ফিফা বিশ্বকাপের উত্তেজনা আলাদা করে বলার নয়। গ্যালারিতে দর্শকদের উন্মাদনা দেখার মতোই। তবে এ বারের বিশ্বকাপে একটি বিষয় নজর কেড়েছে। তা হল খেলা দেখতে দেখতে দর্শকদের খাওয়াদাওয়া। সাধারণত টুকটাক মুখ চালাতে গ্যালারিতে পপকর্ন, নাচোস বা সুইট কর্নের মতো স্ন্যাক্স খেতেই দেখা যায় বেশি। এ বারে দর্শকদের পছন্দের স্ন্যাক্স ছিল ঝিনুক। পপকর্ন ছেড়ে তাঁরা চেটেপুটে খাচ্ছিলেন সস ও লেবুর রসে মাখানো ঝিনুক।
সি-ফুড খেতে পছন্দ করেন যাঁরা, তাঁদের কাছে অয়েস্টার বা ঝিনুক খাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে তা সুসজ্জিত বিলাসবহুল রেস্তরাঁয় বসেই খেতে ভাল লাগে। অথবা বাড়িতে নিজের মতো করে রেঁধে। গ্যালারিতে ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে ঝিনুক খাওয়ার এমন উন্মদনা আগে দেখা যায়নি। ফিফা স্টেডিয়ামের যে ছবি ও ভিডিয়োগুলি সমাজমাধ্যমে ঘুরছে, সেখানে দেখা গিয়েছে তরুণ ও তরুণীরা গ্যালরিতে ঘুরে ঘুরে ঝিনুক বিক্রি করছেন। সুন্দর করে খোলস ছাড়িয়ে তাতে সামান্য ঝাল সস ও লেবুর রস মাখিয়ে এগিয়ে দিচ্ছেন। ঝিনুক পেয়ে ভারি খুশিও হচ্ছেন দর্শকেরা। এক একজন তো একসঙ্গে অনেকগুলি সাবাড় করে দিচ্ছেন। এক একটি ঝিনুকের দামও কম নয়। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি।
আরও পড়ুন:
এ দেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঝিনুক খাওয়ার চল রয়েছে। লেবুর রসে মাখিয়ে কাঁচা বা রান্না করে স্যুপ, পাস্তা বা ভেজেও খাওয়া হয় ঝিনুক। এতে ক্যালোরি খুব কম থাকে। উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, জ়িঙ্ক, ভিটামিন বি১২ এবং আয়রনে ভরপুর। চিকিৎসকেরা বলেন, ঝিনুকে এত বেশি জ়িঙ্ক থাকে, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে পারে।