বয়সের কোটা তিরিশ পেরোয়নি, বিএমআই কম, চেহারা রোগা, অথচ রক্তে চিনির মাত্রা বেশি— এমন রোগীর সংখ্যাও কম নয়। সম্প্রতি একে টাইপ ফাইভ ডায়াবিটিস বলে চিহ্নিত করছেন চিকিৎসকেরা। মূলত অপুষ্টি থেকেই এই ডায়াবিটিস। জেনারেল ফিজিশিয়ান সুবীর মণ্ডল বলছেন, “এ ক্ষেত্রে উপসর্গ সাধারণ ডায়াবিটিসের মতোই। তবে রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাপদ্ধতি আলাদা।”
ইনসুলিন হরমোন অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়, যা খাবারে থাকা শর্করাকে শরীরের কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় না। সাধারণ হিসেবে ডায়াবিটিস দুই প্রকার— টাইপ–১ ডায়াবিটিসে ইনসুলিন ক্ষরণ কম হয়। অটো-ইমিউনের ফলে এ ক্ষেত্রে শরীর ইনসুলিনের বিরদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। টাইপ–২-তে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। টাইপ-৫ ডায়াবিটিসের সঙ্গে টাইপ-১-এর মিল রয়েছে অনেকটাই।
টাইপ-৫ কেন হয়?
মূলত শৈশবে অপুষ্টির কারণে এক সময়ে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। অনেক সময়ে গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি পর্যাপ্ত হয় না। তার প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ সন্তানের উপরে। তার বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন সম্পূর্ণ হয় না। অগ্ন্যাশয়ের গঠন অসম্পূর্ণ হলে তা থেকে ইনসুলিন ক্ষরণ কম হয়। বংশগত কারণেও এই ডায়াবিটিস হতে পারে। ২০-২৫ বছরের আগে এই রোগ ধরা পড়ে না।
চিকিৎসা
ডায়াবিটিক রোগীদের অধিকাংশ সময়ে ওজন বেশি থাকে। টাইপ-২ ডায়াবিটিসে যে ধরনের ওষুধ, ইনসুলিন দেওয়া হয়, তাতে রোগীর ওজন কমে। টাইপ-৫ ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই ব্যক্তির ওজন কম থাকে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়াবিটিসের ওষুধে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডা. মণ্ডল বলছেন, “এ ক্ষেত্রে বিএমআই ২৩-এর কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে বোনাস ইনসুলিন অর্থাৎ দিনে তিনবার ইনসুলিন দেওয়ার প্রয়োজন হয়। ওরাল মেডিসিনে তেমন কাজ হয় না।” সঙ্গে ক্যালরি মেপে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওজন বাড়ানোর ডায়াবেটিক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি হয়।
এই ডায়াবিটিস ও তার চিকিৎসার বিষয়টি এখনও গবেষণাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রোগনির্ণয়
টাইপ-১ ডায়াবিটিসের থেকে টাইপ-৫ আলাদা করা প্রাথমিক ভাবে কঠিন। রোগী অত্যন্ত রোগা, ডায়াবিটিসের উপসর্গ রয়েছে— এমন অবস্থায় রক্তপরীক্ষায় যদি শরীরে কোনও অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না দেখা যায়, বুঝতে হবে রোগী টাইপ-৫ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।