Advertisement
E-Paper

সন্তানের আচরণ দেখে হতভম্ব জাভেদ! নতুন প্রজন্মের পর্দা-আসক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা, কী ভাবে মুক্তি সম্ভব

জাভেদের ধারণা, যেহেতু ছোটরা ক্রমাগত নতুন নতুন বিষয় চোখের সামনে আসতে দেখছে, তাই ক্রমেই তারা অপেক্ষা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২৬ ১৫:৩১
জাভেদ জাফরির অভিভাবকত্ব।

জাভেদ জাফরির অভিভাবকত্ব। ছবি: সংগৃহীত।

“ছেলেকে চুপচাপ বসে আমার সঙ্গে সূর্যাস্ত দেখতে বলেছিলাম। কিন্তু ও পারল না!”— অভিনেতা জাভেদ জাফরির এই অভিজ্ঞতা আজকের অনেক অভিভাবকের পরিচিত সমস্যা। ছোটদের হাতে মোবাইল, ট্যাব বা অন্য পর্দার ব্যবহার এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে কিছুক্ষণ কোনও বিনোদন ছাড়া চুপচাপ বসে থাকা, অপেক্ষা করা বা চারপাশটা খেয়াল করার অভ্যাসও অনেকের মধ্যে কমে যাচ্ছে।

জাভেদের কথায়, ‘‘আমি আমার ছোট ছেলেকে সূর্যাস্ত দেখার জন্য বসতে বলেছিলাম। ১০ মিনিট মাত্র। ওই কয়েক মিনিটও সে স্থির হয়ে থাকতে পারল না।’’ জাভেদ জানাচ্ছেন, তাঁর ছোট সন্তান আব্বাস জাফরি আইপ্যাডের জমানায় বড় হচ্ছে। ওতেই সে কাজকর্ম করে। অভিনেতার ধারণা, যেহেতু ছোটরা ক্রমাগত নতুন নতুন বিষয় চোখের সামনে আসতে দেখছে, তাই ক্রমেই তারা অপেক্ষা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

সারাদিন পর্দায় ডুবে ছোটরা।

সারাদিন পর্দায় ডুবে ছোটরা। ছবি: সংগৃহীত

মোবাইলের পর্দায় একের পর এক নতুন ছবি, শব্দ, ভিডিয়ো এবং তথ্য পাওয়া যায়। ফলে শিশু বা কিশোর-কিশোরীদের খুব বেশিক্ষণ কিছুর জন্যই অপেক্ষা করতে হয় না। একটি ভিডিয়ো শেষ হলেই আর একটি, সেটি শেষ হলে আরও একটি— এই দ্রুত পরিবর্তনের অভ্যাস তৈরি হলে বাস্তব জীবনের ধীরগতির অভিজ্ঞতাগুলি তাদের কাছে বিরক্তিকর বলে মনে হতে পারে। সূর্যাস্ত দেখা, বই পড়া, ছবি আঁকা বা জানলার বাইরেটা দেখতে থাকা— এই কাজগুলিতে তৎক্ষণাৎ নতুন কোনও উদ্দীপনা আসে না। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। এবং সেই অভ্যাস শৈশব থেকেই তৈরি করা উচিত।

মোবাইল কেড়ে নিলেই সব সময়ে সমস্যা মেটে না। হঠাৎ মোবাইল ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে অনেক শিশুই আরও বেশি বিরক্ত বা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বরং ধীরে ধীরে নিয়ম তৈরি করা বেশি কার্যকর। যেমন, খাওয়ার সময়ে মোবাইল নয়, ঘুমের আগে মোবাইল নয় বা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল নয়— এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম করা যায়। নিয়মের সংখ্যা খুব বেশি না রেখে পরিবারের সবাই একই নিয়ম মেনে চললে সন্তানের পক্ষে তা গ্রহণ করা সহজ হয়। শিশুর হাত থেকে মোবাইল তুলে দিয়ে হঠাৎ সেটি সরিয়ে নিলে সমস্যা হতে পারে। কারণ মোবাইলের বিকল্পটিও আকর্ষণীয় হতে হবে। বাড়ির বাইরে হাঁটতে যাওয়া, সাইকেল চালানো, বল খেলা, ছবি আঁকা, গল্পের বই পড়া, রান্নার কাজে শিশুকে সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে। বাড়ির গাছের পরিচর্যার মতো কাজও তাকে দেওয়া যেতে পারে।

শিশু একটু বিরক্ত হলেই তাকে মোবাইল দিয়ে ব্যস্ত করে রাখা সহজ। কিন্তু সব সময়ে একঘেয়েমি দূর করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছুটা অবসর শিশুকে নিজের মতো করে খেলতে, ভাবতে এবং নতুন কিছু তৈরি করতে শেখায়।

Javed Jaffrey Parenting Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy