যার সঙ্গে মন বিনিময় করবেন ভেবেছেন, তাঁর মনও কি আপনার মনের ছন্দে দোলে? সেই মানুষটি কি সুখী করতে পারবেন আপনাকে? কোটি টাকার প্রশ্ন! অথচ সঠিক জবাব দেওয়ার দাবি বুক বাজিয়ে করতে পারে না কেউই। ফলে সঙ্গীকে যাচাই করে নেওয়ার চেষ্টাচরিত্র চলতে থাকে নানা ভাবে। নানা রকম তার পরীক্ষা কৌশল, নিত্য নতুন ‘থিওরি’। প্রেম-ডেটিং কিংবা সম্পর্কের দুনিয়ায় তেমনই এক নতুন যাচাই-পরীক্ষা ইদানীং জনপ্রিয় হচ্ছে। যার নাম ‘লেমন লোফ’।
লেমন লোফ আসলে লেবুর গন্ধে ভরা পাউরুটি। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক কী? নাহ, লেবুর গন্ধমাখা পাউরুটির টুকরোর সঙ্গে প্রেম, প্রেমিক বা প্রেমিকার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। বস্তুত ওটি লেবু-পাউরুটি না হয়ে চকোলেট কেক বা লেবু লজেন্স হলেও আপত্তির কিছু নেই। আসল কথা হল জিনিসটি দামি নয়। বরং অত্যন্ত সহজলভ্য। খুব সাধারণ বা সামান্য একটি খাদ্যবস্তু। আর সেই সামান্য জিনিসটিই বুঝিয়ে দেবে সঙ্গীর মনোভাব!
লেবুর গন্ধ ভরা পাউরুটির বদলে লেবু লজেন্স দিয়েও হতে পারে পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত।
কী ভাবে কাজ করে লেবু লজেন্স তত্ত্ব?
ধরা যাক প্রেমিক বা প্রেমিকাকে কথাচ্ছলেই বললেন, আপনার লেবু লজেন্স খেতে ভাল লাগে। সপ্তাহখানেক পরে দেখলেন সঙ্গী হাতে করে একটি কাগজের ঠোঙায় কিংবা কোনও বাহারি কৌটোয় বন্দি লেবু লজেন্স নিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কেন? হয়তো কোনও দোকানে গিয়ে লেবু লজেন্স দেখে তাঁর মনে পড়েছে আপনার কথা। অথচ আপনি তাঁকে একবারও কিনে আনতে বলেননি। দিনটি আপনার জন্মদিন বা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানের দিনও নয় যে উপহার দিতে হবে। উনি এনেছেন, কারণ ওঁর মনে পড়েছে। এই যে খুব সামান্য ছোটখাটো আপাত গুরুত্বহীন বিষয় মনে রাখার ইচ্ছে বা মনে রেখে দেওয়া, সেই গুণটিকেই সঙ্গী বেছে নেওয়ার সময়ে গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে।
কেন লেবু লজেন্স তত্ত্ব প্রাসঙ্গিক?
সমাজমাধ্যমে এখন প্রদর্শনই মুখ্য বিষয়। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা প্রেমের বর্ষপূর্তির মতো বিশেষ দিনে সঙ্গীরা পরস্পরকে এমন উপহার দেন, যা প্রদর্শনযোগ্য। হয়তো কেউ সঙ্গীকে বিদেশভ্রমণে নিয়ে গেলেন আবার কেউ দিলেন দামি গয়নাগাটি বা অন্য কোনও অধিক অর্থমূল্যের উপহার। সেই প্রদর্শনের ভারী পর্দার আড়াল সরিয়ে ভিতরটুকু দেখে নেওয়ার কথা বলে লেবু লজেন্স তত্ত্ব। যেখানে গাল ভরা ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’র চেয়েও বেশি গুরুত্ব পায়, ‘আমি তোমাকে চিনি, তোমার ছোটখাটো ইচ্ছেগুলো জানি’। ঠিক যেমনটা শোনা গিয়েছে সাম্প্রতিক সিনেমা ‘ককটেল ২’ ছবিতে।
‘ককটেল ২’ ছবিতে দেখা যায় লেবু লজেন্স তত্ত্বের প্রয়োগ! ছবি: সংগৃহীত।
রোমাঞ্চ নয়, এক চিলতে শান্তি!
‘ককটেল ২’ ছবিতে ছোট বেলার প্রেম দিয়া (রশ্মিকা মন্দানা) আর নতুন প্রেমিকা অ্যালি(কৃতি সেনন)-র মধ্যে বাছতে গিয়ে গল্পের মূল চরিত্র কুণালকে (শাহিদ কপূর) বলতে শোনা যায়, প্রেম মানে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের দৌরাত্ম্য নয়। যেখানে সব সময়ে কী হয়, কী হয় ভাব। বরং তেমন প্রেমেই বেশি শান্তি, যেখানে সঙ্গীর ছোটখাটো অভ্যাসগুলো রাতে শোয়ার ছেঁড়া টি শার্টের মতোই আলগা ভাবে গায়ে লেগে থেকে শান্তি দেয়। লেবু লজেন্স তত্ত্বের মূল উপজীব্য সেটিই।
এই তত্ত্ব বলে, অনিশ্চয়তা, বাহুল্যের উত্তেজনা কিছু দিনের জন্য হয়তো ভাল লাগবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন সেখানেই শান্তি পাবে, যেখানে পরস্পরের ছোটখাটো বিষয় জানার স্বাচ্ছন্দ্য আছে।