রথের খাওয়াদাওয়া বললে বাঙালি যতই জিলিপি-পাঁপড়ভাজার কথা ভাবুক, শ্রীক্ষেত্রে কিন্তু রথের দিন দেবভোগে জিলিপি বা পাঁপড়, কোনওটিই থাকে না। প্রভু জগন্নাথকে সে সবই দেওয়া হয়, যা তাঁর পছন্দের। ওই দিন জগন্নাথদেবের পছন্দের খাবারে থাকে ‘শঙ্খুড়ি ভোগ’ ও ‘সুখিলা ভোগ’। শঙ্খুড়ি হল রান্না করা অন্নব্যাঞ্জন, আর সুখিলা হল শুকনো মিষ্টি বা ভাজা খাবার।
রথের দিন শ্রীক্ষেত্রে জগন্নাথদেব কী কী খান?
খাজা
খাজা
রথের খাওয়াদাওয়া বললে বাঙালি যতই জিলিপি-পাঁপড়ভাজার কথা ভাবুক, শ্রীক্ষেত্রে কিন্তু রথের দিন দেবভোগে জিলিপি বা পাঁপড়, কোনওটিই থাকে না। প্রভু জগন্নাথকে সে সবই দেওয়া হয়, যা তাঁর পছন্দের। ওই দিন জগন্নাথদেবের পছন্দের খাবারে থাকে ‘শঙ্খুড়ি ভোগ’ ও ‘সুখিলা ভোগ’। শঙ্খুড়ি হল রান্না করা অন্নব্যাঞ্জন, আর সুখিলা হল শুকনো মিষ্টি বা ভাজা খাবার।
মালপোয়া
মালপোয়া
পুরীর মন্দিরে জগন্নাথদেবের সন্ধ্যারতির সময় যে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়, তাকে বলা হয় 'অমালু' বা ওড়িশি মালপোয়া। রথযাত্রায় মাসির বাড়িতেও প্রভুর অত্যন্ত প্রিয় খাবার এটি। সুজি, ময়দা, মৌরি, মরিচের পাশাপাশি জগন্নাথের ভোগের মিষ্টিতে পড়ে দুধ, এলাচ এবং কলা। সেই সব কিছু দিয়ে মণ্ড বানিয়ে, তা থেকে লেচি কেটে ঘিয়ে ভেজে ফেলা হয় চিনির রসে।
পোড় পিঠে
পোড় পিঠে
রথযাত্রার অন্যতম বড় আকর্ষণ হল 'পোড় পিঠে'। কথিত আছে, জগন্নাথদেব যখন মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুণ্ডিচা মন্দিরে যান, তখন তাঁর মাসি এই পিঠে খাইয়ে আপ্যায়ন করেন। জগন্নাথের রথযাত্রার দিনে তাই ওড়িশার মানুষও খান পোড় পিঠে। গুড়, নারকেল, রস, চালের গুঁড়ো, বিউলির ডাল, এলাচ ইত্যাদি দিয়ে বানানো হয় রথযাত্রার এই সুস্বাদু খাবার।
বেসর
বেসর
কাঁচকলা, বেগুন, ওল, কুমড়ো ইত্যাদি মরসুমি সব্জি দিয়ে তৈরি হয় বেসর। জগন্নাথদেবের অতি পছন্দের নিরামিষ পাঁচমেশালি সব্জি। সর্ষেবাটা দিয়ে রাঁধা হয় বেসর। রান্নাশেষে উপর থেকে কোরানো নারকেল ও ঘি ছড়ানো হয়।
মহুরা
জগন্নাথদেবের ছাপ্পান্ন ভোগের একটি পদ মহুরা। প্রভুর খুব পছন্দের তরকারিও। কুমড়ো, কাঁচকলা, পটল, বেগুন, ওল, ছোলার ডাল এবং ডালের বড়ি দিয়ে রাঁধা হয়। সব্জিগুলি গলে যায় না, গোটা গোটাই রাখা হয়।
জগন্নাথদেবের পছন্দের ভোগে থাকে কণিকা ভোগ, মিঠা ডালি, ডালমা, মহুরা-সহ আরও অনেক পদ।
মিঠা ডালি
ছোলার ডাল, গুড়, নারকেলের ছোট ছোট কুচি, আদাকুচি এবং দারচিনি ও এলাচগুঁড়ো দিয়ে রাঁধা ডাল যা জগন্নাথদেবের ছাপ্পান্ন ভোগে সাজিয়ে দেওয়া হয়। এই ডালটি বেশ ঘন এবং মিষ্টি স্বাদের হয়।
ডালমা
ডালমাও জগন্নাথের ছাপ্পান্ন ভোগের একটি। নানা রকমের ডাল, শাকসব্জি এবং সুস্বাদু মশলা দিয়ে কষিয়ে রাঁধা হয় ডালমা। রথের দিন ওড়িশার রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে গেরস্তবাড়ির হেঁশেল— সর্বত্রই রাঁধা হয় ডালমা।
কণিকা
জগন্নাথদেবের খুবই পছন্দের মিষ্টি পোলাও। সুগন্ধি চাল, গাওয়া ঘি, গুড়, কাজু, কিশমিশ এবং গরম মশলা (এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ) দিয়ে রাঁধা হয়। এ ছাড়া সুগন্ধের জন্য সামান্য জায়ফল বা জয়িত্রী ব্যবহার করা হয়।
রসবালি
রসবালি
নাম যেমন সুন্দর, এই মিষ্টি খেতেও স্বর্গীয়। ভাজা ছানার বড়াগুলিকে এলাচ ও মিছরি দিয়ে ঘন করা ক্ষীর বা রাবড়িতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সেগুলি দুধে ভিজে নরম ও তুলতুলে হয়ে ওঠে। রসবালি যিনি খেয়েছেন, তিনিই জানেন, এই মিষ্টি শুধু স্বাদে নয়, এর হালকা এলাচের গন্ধও মাতিয়ে দিতে পারে। ওড়িশার রথযাত্রার খাদ্যসম্ভারে এই মিষ্টি থাকবেই।
পাখালা ভাত
পাখালা ভাত
পাখালা ভাত হল ওড়িশার এক ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা জগন্নাথের মহাপ্রসাদ হিসাবেও দেওয়া হয়। পাখালা ভাত বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, দই পাখালা, মিঠা পাখালা, জল পাখালা, সুবাস পাখালা, চুপুড়া পাখালা, ঘি পাখালা ইত্যাদি। তবে এই ভাত যেমনই হোক, তার মূল উপকরণ হিসাবে রাতভর জলে ভেজানো পান্তা ভাত থাকবেই। সেই ভাতকে কখনও আদা, জিরে, লেবু দিয়ে মাখা হয়, তো কখনও মাখা হয় দই দিয়ে। ঘি, নুন, আদা, ভাজা জিরে দিয়েও মাখা হয় পাখালা। আবার কোনওটি মাখা হয় গুড় কিংবা জুঁই ফুল দিয়ে। রথের দিন এই খাবার ওড়িশার ঘরে ঘরে বানানোর চল আছে।