প্লান্টারের জন্য ছোট, মসৃণ নুড়ি বেশি মানানসই। এ ক্ষেত্রে সাদা পাথরের সঙ্গে সবুজ পাতার বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একই রকম ভাবে সাজিয়ে ফেলা যায় সাদা-কালো নুড়ি দিয়েও। জাপানি ‘পেবল গার্ডেন’গুলির কথা ভাবা যায় এ ক্ষেত্রে। মিনিমালিস্ট ধাঁচে সাদা পাথর দিয়ে বাগানের পথ সাজিয়ে ফেললে বেশ সুন্দর দেখায় সেটি।
এ ছাড়াও, অনেকেই বাড়ির সামনে বাগান তৈরি করেন ও হাঁটাহাঁটি করতে পছন্দ করেন। এই ক্ষেত্রে বাগানে থাকা গাছগুলির আশপাশের রাস্তা তৈরিতে তুলনামূলক বড় ও চ্যাপ্টা পাথর ব্যবহার করা সুবিধেজনক। তবে শুধু আলগা নুড়ি দিয়ে এমন পথ বানালে হাঁটার সময়ে পাথর সরে যেতে পারে। সেটির ভিত যাতে শক্ত হয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী ওই রাস্তার চারপাশে বর্ডারও দেওয়া যায়।
রক্ষণাবেক্ষণ দরকার
নুড়ি এক বার বিছিয়ে দিলেই কাজ শেষ নয়। ধুলোবালি, শুকনো পাতা, মাটি এবং শ্যাওলা জমলে তার সৌন্দর্য কমে যায়। তাই মাঝেমধ্যে পাতা সরিয়ে, নুড়িপাথর পরিষ্কার করে দিতে হবে। শুষ্ক মরসুমে লিফ ব্লোয়ার দিয়ে একবার পুরো বাগান পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এতে শুকনো পাতা ভিজে পচে যাওয়ার আগেই উড়ে যাবে। ফলে কোনও ভাবে পাথরে কিছু জমে দাগ হবে না। কখনওসখনও প্রয়োজনে জল দিয়ে পাথর পরিষ্কার করা যায়। তবে নুড়ি পরিষ্কারে ব্যবহৃত কোনও রাসায়নিক যাতে মাটিতে মিশে গাছের ক্ষতি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা আবশ্যক। দরকার হলে বছরে দু’বার সব নুড়ি তুলে পরিষ্কার করে আবার বিছিয়ে দিন।
এ ছাড়াও, খেয়াল রাখা জরুরি, সব গাছের গোড়ায় নুড়ি বিছানো উপযোগী নয়। যে গাছ অতিরিক্ত আর্দ্রতা পছন্দ করে না, তার গোড়ায় এই ধরনের নুড়িপাথর না রাখাই ভাল। একান্তই রাখতে হলে অল্প আলগা ছড়িয়ে রাখুন।
শেষ কথা
বাগান তৈরিতে ব্যবহৃত নুড়িপাথর শুধু বাগানের সাজসজ্জার জন্য নয়, বাগান ভাল রাখার জন্য ও সামগ্রিক ভাবে বাড়ির সৌন্দর্যায়নেও ভীষণ উপকারী। রং, আকার, জায়গা এবং গাছের প্রয়োজন বুঝে নুড়ি ব্যবহার করলে সামান্য পাথরেই বাগানের রূপ খুলতে পারে।