বহু বাড়িতেই একাধিক পোষ্য থাকে। তাদের মধ্যে যেমন খুনসুটি হয়, তেমনই গাঢ় বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে। তবে সেই পথটা শুরু থেকেই মসৃণ হয় না। বিশেষত বাড়িতে নতুন পোষ্য এলে, পুরনো পোষ্যের মনে উদ্বেগ হয়। এতদিন ধরে তার যে একলার রাজত্ব ছিল, তাতে ভাগ বসার ভয় চেপে বসে। ফলে, শুরুতেই যে সে নতুন অতিথিকে আপন করে নিতে পারবে, তা নয়। আবার নতুন ছানাও আকারে বড় এবং দাপুটে সারমেয়কে দেখে ভয়ে কুঁকড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দু’জনের মধ্যে সখ্য তৈরি হবে কী করে?
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশের অম্বেডকরনগরের একটি পশু হাসপাতালের চিকিৎসক দীপরাজ প্রজাপতি বলছেন, এমন ক্ষেত্রে বাড়ির সদস্য হয়ে যাওয়া পুরনো সারমেয়টি উদ্বেগে ভুগতে পারে। মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে তার। খুব বেশি হাঁকডাক না করেই সে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে। আবার কখনও হিংস্রও হয়ে উঠতে পারে।
কী কী মাথায় রাখা প্রয়োজন
· শুরু থেকেই মনে রাখা দরকার, নতুন পোষ্য আসার পর পুরনো পোষ্যের আদরে যেন ঘাটতি না হয়। বরং তাকেও সমান মনোযোগ দিলে, তার উদ্বেগ কমবে। পুরনো সারমেয়র জন্য দৈনন্দিন যা যা রুটিন ছিল, নিয়ম করে তা মানতে হবে। পুরনো পোষ্যের পছন্দের জায়গ কিংবা শোয়ার জায়গা মোটেই এদিক-ওদিক করা যাবে না। পরিবারের সকলের এমন আচরণে ধীরে ধীরে তার উদ্বেগ কাটলে নতুন পোষ্যের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারা যেতে পারে।
· জোর করে সাক্ষাৎ নয়। বরং কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দু’জনকে সামনে আনা দরকার। যাতে বড় জন ছোটটিকে আক্রমণ করতে না পারে। তা ছাড়া, একটু দূর থেকেই দু’জন দু’জনকে দেখবে। গন্ধ চিনবে।
· বড় সারমেয়র শোয়ার জায়গা বা ঘোরাঘুরির জায়গাটি যেন অটুট থাকে। শুরু থেকেই সেখানে সারমেয়শাবককে আনলে, বড় জনের মনে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। মনে হতে পারে তার জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে।
· ধীরে ধীরে তাদের একে অন্যের কাছে আনতে হবে। একজন অপর জনের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। এতে সম্পর্ক সহজ হবে।