অভিনেতা হিসাবে তিনি সফল। তবে শুধু অভিনয়জগৎ নয়, তার বাইরেও নানা শখ-স্বপ্ন রয়েছে বলিউড অভিনেতা আর মাধবনের। সেই স্বপ্ন সফল করতে গিয়েই একসময় আর্থিক বিপন্নতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে সে-ই সবই সামলাতে পেরেছেন তিনি। স্বপ্নও সফল করেছেন। অর্জন করেছেন ক্যাপ্টেনের লাইসেন্স। নিজে হাতে প্রমোদতরী ছুটিয়েছেন দুবাইয়ে সাগরের বুকে।
মাধবনের শখের নৌযান। ছবি:সংগৃহীত।
কারও শখ থাকে দামি গাড়ি, কারও বাড়ির, কারও জেটের। তবে মাধবনের শখ ছিল প্রমোদতরীর। শুধু প্রমোদতরী বলা ভুল, কারণ, অভিনেতা চেয়েছিলেন নাবিক হতে। আর সেই স্বপ্নপূরণের উদ্দেশ্যেই আগুপিছু বিশেষ কিছু না ভেবেই ৪০ ফুটের একটি প্রমোদতরী কিনে ফেলেন তিনি।
সময়টা ছিল ২০২০-২১। ছেলে বেদান্তের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণের সুবিধা হবে বলে তিনি সপরিবার দুবাইয়ে বাস শুরু করেছিলেন। কোভিডকালেই তিনি কিনে ফেলেন ৪০ ফুটের প্রমোদতরীটি। একটি ভিডিয়ো সিরিজ়ে সাক্ষাৎকারে মাধবন স্বীকার করেছিলেন, তিনি তাঁর সঞ্চিত অর্থ সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিবহাল ছিলেন না। ফলে সিদ্ধান্ত নিয়েও ভাবতে বসেন, তা সম্ভব হবে কি না।। মাধবনের কথায়, ‘‘আমি একসময় আর্থিক ভাবে বিপন্ন বোধ করছিলাম। ভয় পাচ্ছিলাম, হিসেবনিকেশে কী উঠে আসবে, অ্যাকাউন্টে কী দেখব। কতটা সঙ্গতি রয়েছে আমার।’’
মাধবনের প্রমোদতরীটি আসলে একটি আধুনিক মানের নৌযান বা ইয়ট, যেখানে সপরিবার তিনি ভেসে পড়তে পারেন। আসলে মাধবনের স্বপ্ন ছিল ক্যাপ্টেনের লাইসেন্স অর্জন করা। কোভিডকালে সেই স্বপ্নই পূরণ হয়েছে তাঁর। নৌচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, দড় হয়েছেন। অর্জন করেছেন লাইসেন্সও।
অতীতেও সাক্ষাৎকারে মাধবন বলেছেন, নতুন নতুন বিষয় শেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে। প্রমোদতরী চালাতে শেখাও ছিল তারই অঙ্গ। মাধবন স্বীকার করেছেন, তিনি জীবনে যা যা দামি জিনিস কিনেছেন, তার মধ্যে অন্যতম তাঁর স্বপ্নের নৌকাটি। সঠিক দাম জানা না গেলেও, মাধবনের ৪০ ফুটের প্রমোদতরীটির দাম হতে পারে ৪-১৫ কোটি টাকা।
বলিউড অভিনেতা তাঁর শখ নিয়ে গর্বিতও। কারণ, শুধু পরিবার নয়, পরবর্তী কালে তাঁর বন্ধুদেরও সেই নৌযানে চাপিয়েছেন, মজা করেছেন। স্বপ্নকে ছুঁয়েছেন। প্রমোদতরী কেনা তাঁর কাছে স্বপ্ন ছিল। এ ছাড়া, তাঁর শখ রয়েছে বাইক এবং বিলাসবহুল বাড়ির।