হাতে আঁকা ছবির মতোই স্কাল্পচার আর্ট। এ ক্ষেত্রে ছবিটা ত্রিমাত্রিক, ফলে ছবি যেমন গভীরতা পায়, তেমন প্রাণবন্ত লাগে। টেক্সচারড প্লাস্টার দিয়ে তৈরি এই ধরনের ছবির চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। চিত্রশিল্পীদের অনেকেই ফুল-পাতা, পাখির মোটিফ ফুটিয়ে তুলছেন এ ধরনের স্কাল্পচার পেন্টিংয়ে। অনেক সময়ে আবার সরু রেখায় ঢেউ, পাতার ভাঁজ, লতানে ডালপালা তুলে ধরা হয়। অনেকটা বোহো শৈলী বা ওয়াবি সাবি ধারায় ন্যূনতম রেখায় ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। অনেক সময়ে হাইলাইট করার জন্য শিল্পীরা ফুলের রেণু বা তরঙ্গের উপরে গ্লিটারও ব্যবহার করে থাকেন।
ফুল বলে
এই ধরনের আঁকায় ফুলের মোটিফ বেশি দেখা যায়। কারণ টেক্সচার প্লাস্টার দিয়ে এই ধরনের চিত্রকর্মে ফুলের পাপড়ি ফুটিয়ে তোলা যেমন সোজা, তেমনই দেখতেও আসল মনে হয়ে। সূর্যমুখী, গোলাপ, পিওনি, ডেইজ়ি, হাইড্রেঞ্জার মতো ফুলের মোটিফ বেশি দেখা যায়। এই ধরনের আঁকা শুরু করার আগে স্কাল্পচার পেন্টিংয়ের টুলস ও টেক্সচার প্লাস্টার দিয়ে ছোট ছোট পাপড়ি তৈরি অভ্যেস করলে এই ধরনের শিল্প রপ্ত করা সহজ হয়। আবার পাপড়িরও নানা ধরন আছে। যেমন পাপড়ির ডান দিকেও কার্ভ হতে পারে, বাঁ দিকেও। আবার ডাবল ডি পাপড়ি অনেকটা পাতার মতো হবে। এ ছাড়া টিউলিপ লিফ, ডুয়াল কালার বেসের পাপড়িও করা যায়। টেক্সচার ফুটিয়ে তুলতে পাপড়ি তৈরি হয়ে গেলে বিভিন্ন রং দিয়ে শেড তৈরি করে নিতে পারেন। এতে ত্রিমাত্রিক টেক্সচার স্পষ্ট হবে। ফুলের ভিতরের পরাগ বা রেণু তৈরির জন্য আবার আলাদা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এই ভাবে ক্রমশ বড় ফুল, নানা রকম পাখি, বিভিন্ন ধরনের গাছের পাতা ফুটিয়ে তোলার অভ্যাস করতে হবে।
কী ভাবে করবেন
এই ধরনের আঁকায় কিন্তু তুলির ব্যবহার হয় না। বরং তার জায়গায় কিছু টুলস, নানা রকমের ছুরি ব্যবহার করে থাকেন শিল্পীরা। অনলাইন সাইট বা ক্রাফ্টের দোকানে এই শিল্পের কিট বা সামগ্রী কিনতে পেয়ে যাবেন।
- চিত্রকর্ম করার জন্য লাগবে একটি এমডিএফ বোর্ড বা স্ট্রেচড ক্যানভাস। বড় উডেন ক্যানভাস থাকলে তার উপরেও কাজ করে নিতে পারেন। এর উপরে প্রথমে টেক্সচার হোয়াইট দিয়ে বেস তৈরি করে নিতে হবে। বা কোনও অ্যাক্রিলিক রংও ব্যবহার করতে পারেন। আবার ক্যানভাসের বেসে স্টেনসিল দিয়ে ছাপ তুলে নিয়ে তার উপরেও ফুল-পাতা ফুটিয়ে তুলতে পারেন। দেখতে ভাল লাগবে।
- ফুল-পাতা চিত্রকর্ম তৈরির জন্য স্কাল্পচার বেস কিনতে পারেন। আবার প্লাস্টার অব প্যারিস ও আঠা আলাদা কিনে মিশিয়ে বেস তৈরি করে নিতে পারেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন রঙের অ্যাক্রিলিক মিশিয়ে পছন্দসই কালার প্যালেট তৈরি করে নিতে পারেন।
- তুলির মতো ছুরি ব্যবহার হয় এই ধরনের শিল্পকর্মে। তাই নানা ধরনের প্যালেট নাইভসের সেট, সিলিকন শেপিং টুলস, পাইপিং ব্যাগ, নজ়লস, পেন্টব্রাশ... দরকার মতো সামগ্রী কিনে রাখুন। কাজ করতে করতে কোন ধরনের টুলস কী ভাবে ব্যবহার করবেন, তার একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে।
কী কিনবেন বুঝতে না পারলে প্রথম বার আঁকা শুরু জন্য অনলাইনে স্কাল্পচার পেন্টিং কিট কিনে নিন। মণ্ডলা আর্ট বা স্টোন আর্টের মতো একটা কিটের মধ্যেই সব পেয়ে যাবেন। সেটা দিয়ে কাজ শুরু করলে ক্রমশ এই শিল্পকর্ম সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। এই ধরনের ছবির কাজ শেষ হয়ে গেলে ভাল করে শুকিয়ে নিতে হবে। সাধারণত পুরো কাজটা ভাল মতো শুকোতে একদিন সময় লাগে। এর পরে যদি মনে হয় তুলি দিয়ে চিত্রকর্মের উপরে নানা রঙের টাচআপ করে দিতে পারেন। আর সবশেষে স্যাটিন বা ম্যাট অ্যাক্রিলিক ভার্নিশ লাগিয়ে নিতে হবে। এতে ছবি দীর্ঘ দিন ভাল থাকবে।
এই ধরনের শিল্পকর্ম করে সেটা দিয়ে ঘড়ি, নামফলক তৈরি করে নিতে পারেন। আয়নার বর্ডারেও এই ধরনের শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলা যায়। দেখতে ভাল লাগবে। আবার শুধু ওয়াল আর্ট হিসেবেও দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখতে পারেন। আর একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন। এই ধরনের আর্টওয়ার্ক অবশ্যই বাঁধিয়ে রাখবেন। তা হলে দীর্ঘ দিন ভাল থাকবে। আর একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন যে উডেন বোর্ড ব্যবহার করবেন, তার গুণমান যেন ভাল হয়। না হলে সেই বেস যদি নষ্ট হয়ে যায়, পুরো শিল্পটাই নষ্ট হয়ে যাবে।