সম্পর্কের ভিত শুধু ভালবাসায় তৈরি হয় না, বোঝাপড়াও গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই বোঝাপড়া তৈরি হয় খোলামেলা কথোপকথনের মাধ্যমে। তাই সব সময়ে উত্তর দেওয়ার তাড়া না রেখে, কখনও কখনও শুধু প্রশ্ন করাও সম্পর্ককে আরও দৃঢ় এবং আন্তরিক করে তুলতে পারে।
মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, সম্পর্কে সমস্যা মানেই বড় কোনও ঘটনা, এমন না-ও হতে পারে। অনেক সময় ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি, না-বলা কথা বা একে অপরকে ঠিকমতো না বোঝার কারণেই দূরত্ব তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সহজ কিছু প্রশ্নই সম্পর্ককে নতুন করে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। এমনই ৫টি প্রশ্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন মনোবিদ।
একে অপরকে বোঝার জন্য কী কী প্রশ্ন করবেন? ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্কের ভিত আরও দৃঢ় করতে সঙ্গীকে যে ৫টি প্রশ্ন করা যেতে পারে—
১. ‘‘আমি কী করলে তোমার মনে হবে, আমি তোমায় খুব ভালবাসি?’’
এই প্রশ্নটি সঙ্গীর চাহিদা বুঝতে সাহায্য করে। প্রত্যেক মানুষের ভালবাসা অনুভব করার ধরন আলাদা। কেউ একসঙ্গে সময় কাটানো, কেউ প্রশংসা, কেউ শারীরিক সান্নিধ্য, আবার কেউ ছোট ছোট যত্নের মাধ্যমে ভালবাসা অনুভব করেন।
২. ‘‘কোন জিনিসটিতে মানসিক ভাবে নিরাপদ অনুভব কর?’’
এই প্রশ্নের মাধ্যমে জানা যায়, কোন আচরণ বা পরিবেশে সঙ্গী নিজেকে নিরাপদ মনে করেন। সঙ্গী কিসে স্বস্তি পান, সেটা বুঝতে সুবিধা হবে। সম্পর্কে বিশ্বাস ও আবেগের নিরাপত্তা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩. ‘‘আমি কী করলে তোমার মনে হবে, আমি পাশে আছি?’’
সবাই একই ভাবে সঙ্গীর থেকে সমর্থন চান না। কেউ পরামর্শ চান, কেউ আবার চান সঙ্গী তাঁর কথা মন দিয়ে শুনুন, কারও আবার কোনও একটি নির্দিষ্ট কাজে মনে হয় সঙ্গী পাশে আছেন। এই প্রশ্নটি সঙ্গীর প্রকৃত প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করে।
৪. ‘‘আমার কোন আচরণ তোমায় কষ্ট দেয় বা দূরত্ব তৈরি করে?’’
এই প্রশ্নটি দোষারোপের জন্য নয়, বরং নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য। আপনার আচরণে সঙ্গীর অনুভূতি বোঝার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সম্পর্ক আরও সুস্থ হয়।
৫. ‘‘আমাদের সম্পর্ককে আরও সুন্দর করতে আমরা দু’জন কী করতে পারি?’’
এই প্রশ্নটি সম্পর্ককে একটি যৌথ দায়িত্ব হিসেবে দেখতে শেখায়। এতে দোষারোপের পরিবর্তে দু’জনই একসঙ্গে সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
মনোবিদের কথায়, ‘‘এ ছাড়াও একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের কথা মনে করা, প্রিয় সময়ের স্মৃতিচারণ করা ইত্যাদি সম্পর্কের উষ্ণতা ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। কিন্তু এ সবের জন্য কথা বলা খুব দরকার। মনে রাখবেন, প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য উত্তর বিচার করা নয়। বরং কৌতূহল নিয়ে শোনা, সঙ্গীর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং একে অপরকে আরও ভাল ভাবে বোঝা। এই ধরনের কথোপকথন সম্পর্ককে আন্তরিক ও দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।’’