Advertisement
E-Paper

শুধু তারকাসন্তান নন, মাধবনের পুত্র সফল সাঁতারুও বটে, বেদান্তকে বড় করায় দু’টি শিক্ষাই ছিল মূলমন্ত্র

অভিনেতা আর মাধবন মনে করেন, সন্তানপালনের ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আর মাধবন তাঁর অভিভাবকত্বের মূলতন্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ১৮:২৯
পুত্র বেদান্তের সঙ্গে মাধবন।

পুত্র বেদান্তের সঙ্গে মাধবন। ছবি: সংগৃহীত।

সন্তানকে বড় করে তোলার সময় সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী হওয়া উচিত? ভাল পড়াশোনা, সাফল্য না কি বড় স্বপ্ন? অভিনেতা আর মাধবনের মতে, এরও আগে প্রয়োজন দু’টি শিক্ষা। কৃতজ্ঞ হতে শেখা এবং পেশা নির্বিশেষে মানুষকে সম্মান করা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আর মাধবন তাঁর অভিভাবকত্বের মূলতন্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন। আজ তাঁর ২০ বছরের পুত্র বেদান্তের জন্য তিনি গর্বিত। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রকে সাতটি পদক এনে দিয়েছেন সাঁতারু বেদান্ত। তাই মাধবনের বিশ্বাস, এই দুই শিক্ষাই মানুষকে প্রকৃত অর্থে বড় করে তোলে।

স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে মাধবন।

স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে মাধবন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম শিক্ষা, কৃতজ্ঞ হতে শেখা

মাধবনের কথায়, ‘‘আমার মতে, প্রতিটি শিশুর মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা দরকার। সেটা তাকে শেখানো দরকার। যদিও আমরা একান্ত মধবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি, ঈশ্বরের আশীর্বাদে আজ আমি সফল। তাই বেদান্ত যা চায়, তাকে আমি তা-ই দিতে পারি। কিন্তু আমি পরে বুঝতে পারি, প্রাচুর্যেরও নানা সমস্যা রয়েছে।’’ তাই তাঁর ছেলে যেন কখনও এই আরামদায়ক জীবনকে স্বাভাবিক বলে ধরে না নেন, সে বিষয়ের দিকে সচেতন ভাবে নজর রাখতেন। ছোট থেকেই তিনি বেদান্তকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের জীবন এক রকমের নয়। অনেকে কঠোর পরিশ্রম করেও খুব সীমিত আয় করেন। তাই যা পাওয়া যায়, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা জরুরি। এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি বাড়ির রাঁধুনির বেতনের কথাও ছেলেকে বলতেন, যাতে সে বুঝতে পারে অর্থ উপার্জনের পিছনে কত পরিশ্রম থাকে। ছেলেকে বলতেন, ‘‘আর তুমি যে খেলনাটি পেয়েছ, তার দাম কত জানো? এই মানুষটিকে হয়তো সারা বছর খেটে ওই টাকার কিছুটা রোজগার করতে হবে।’’ বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিতেন বার বার।

দ্বিতীয় শিক্ষা, সবাইকে সম্মান করা

মাধবনের মতে, একজন মানুষের পরিচয় তাঁর পেশা দিয়ে নয়, তাঁর কাজ এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে তৈরি হয়। সবার প্রতি সম্মান দেখানোর অভ্যাস ছোট থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন। সন্তান যদি অন্যের পরিশ্রমের মূল্য বুঝতে শেখে, তা হলে তার মধ্যে সহানুভূতি এবং দায়িত্ববোধও তৈরি হয়। তাই লিফ্‌টের কর্মী, দারোয়ান, গাড়ির চালক, আয়া প্রত্যেককে ‘দিদি’ ও ‘দাদা’ বলে ডাকার অভ্যাস তৈরি করিয়েছেন তিনি। কার কত রোজগার, কে কী কাজ করেন, তা দিয়ে ভেদাভেদ তৈরি করার বদভ্যাস তৈরি হতে দেননি মাধবন।

কেন এই শিক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ?

শিশুমন খুব দ্রুত অভ্যাস গড়ে তোলে। বাবা-মা যদি শুধু সাফল্যের কথা শেখান, কিন্তু কৃতজ্ঞতা বা বিনয়ের শিক্ষা না দেন, তা হলে বড় হয়ে অনেক সময় বাস্তব জীবনের ওঠাপড়া সামলানো কঠিন হতে পারে। অন্য দিকে ছোট থেকেই যদি পরিশ্রমের মূল্য, অর্থের গুরুত্ব এবং অন্যকে সম্মান করার শিক্ষা দেওয়া যায়, তা হলে অন্যের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, নিজে পরিশ্রম করে রোজগার করার তাগিদ বাড়ায়।

প্রতিটি পরিবারের পরিবেশ, আর্থিক অবস্থা এবং সন্তানকে বড় করে তোলার ধরন আলাদা। কিন্তু তাঁর কথার মূল বার্তাটি খুবই সহজ— সন্তানের সব বায়না পূরণ করার আগে তাকে জীবনের মূল্য বোঝানো আরও বেশি জরুরি।

R Madhavan Parenting Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy