দার্জিলিঙের সিটঙে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বার্বিকিউয়ের আগুনে ঝলসে গিয়েছেন নিকিতা সাহা নামে এক তরুণী। শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে তাঁর। হোমস্টের যে ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে বার্বিকিউয়ের খুব কাছাকাছিই স্বামীর সঙ্গে বসেছিলেন ওই তরুণী। বার্বিকিউয়ের আগুনে কোনও তরল ঢালার পরেই ভয়াবহ আগুনের স্ফুলিঙ্গ ওঠে এবং তরুণীর গায়েও আগুন লেগে যায়। এই দুর্ঘটনা সচেতন করছে যে, বার্বিকিউ উপভোগ করতে হলে কিছু নিয়ম মানতেই হবে। বাইরে ঘুরতে গিয়ে বা বাড়িতেও বার্বিকিউ পার্টি করার সময়ে কিছু জরুরি নিরাপত্তাসামগ্রী কাছে রাখা বাধ্যতামূলক। তা ছাড়া সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ না থাকলে বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে, বিপদ ঘটে যেতে পারে যখন-তখন।
বার্বকিউ করার সময়ে কী কী সতর্কতা নেবেন?
খোলা জায়গা বার্বিকিউ করুন
বার্বিকিউ খোলা জায়গায় করাই ভাল। বাড়িতে করতে হলে বাগান বা ছাদ অথবা খোলা জায়গায় করুন। কখনওই বদ্ধ ঘর, গ্যারেজ বা বারান্দায় বার্বিকিউ করবেন না। বদ্ধ জায়গায় বার্বিকিউ করলে কয়লা বা গ্যাসের গ্রিল অভেন থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে শ্বাসরোধ হতে পারে।
কাছাকাছি কাঠের কাঠামো যেন না থাকে
বার্বিকিউ যেখানে করবেন তার কাছাকাছি কাঠের শেড, ঝুলন্ত গাছের ডাল কিংবা বাড়ির দেওয়াল যেন না থাকে। এইসব কাঠামো থেকে অন্তত ১০ ফুট দূরত্ব রেখে বার্বিকিউয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরের একদম গা ঘেঁষে বা কাঠের শেডের কাছাকাছি বার্বিকিউ অভেন বসালে উত্তাপে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আশপাশে গাছপালা, ঝোপঝাড় থাকলেও অগ্নিকাণ্ড হওয়ার ভয় থাকবে।
আরও পড়ুন:
সমতল জায়গায় বার্বিকিউ করুন
পার্টি করার আনন্দে পাহাড়ি ঢালু জায়গায় বা অমসৃণ ঘাসের উপর গ্রিল বসালে নড়াচড়ায় স্ট্যান্ড উল্টে জ্বলন্ত কয়লা পায়ে পড়তে পারে অথবা মাটিতে পড়ে বিপদ ঘটতে পারে।
জ্বলন্ত আগুনে দাহ্য তরল ঢালবেন না
কয়লা ধরানোর জন্য নির্দিষ্ট ‘লাইটার ফ্লুইড’ ব্যবহার করাই ভাল। একবার আগুন ধরে গেলে তার উপর আর কোনও তরল ঢালবেন না। আগুনের শিখা আরও গনগনে করার জন্য পেট্রল, কেরোসিন বা অ্যালকোহল জাতীয় দাহ্য তরল জ্বলন্ত কয়লায় ঢাললে ‘ফ্ল্যাশ ফায়ার’ ঘটতে পারে। আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠে স্ফুলিঙ্গ ছিটকে এসে গায়ে আগুন ধরে যেতে পারে।
পোশাকের বিষয়ে সতর্ক থাকুন
বার্বিকিউ করার সময়ে সুতির পোশাক পরুন। ঢিলেঢালা হাতা, সিল্ক বা রেয়নের ওড়না, ঝুলন্ত স্কার্ফ যেন গ্রিলের কাছাকাছি না থাকে। চুল লম্বা হলে বেঁধে রাখুন। কোনওরকম সিন্থেটিক কাপড় যেন গ্রিলের কাছে না থাকে।
বার্বিকিউয়ের খুব কাছে থাকবেন না
বার্বিকিউয়ের একেবারে ধার ঘেঁষে বসবেন না। আগুনের শিখা কখনও বাড়লে তা থেকেও বিপদ ঘটতে পারে। তা ছাড়া বার্বিকিউ করার সময়ে একজনকে সেখানে সবসময় থাকতেই হবে। জ্বলন্ত কয়লা রেখে চলে যাবেন না। শিশু বা পোষ্য যেন ধারেকাছে না থাকে, সে খেয়ালও রাখতে হবে।
আরও পড়ুন:
গ্রিল পরিষ্কার রাখুন
প্রতিবার ব্যবহারের পর গ্রিলের নেট এবং ভিতরে ট্রে-তে জমে থাকা তেল, চর্বি ও পোড়া খাবারের অংশ পরিষ্কার করুন। মাংসের চর্বি ও তেল গ্রিলের ট্রে-তে জমে থাকলে পরের বার আগুন জ্বালানোর সময়ে তা থেকে বিপদ ঘটতে পারে।
গ্লাভস ও চিমটে
আগুনে পুড়বে না এমন সিলিকনের গ্লাভস হাতে পরে নিলে ভাল। যে চিমটেটি দিয়ে খাবার গ্রিল করবেন সেটি যেন ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। যাতে হাত ও মুখ আগুনের খুব কাছাকাছি নিয়ে যেতে না হয়।
জরুরি বুস্টার ও ওয়াটার স্প্রে বোতল কাছে রাখুন
গ্রিলের পাশে একটি স্প্রে বোতলে জল রাখুন, যাতে মাংসের চর্বি পুড়ে আগুনের শিখা হঠাৎ বেড়ে গেলে জল ছিটিয়ে নেভানো যায়। তা ছাড়া একটি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, বালির বস্তাও হাতের কাছে রাখতে হবে। কোনও ভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।