শিক্ষক মানেই মনে আসে একরাশ শ্রদ্ধা এবং মানুষ হয়ে ওঠার পথে এক পথপ্রদর্শকের ছবি। জীবনে চলার পথে যেমন বাবা-মায়ের ভূমিকা থাকে, তেমনই একজন শিক্ষকেরও সমান ভূমিকা থাকে। তবে ছোট থেকেই খুদেরা যেন শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করতে শেখে, সেই দায়িত্ব কিন্তু অভিভাবকদের।
আপনার সন্তান কি শিক্ষককে ভয় পায়, না কি শ্রদ্ধা করে? পার্থক্যটা কিন্তু বোঝা দরকার। শিশু যদি তার শিক্ষককে ভয় পায়, সে ক্ষেত্রে তাদের পঠনপাঠনেও তার প্রভাব পড়বে। পড়া বুঝতে না পারলেও শিক্ষককে জিজ্ঞেস করতে তারা দ্বিধাবোধ করবে। উল্টো দিকে, শিশুরা যদি শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে, তা হলে একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয়। আর এই শ্রদ্ধার বীজ বুনতে হয় বাড়িতে, ছোটবেলা থেকেই। অভিভাবকেরা কী ভাবে ছোট থেকেই শিশুকে তার শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করতে শেখাবেন?
১. আয়নাটা আপনিই
শিশুরা শোনে কম, দেখে বেশি। আপনি যদি স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে নম্র ভাবে কথা বলেন, সেই সুরটাই ওদের মনে গেঁথে যাবে। আর আপনি যদি বাড়িতে এসে কোনও শিক্ষকের নিন্দা করেন, সেটাও কিন্তু সন্তানের কানে যায়, সে ক্ষেত্রে শিক্ষককে নিয়ে তার মনে খারাপ ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষককে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা খুদের সামনে না করাই ভাল।
আরও পড়ুন:
২. ‘ধন্যবাদ’ বলাটা হোমওয়ার্কের মতোই জরুরি
আমরা খুদেকে শুধু অঙ্ক, ইংরেজি শেখাই। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, কৃতজ্ঞতা জানানো শেখাই না। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরলে জিজ্ঞেস করুন, ‘‘আজ স্যার তোমাকে নতুন কী শেখালেন?’ তার পর তাকে জিজ্ঞেস করুন, ‘‘তুমি কি দিনের শেষে এত নতুন কিছু শেখানোর জন্য স্যারকে ধন্যবাদ বলেছো?’’ এই ছোট্ট অভ্যাসটিই ওকে বিনয়ী করে তুলবে।
৩. 'শিক্ষক' শব্দটার গুরুত্ব বোঝান
ওকে বলুন, মা-বাবা যেমন জীবনের প্রথম শিক্ষক, স্কুলের শিক্ষকেরা তোমাকে বাইরের পৃথিবীর জন্য তৈরি করছেন। তাঁদের জন্যই তুমি নতুন কিছু শিখতে পারছো।
৪. অভিযোগ নয়, আলোচনা করুন
শিক্ষক বকেছেন বলে খুদে আপনার কাছে নালিশ করলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকের দোষ ধরবেন না। জিজ্ঞেস করুন, শিক্ষক তাকে কেন বকেছেন? ওর ভুলটা ওকে ধরিয়ে দিন।
৫. শিক্ষক দিবস শুধু একটা অনুষ্ঠান নয়
শিক্ষক দিবসে দামি উপহার নয়, শিশুকে নিজের হাতে একটা কার্ড বানিয়ে শিক্ষককে দিতে বলুন। তার উপরে লিখতে বলুন ‘‘আমাকে ধৈর্য ধরে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ’’। এমন উপহার পেয়ে শিক্ষকও খুশি হবেন, আর শিশুর মনে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।