যে কোনও খাবারের স্বাদ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে চিংড়ির। রান্না বিস্বাদ লাগলে অনেকে কুচো চিংড়ি ছড়িয়ে দেন, যাতে তা খেতে ভাল লাগে। কিন্তু চিংড়ি দিয়ে মন জয় করতে প্রয়োজন এক নিপুণ জাদুকরের হাত। বাজার থেকে সঠিক চিংড়ি বাছাই এবং সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা দরকার। রান্নাঘরের সামান্য একটু অসাবধানতা বা বাজার থেকে আনা খারাপ চিংড়ির জন্য মাশুল গুনতে হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে খাবার পানসে করে দিতে পারে, নয়তো পেটের গোলমালের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাজার থেকে সঠিক চিংড়ি বেছে নিন। ছবি: সংগৃহীত
বাজার থেকে চিংড়ি কেনার পন্থা
১. বাছাইয়ের সময়ে খেয়াল করবেন চিংড়িগুলি শক্ত বা হৃষ্টপুষ্ট কি না। গায়ের কোনও অংশ যদি নরম হয়ে আসে, তা হলে সেটিকে বাদ দেবেন।
২. চিংড়ির গায়ে কালো কালো দাগ দেখলে সেগুলি কিনবেন না। এর খোসা ধূসর-সবুজ, হালকা গোলাপি বা বাদামি আভা-যুক্ত হওয়া উচিত।
৩. নিজের ঘ্রাণশক্তির উপর নির্ভর করুন। নাকই বলে দেবে, কোন চিংড়ি ভাল, কোনটি খারাপ। তীব্র আঁশটে বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ পেলে সেগুলি নেবেন না।
৪. সামুদ্রিক খাবারের বাজার করার সময়ে সর্বদা বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা উচিত। যাতে চাইলে চিংড়ির উৎস এবং সেগুলি কী ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে সে সম্পর্কে জানা যেতে পারে।
চিংড়ি পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। ছবি: সংগৃহীত
চিংড়ি পরিষ্কারের পন্থা
চিংড়ির পিঠের উপর দিয়ে চলে যাওয়া কালো রেখাটি হল পরিপাকনালি। সেটি রেখে দিলে পেটের রোগ হতে পারে। তা ছাড়া রান্নার স্বাদও নষ্ট হয়ে যায়। টুথপিক বা ছুরি ব্যবহার করে এটি বার করে ফেলতে হবে।
চিংড়ি রান্নার পন্থা
চিংড়ি অত্যন্ত নরম এবং খুব দ্রুত রান্না হয়ে যায়। সাধারণত মাত্র ৩-৪ মিনিট সময় লাগে সেদ্ধ হতে। বেশিক্ষণ আঁচে রাখলে এর প্রোটিনগুলি শক্ত হয়ে যায়। তখন খাবার চিবোনো কঠিন হয়ে যেতে পারে। চিংড়ির রং বদলাতে শুরু করলে রান্না হয়ে গিয়েছে বলে বুঝতে হবে। তা ছাড়া কুঁচকেও যেতে শুরু করে রান্না হতে হতে।