Advertisement
E-Paper

অনলাইন গেমে আসক্ত শৈশব, কী বদল আসছে শরীরে ও মনে, ছোটরা জড়াচ্ছে প্রতারণার জালেও

অনলাইন গেমে দিনভর মগ্ন শিশু? গেমের আসক্তি এক দিকে যেমন মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনই সামান্য অসাবধানতায় সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়তে পারে ছোটরা। তাই আগে থেকে কী কী সতর্কতা নিতে হবে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ অগস্ট ২০২৬ ১০:১৪
Trapped in the virtual World, the Physical & Mental Toll of Online Gaming on Kids

ছোটদের সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচাতে কী কী করণীয়? ফাইল চিত্র।

মোবাইলে আসক্তি দিন দিন বাড়ছে ছোটদের। আর মোবাইল হাতে পেলেই গেমে বুঁদ হয়ে যায় ছোটরা। অনলাইন গেমেরও এখন বাড়বাড়ন্ত। নানা ধরনের গেম খুঁজলেই পাওয়া যাবে। আর এইসব গেমের আড়ালেই সক্রিয় থাকে সাইবার অপরাধীরা। অনলাইনে এখন নানা রকম প্রতারণামূলক কাজকর্ম হচ্ছে। ডিজিটাল গেম সাইবার প্রতারণার অন্যতম বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই সন্তান যদি দিনভর অনলাইনে গেম খেলে, তা হলে কিছু বিষয়ে নজর রাখতে হবে বাবা-মাকে।

অনলাইন গেমের প্রভাব শরীরে ও মনে?

অনলাইন গেম শিশুদের মধ্যে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, হাজারখানেক পড়ুয়ার উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়। প্রথমে পড়ুয়াদের অনলাইনে গেম খেলতে দেওয়া হয়। কয়েকজনকে আবার বিভিন্ন ধরনের খেলার সরঞ্জাম দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পরে দেখা যায়, যে শিশুরা অনলাইনে গেমে মগ্ন ছিল, তাদের মাথাব্যথা হওয়া, বিঞ্জ ইটিংয়ের প্রবণতা বেড়েছে। দিনের পর দিন যারা অনলাইন গেম খেলায় অভ্যস্ত হয়েছে, তাদের ওজন বেড়েছে, সেই শিশুদের আলস্য বেড়েছে এবং তাদের কায়িক পরিশ্রম করার ইচ্ছাও কমেছে।

মানসিক দিক থেকেও ক্ষতি হচ্ছে ছোটদের। গবেষণা বলছে, অনলাইন গেমে আসক্তি মস্তিষ্কের ‘ভেন্ট্রাল স্ট্রিয়াটাম’ অংশের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। মগজের এই অংশটি থেকে ‘ডোপামিন’ নামে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয়। ডোপামিনের কাজ হল আনন্দ বা ভাললাগার অনুভূতি দেওয়া। বার বার গেম খেলার সময়ে যদি অতিরিক্ত ডোপামিন ক্ষরিত হতে থাকে, তা হলে তাতে আসক্তি বাড়ে। ঠিক মদের নেশার মতোই। আরও একটি ব্যাপার ঘটছে, তা হল গেমে আসক্ত ছোটদের আচরণে বদল আসছে। তারা ছোট থেকেই একাকিত্বে ভুগতে শুরু করছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে ও সকলের থেকে নিজেকে আলাদা রেখার চেষ্টা করছে। গবেষকেরা বলছেন, গেমের কঠিন স্তরগুলি পার হতে না পারলে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণও বাড়ছে। ফলে অল্পেই রাগ হওয়া, বিরক্তি প্রকাশ, এমনকি আগ্রাসী মনোভাবও দেখা দিচ্ছে ছোটদের।

অনলাইন গেমে প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা

অনেক সময়ে ছোটরা প্রিয় গেমটি ডাউনলোড করে নেয় অনলাইন থেকে। সে ক্ষেত্রে ভাইরাস বা ম্যালঅয়্যার ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অনলাইন গেমিংয়ে চ্যাটে অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা যায়। সেখানে অপরাধমনস্ক ব্যক্তিরা অনেক সময়েই নানা ফাঁদ পাতে। ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা পেরেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপের সাহায্য নিতে পারেন। এর সাহায্যে দেখা যাবে ছোটরা ফোনে কী কী লিখছে, ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট ফিল্টার করা যাবে, সন্তান কার কার সঙ্গে কথা বলছে তা-ও জানা যাবে।

খুদে কোন অ্যাপ ইনস্টল করে গেম খেলছে, তা যাচাই করে নিন। একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকেই গেম ডাউনলোড করতে হবে। এখন নানা ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে সেখানে জমকালো বিজ্ঞাপন দিয়ে গেম খেলতে আকর্ষণ করা হচ্ছে কমবয়সিদের।

সন্তানকে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে গেম খেলতে না দিয়ে সকলের সামনে খেলার অভ্যাস করান। এতে সে কী দেখছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে, তা নজরে থাকবে।

অনলাইন গেমিংয়ে কোনও ভাবে যদি দেখেন, ছোটদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বা সে নিজে এমন ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে বেরোতে পারছে না, ভয় পাচ্ছে, দেরি না করে সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Digital Security Cyber Security Mobile Addiction

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy